আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শাহজালালে নতুন মাদক এনপিএসের চালান আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভবনের ফরেইন পোস্ট অফিস থেকে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে আসা গাঁজা বা গ্রিন টি সাদৃশ্য নতুন ধরনের ১৬০ কেজি মাদক পণ্য আটক করা হয়েছে। ৯টি কার্টনে করে আনা ‘নিউ সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস (এনপিএস) নামে এ মাদক শনিবার আটক করেন ঢাকা কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তারা। এ সময় অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাঁজার মতো দেখতে মাদক এনপিএস আসক্তি শারীরিক বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ায়। এর আগে ৩১ আগস্টেও শাহজালাল বিমানবন্দরে একই ধরনের আরেকটি মাদক পণ্যের চোরাচালান আটক করা হয়েছিল, যার ওজন ছিল ৪৬০ কেজি।
ঢাকা কাস্টমস হাউজের উপকমিশনার অথেলো চৌধুরী জানান, ৬ সেপ্টেম্বর জেট এয়ারওয়েজের ৯-ডব্লিউ ২৭৬ ফ্লাইটে ওই ৯টি কার্টন আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টম হাউজের একটি দল এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) সহযোগিতায় কার্টনগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময় বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে কার্টনগুলো খোলা হলে এর ভেতরে গ্রিন টির মতো দেখতে মাদক পণ্যগুলো আটক করা হয়। এগুলো মূলত ইথিওপীয় গাঁজা তথা এনপিএস। 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এনপিএস নামে এ মাদক চিবিয়ে বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে অনেকটা চায়ের মতো সেবন করা হয়। সেবনের পর মানবদেহে কিছুটা ইয়াবার মতো প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এছাড়া কিছু ভিন্ন ধরনের উত্তেজনাও সৃষ্টি করে। এটি বাংলাদেশে আনা নতুন এক ধরনের মাদক। এ পণ্যটির ব্যবহার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, এনপিএস নামে ওই মাদক গ্রহণের পর ইয়াবার মতোই ক্লান্তি না আসা, ঘুম না হওয়াসহ শারীরিক বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এনপিএস আসক্ত ব্যক্তি মানসিক বৈকল্যে ভোগেন। আসক্তরা নিজেকে নিঃসঙ্গ ভাবাসহ কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলেন। এনপিএস আসক্তরা বেঁচে থাকা অপ্রয়োজনীয় মনে করে এক সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
ঢাকা কাস্টমস হাউজের উপকমিশনার অথেলো চৌধুরী জানান, এনপিএস মাদকের কার্টনের রপ্তানিকারক ইথিওপিয়ার জিয়াদ মুহাম্মদ ইউসুফ। আমদানিকারক ঢাকার তুরাগের ডি-ব্লকের বাদলদী এলাকার একটি বাড়ির নম্বর ব্যবহার করা ‘এশা এন্টারপ্রাইজ’। মাদকের পণ্য চালানটির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।