আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

‘ভারত ও বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক তফাৎ’

| খেলা

২ বছর আগে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শ্রীলঙ্কাকে দুইবার হারিয়ে আলোচনায় আসে ভুটান; বিশ্ব ফুটবল র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৭০ এর নিচে চলে আসে। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত সাফে ভালো করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা এসেছিল, ফিরছে শূন্য হাতে; ভারতের সুনীল ছেত্রী ও মালদ্বীপের আলী আশফাক না আসায় দ্বাদশ সাফের তারকা ভুটানের চেনচো জেইলশেন! ৭০ লাখ রুপিতে পাঞ্জাব মিনার্ভা থেকে ব্যাঙ্গালুরু এফসিতে যোগ দিয়েছেন দেশের একমাত্র পেশাদার ফুটবলার। প্রতিভাবান বলেই ২০১৫-১৬ মৌসুমে ১২ হাজার ডলারে চট্টগ্রাম আবাহনী এনেছিল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ ও এএফসি কাপ বাছাইয়ে শেখ রাসেলের বিপক্ষে জোড়া গোল করা স্ট্রাইকারকে। বয়স ২১; এর মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা, খেলেছেন থাইল্যান্ডেও; নেপাল যাননি পরীক্ষা থাকায়, স্বপ্ন দেখেন ইউরোপে খেলার। টিম হোটেলে সিজি-সেভেন চেনচো আলোকিত বাংলাদেশ’র সিনিয়র রিপোর্টার শফিক কলিমকে জানালেন টুর্নামেন্ট ও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নানা বিষয়।

প্রশ্ন : টুর্নামেন্ট শুরুতে বলেছিলেন সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্নের কথা; কিন্তু ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে।

চেনচো : কিচ্ছু করার নেই। বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছি সমর্থকদের কাছে। আমাদের দলের প্রায় সবাই নতুন; এত দর্শকের সামনে খেলেনি কেউ, তাই হয়তো ভড়কে গেছে। আমরা খারাপ খেলিনি; ভালো কিছু সুযোগ পেয়েছি, কাজে লাগাতে পারিনি। খেলাটা অন্য কোথাও হলে আমরাই জিততাম। নেপাল ম্যাচে সর্বনাশ যা হয়েছে লালকার্ড দেখার পর; বাকি ১০ মিনিটে ৩ গোল। প্রভাব পড়েছে পাকিস্তান ম্যাচে। ফলে শেষটাও ভালো হয়নি।

প্রশ্ন : এ আসরে কোন দলকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল মনে হচ্ছে?

চেনচো : সব দেশের খেলা দেখিনি। পাকিস্তানকে মনে হয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা দল। ওদের শক্তি ইউরোপে খেলা চার ফুটবলার। ইউরোপিয়ান স্টাইলে খেলে। নেপাল খুব গতিশীল ফুটবল খেলে; বেশ কয়েকজন ভালো ফুটবলার আছে। বাংলাদেশ স্বাগতিক হিসেবে খুব ভালো খেলেছে। বিশেষ করে তরুণরা দ্রুত প্রতি আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে বিব্রত করতে দারুণ দক্ষ মনে হয়েছে। ভারত ধীরে ধীরে ইউরোপিয়ান ছকে ঢুকে যাচ্ছে; যতদিন দেখছি, ওরা এখন সাফ না এশিয়া নিয়ে ভাবছে। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ দল সম্পর্কে ধারণা নেই।

প্রশ্ন : আপনার ভুটান দল?

চেনচো : এটা নতুন দল। নতুন কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে নিজের মতো দল করেছেন। এ দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হাতেগোনা; এ দলটা সম্পর্কে খুব বেশি জানি না; দেশে দলের সঙ্গে অনুশীলনও করতে পারিনি। সরাসরি ভারত থেকে ঢাকা এসে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছি।

প্রশ্ন : ২০১৫, ২০১৭ সাফ ও ২০১৬ এশিয়ান কাপ প্রি-প্লেঅফÑ তিন দেখায় কোন বাংলাদেশ দলটি সেরা?

চেনচো : ২০১৫ কেরালা; আমরা ৩-০ গোলে হেরেছিলাম। সে দলে অভিজ্ঞ ফুটবলার ছিল বেশি, গোছানো মনে হয়েছিল;  কেন যে পারল না। এবার দেখলাম সিনিয়রদের সঙ্গে তারুণ্যের সমন্বয়। তরুণরা বেশ দ্রুত গতির ফুটবল খেলছে; তরুণদের আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এশিয়ান কাপের প্রি-প্লেঅফ ম্যাচের আগে দারুণ উজ্জীবিত ছিলাম। ঢাকায় গোলশূন্য ড্র করায় থিম্পুতে জয়ের বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম; ফলে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়েছি; যেটা এবার বাংলাদেশ আমাদের বিপক্ষে নিল।

প্রশ্ন : ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশ- তিন দেশে ঘরোয়া ফুটবল খেলেছেন; কোন দেশি ফুটবলকে এগিয়ে রাখবেন?

চেনচো : নিঃসন্দেহে ভারতের আইএসএল; শতভাগ পেশাদার। ভালো মানের বিদেশি খেলে, তাদের সঙ্গে খেলে স্থানীয়দের স্কিল বাড়ে। সব ক্লাবের একাডেমি আছে, ফলে ভারতে প্রতি বছর নতুন নতুন ভালো খেলোয়াড় তৈরি হয়। বাংলাদেশে শারীরিক শক্তিনির্ভর আফ্রিকান ফুটবলারদের আধিক্য দেখেছি। প্রায় সব দল বিদেশি স্ট্রাইকার খেলায়, এর প্রভাব তো জাতীয় দলে পড়ার কথা।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ফুটবল?

চেনচো : ভালো; কিন্তু এখানে খেলা খুব কঠিন। খেলোয়াড়দের সমস্যা মানসিক। কারও শ্রদ্ধাবোধ নেই, ভালো খেলার চেষ্টা করলে আঘাত করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে; লাথি মারে, ল্যাং মারে, বল ছাড়া গায়ের ওপর এসে ধাক্কা মারে। ফুটবল শিক্ষায় জোর দিতে হবে, ফেয়ার প্লে শেখাতে হবে। ভুটানে এটা ভাবা যায় না। ২ বছর ধরে খেলছি ভারতেও এটা দেখিনি। ভারত ও বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক তফাৎ। তীরন্দাজি ভুটানের জাতীয় খেলা হলেও ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে ২ বছর আগে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে হারানোয় শিক্ষিত ও অভিজাত পরিবারের পাশাপাশি তৃণমূলে চর্চা বেড়েছে। আর্থিক নিরাপত্তা না থাকলে কে খেলবে? যতদিন খেলাটা পেশা হিসেবে নেওয়া যাবে না, ততদিন উন্নতি হবে না।

প্রশ্ন : শোনা যায় ভুটান ফুটবল ফেডারেশন একাধিক ফুটবল একাডেমি চালায়?

চেনচো : না, গোটা ভুটানে ফুটবল একাডেমিই একটা চালায় ফেডারেশন। উগেইন একাডেমি নামে যা আছে, সেটা আসলে হাই স্কুল; পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।