আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা : কাদের

আ.লীগের নির্বাচনি ট্রেন ঘুরল উত্তরাঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

টাঙ্গাইল রেলস্টেশনে পথসভায় শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন -আলোকিত বাংলাদেশ

সরকারের উন্নয়ন কাজের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে শক্তিশালী করতে দেশের উত্তরাঞ্চলে ট্রেন সফরের আয়োজন করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। মূলত এর মাধ্যমেই শুরু হলো আওয়ামী লীগের নির্বাচনি সফর। শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হয়। ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার শান্তাহার, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভা করা হয়। এসব পথসভা রীতিমতো নির্বাচনি জনসভায় রূপ নেয়। প্রতিটি স্থানেই ছিল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বর্তমান এমপি এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্লাটফর্মের পাশে ছোট পথসভার আয়োজন করা হলেও আশপাশ এলাকা লোকে লোকারণ্য ছিল। এ সময় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতার নামে সেøাগান দেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নির্বাচনি এ ট্রেন সফরে ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
পথসভায় ওবায়দুল কাদের উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনতার উদ্দেশে বলেন, চারদিকে নৌকার গণজোয়ার দেখছি। পথসভাগুলো রীতিমতো জনসভায় রূপ নিয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি হয়। সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যায়। বিশ্বের বুকে মর্যাদা বাড়ে। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই দেশের অর্থ লুটপাট করে নিজেদের ভোগ বিলাস। বিদেশে পাচার। রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদ ঘটানো। কাজেই সামনে সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সে কারণে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল করবেন না। যিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করে নৌকা মার্কার বিজয় ঘরে তুলব। বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে পরাজিত হয়ে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
টাঙ্গাইল রেল স্টেশনের পথসভায় দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই শোকজ যাবে। দিনাজপুর, রাজশাহী, বরগুনা ও সিলেট যাবে। তিনি বলেন, ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবির পরিপেক্ষিতে সেতুমন্ত্রী বলেন, একটু অপেক্ষা করুণ। ঢাকা-টাঙ্গাইল অফিসগামী ট্রেনও চালু হবে। এ সময় সবার উদ্দেশে জানতে চানÑ প্রধানমন্ত্রী তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন কিনা? সবাই হাত তুলে বলেন, হ্যাঁ করেছেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
উত্তরাঞ্চলমুখী ট্রেনযাত্রায় পাবনার ঈশ্বরদীর মূলাডুলি রেল স্টেশনে আয়োজিত পথসভায় বিগত নির্বাচনের মতো যদি আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরেও বিএনপি-জামায়াত নাশকতার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে। পথসভায় সমবেত জনতার উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি-জামায়াত নাশকতা করে, তাহলে তা আপনারা প্রতিহত করবেন? সমবেত জনতা তখন হাত তুলে সমস্বরে বলেনÑ আমরা প্রতিহত করব। এরপর কাদের বলেন, তাহলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।
পথসভায় নাটোর রেলস্টেশনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোরের জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভুল না করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার মতো কোনো কারণ কি তারা দেখাতে পারবেন? দেশে উন্নয়ন অগ্রগতির এমন কী আছে, যা দেখে বিএনপিকে মানুষ ভোট দেবে। তাদের (বিএনপির) নেতিবাচক রাজনীতিতে তাদের জনপ্রিয়তা তিলে তিলে কমে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন আর অগ্রগতির দিকে আপনারা তাকান। আমি আপনাদের বলতে চাইÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছেন, থাকবেন। আমি আশা করি, নাটোরের বনলতাসেন নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভুল করবে না। বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, আমাদের নাকি ভোট কমেছে। আপনাদের নেতিবাচক রাজনীতিতে ভোট আপনাদের কমেছে। এ নাটোরে আজকে দেখেন কী অবস্থা, আসছি পথসভা করতে হয়ে গেছে জনসভা। এ সময় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যার পক্ষে নাটোরের জনগণ আছে, যাকে নাটোরের জনগণ ভালোবাসে, যাকে পছন্দ করে মনোনয়ন তিনিই পাবেন। ৬ মাস অন্তর অন্তর পাঁচটি করে রিপোর্ট জমা পড়েছে। জনমত যার পক্ষে আমরা তাকেই মনোনয়ন দেব। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির কথা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্যও রাস্তায় নামতে পারেনি। ভেবেছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সাগরের উত্তাল নামবে, কিন্তু কী দেখলাম নদীর রিপলও (ঢেউ) হলো না। বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙে জোয়ার আর আসে না, আসবে না।
বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও জয়পুরহাট স্টেশনে পৃথক পথসভায় কাদের বলেন, দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কেউ নিরাপদ থাকবে না। নৌকার পালে সুবাতাস বইছে। তিনি সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। যারা অপকর্ম করেছেন, জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, তাদের মনোয়ন দেওয়া হবে না। মনোনয়ন পেতে হলে জনগণের মন জয় করতে হবে। 
নির্বাচনি এ ট্রেন যাত্রার শুরুতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের উন্নয়ন কাজ তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে শক্তিশালী করতেই উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের ট্রেন সফর। তিনি বলেন, দেশব্যাপী দলকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে নৌ ও সড়ক পথেও সফর করা হবে। তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতির বিষয়ে সচেতন হয়, সে বিষয়ে দলের এ সাংগঠিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ যাত্রা আমাদের নির্বাচনি যাত্রা। এ যাত্রা অব্যাহত থাকবে। ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনি সফর করব আমরা। এরপর বাই রোডে আমাদের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমাদের এ নির্বাচনি সফর। এ সফরের মাধ্যমে আমরা তৃণমূলের কিছু বার্তা দিতে চাই। কাদের বলেন, সামনে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে। আমাদের এ যাত্রা তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে।