আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

‘আরও কাজ বাকি আছে’

| খেলা

সাত বছর আগে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা এলেও ডেনমার্ক ফিরে যেতে হয়েছিল প্রবাসী জামাল ভুইয়াকে; সময়স্রোতে স্বীয় নৈপুণ্যে সে জামালের হাতে আজ জাতীয় দলের আর্মব্যান্ড, নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশকে, জাতীয় দল ও অলিম্পিক দল মিলিয়ে খেলেছেন ৪২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যে বিদেশি কোচই দায়িত্ব নিয়েছেন, তার পরিকল্পনায় ছিলেন জামাল। ভুটান ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ঘরের মাঠে সাফের সেমিফাইনালের দ্বোরগোড়ায় বাংলাদেশ, ১৩ বছর পর সাফে টানা দুই ম্যাচ জিতল। ৯ বছর পর সাফে শেষ চার খেলতে হলে আজ নেপাল পরীক্ষা উৎরাতে হবে। অসম্ভব নাÑ বিশ্বাস করেন ঘরোয়া ফুটবলে শেখ জামাল, শেখ রাসেল ঘুরে দুই মৌসুম ধরে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে খেলা জামাল। আলোকিত বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক কলিমের সঙ্গে জামাল একান্তে জানালেন দল ও টুর্নামেন্টের নানা দিক।

প্রশ্ন : পাকিস্তানের ব্রাজিলিয়ান কোচ হোসে অ্যান্তনিও নুগেইরা বলেছেন, জামাল সুপার স্টার। সে-ই ম্যাচসেরা, ম্যাচের চাবি ছিল তার হাতেই...।
জামাল ভূইয়া : হা হা হা... বেশি বলেছে। দেশের মাটিতে খেলা, অনেকদিন পর আমরা ভালো খেলছি। মাঠে সমর্থক আসছেন, সবাই ভালো কিছু প্রত্যাশা করছেন। জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ভালো করায় সবার প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। আমি নিজের সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন : সুপারস্টার তকমা কি নিচ্ছেন?
জামাল ভূইয়া : আমি সুপারস্টার না, দলের আট-দশজন ফুটবলারের মতোই। দলে অন্য সবাই যা, আমিও তা। নিজের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। শুধু আমি না, দলের সবাই চেষ্টা করছে। এটা এ দলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।
 প্রশ্ন : টানা দুই ম্যাচ জিতে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালের দ্বোরগোড়ায়। কেমন লাগছে?
জামাল ভূইয়া : গত তিন সাফে আমরা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছি; তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফুটবল কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। দেশের ফুটবলের জন্য এমন ভালো কিছু খুব জরুরি ছিল। এশিয়ান গেমস থেকে যেটা হচ্ছে। দুই ম্যাচ জিতেই সব অর্জন হয়ে যায়নি, আরও অনেক দূর যেতে হবে।
 প্রশ্ন : কিন্তু এখনও তো সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়নি, বরং বাদ পড়ার শঙ্কার সমীকরণের মারপ্যাঁচ আছে।
জামাল ভূইয়া : আমাদের প্রথম লক্ষ্য সেমিফাইনাল খেলা, এরপর ফাইনাল। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলছি, ভুটানের পর পাকিস্তানকে হারিয়েছি। আমাদের ভাবনায় এখন নেপাল ম্যাচ। ড্র হলেও আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হব, নেপালিদের হারিয়েই শেষ চার খেলতে চাই।
প্রশ্ন : প্রতিপক্ষ হিসেবে নেপালকে কেমন দেখলেন?
জামাল ভূইয়া : ওরা ভালো দল, তরুণ ফুটবলারদের আধিক্য। দ্রুতগতির ফুটবল খেলে, যেটা আমরাও খেলছি। বলা যায় গতির সঙ্গে গতির যুদ্ধ হবে। তবে এ ম্যাচে আমরা এগিয়ে থেকে শুরু করতে পারব; নিজেদের মাঠ-সমর্থক সবাই পরিচিত। ফুটবলে সমর্থক বড় একটা ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন : এ দলের সবচেয়ে ভালো দিক কোনটা?
জামাল ভূইয়া : মানসিকতা। এদের মধ্যে ভালো করার তাড়না কাজ করছে। নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শেষ মিনিট পর্যন্ত ফাইট করে, প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র জায়গা দিতে চায় না।
প্রশ্ন : রক্ষণ দেয়ালে কিছুটা দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে; যে ফাঁক গলে ভুটান ও পাকিস্তান ম্যাচে দুইবার গোল হজমের উপক্রম হয়েছিল।
জামাল ভূইয়া : এটা ঠিক রক্ষণে কিছুটা ঘাটতি আছে। প্রায়ই ছোট ছোট ভুল হচ্ছে। তবে এটা আমরা যারা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে কভার করে ফেলতে পারি। কিন্তু ভয় হলো চূড়ান্ত পরিণতি না হয়।
প্রশ্ন : অনেক দিন পর মামুনুল একাদশে আপনার পাশে খেলল পাকিস্তান ম্যাচে। তাকে খেলানো নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে।
জামাল ভূইয়া : এ ধরনের বড় ম্যাচে মামুনুলের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার প্রয়োজন। খুব ভালো খেলেছে, নিচ থেকে যেভাবে রাশ করেছে, প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, নতুন কেউ হলে হয়তো পারত না। তবে ফাহাদের চোট না থাকলে কোচ হয়তো তাকে খেলাত না। জানি না পরের ম্যাচে খেলাবে কিনা, এটা পুরোপুরি কোচের সিদ্ধান্ত।
 প্রশ্ন : ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭Ñ টানা তিনটি সাফ খেলছেন। কোন দলটিকে এগিয়ে রাখবেন?
জামাল ভূইয়া : তিন দল তিন রকম। ২০১৩ কাঠমান্ডু সাফের আগে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে পারিনি, তবে দলটা ছিল অভিজ্ঞ। ক্রুইফ (ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ) চেষ্টা করেছেন গুছিয়ে খেলাতে। কিন্তু ভাগ্য পক্ষে ছিল না। নেপালের কাছে হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভারত ম্যাচটা ড্র হওয়ার পর সব শেষ হয়। কেরালা সাফেও প্রায় একই দল খেলেছে। তারপরও কেন জানি হয়নি। আর এ দল অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের সমন্বয়ে।
প্রশ্ন : শোনা যায়, আপনি নাকি সতীর্থদের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলেন না; ফলে মাঠের মধ্যেও দেখা যায় কারও কারও সঙ্গে মনোমালিন্য হয়।
জামাল ভূইয়া : আসলে ম্যাচের বাইরে খুব বেশি কথা বলার থাকে না, আমি এখনও এদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তারপরও চেষ্টা করি যতটা সম্ভব সবার সঙ্গে মিশতে। তাতে দলীয় বোঝাপড়াটা ভালো হয়।
প্রশ্ন : এ পর্যন্ত দেখে টুর্নামেন্টে কাকে ফেভারিট মনে হচ্ছে?
জামাল ভুইয়া : বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল। তবে বাংলাদেশের পর নেপালকে বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে, ওদের তরুণরা গতিনির্ভর ফুটবল খেলছে। ভারত ইউরোপিয়ান ফুটবল খেলছে।