আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নির্বাচনি হাওয়া নড়াইল-২

আ.লীগ-বিএনপিতে প্রত্যাশী অনেক

আসাদ রহমান, নড়াইল
| শেষ পাতা

নড়াইলে নির্বাচনি আসন দুটি। জাতীয় সংসদীয় আসন : ৯৩, নড়াইল-১ এবং জাতীয় সংসদীয় আসন : ৯৪, নড়াইল-২। এর মধ্যে নড়াইল সদরের একাংশ ও কালিয়া উপজেলা নিয়ে নড়াইল-১ আসন গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন, কালিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন এবং কালিয়া পৌরসভা। নড়াইল-২ আসনটি নড়াইল সদরের একাংশ ও লোহাগড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে সদরের আটটি ইউনিয়ন, লোহাগড়ার ১২টি ইউনিয়ন এবং নড়াইল ও লোহাগড়া পৌরসভা।

নির্বাচনের দিনক্ষণ বা তফসিল ঘোষণা না হলেও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচনি নানা হিসাব-নিকাশের মধ্যেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। দুই জোটের নেতারা নিজ নিজ জোটের মনোনয়ন লাভের আশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ সংসদীয় আসনে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন শুভেচ্ছাসহ জনগণকে অভিনন্দন জানানো পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে নড়াইলের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে। অফিস-আদালত, চায়ের দোকানে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনি হাওয়া। ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন এমন আভাসও রয়েছে।
নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএম আসিফুর রহমান বাপ্পি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সাঈফ হাফিজুর রহমান খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নড়াইল পৌরসভার মেয়র মো. জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সিকদার আবদুল হান্নান রুনু, আওয়ামী লীগ নেতা লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ হাসান ইকবাল, ব্যবসায়ী বাসুদেব ব্যনার্জি, শিল্পপতি শেখ মো. আমিনুর রহমান হিমু, সাবেক এমপি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এসকে আবু বাকের ও হাবিবুর রহমান তাপস। এছাড়া ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, জেলা জাতীয় পার্টির (এ) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, জেলা জাসদের (আম্বিয়া) সভাপতি অ্যাডভোকেট হেমায়েতুল্লাহ হিরু, জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম। জানা গেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
বিগত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ না করলেও এবার জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অনেকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এরা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের সিকদার, নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ম-ল, জেলা বিএনপির বর্তমান সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার, বিএনপি নেতা মেজর (অব.) মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্স। এনপিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এ আসন থেকে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। 
নড়াইল-২ আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই জয়ী হয়ে আসছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস স্বতন্ত্র  প্রাথী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। নড়াইলে দুটি আসন থেকে ২০০১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তারপর আর কোনো মন্ত্রী বা প্রভাবশালী দলীয় প্রধান অথবা অতিপরিচিত রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। তবে এ বছর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন এমন আভাস রয়েছে। সব মিলিয়ে নড়াইল-২ আসনে নির্বাচনি হাওয়া জমতে শুরু করেছে।