আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

চবিতে দুই বছরেই বিবর্ণ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি

চবি প্রতিনিধি
| নগর মহানগর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দেওয়ালে স্থাপিত টাইলস বাঁধানো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি দুই বছরের মাথায় রং উঠে বিবর্ণ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের অযতœ, অবহেলা ও নিম্নমানের টাইলস ব্যবহারে এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিকৃতিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নাম থাকা সত্ত্বেও প্রতিকৃতি নির্মাণের বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনের প্রতিকৃতিটির টাইলসের রং উঠে বিবর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিকৃতির নিচে লেখা আছে সৌজন্যে : বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রতিকৃতির পাশেই লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার। অনেকে সেখানে বসে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি ধূমপান করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। 
বিশ্ববিদ্যালয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, তরুণ শিক্ষার্থীদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত করতে এবং  বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে ২০১৬ সালের এপ্রিলে দেওয়ালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। প্রায় দুই মাস পর নিজস্ব অর্থায়নে ছবি লাগানোর কাজ শেষ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম বলেন, চবি রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির এই করুণ দশা চবির জন্য খুবই লজ্জার বিষয়। জাতির জনকের প্রতিকৃতি নির্মাণে এত অবহেলা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। চবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মাণে নান্দনিকতা ও শিল্পমান বিচারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আরও বেশি সচেতন থাকা জরুরি ছিল। 
লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদা নূর নিশিতা বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুধু বঙ্গবন্ধুর  প্রতিকৃতি নির্মাণ করেই দায় সেরে নিয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাছাড়া টাইলসের মানও খুব নিম্ন। না হলে মাত্র দুই বছরের মাথায় কীভাবে তা রং উঠে ফ্যাকাশে হয়ে যায়? 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিইএন-১) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিকৃতিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেনি। এটা রেলওয়ের জায়গা তবে প্রতিকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, প্রতিকৃতিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে। সব দায়দায়িত্ব তাদের।