আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

চূড়ান্ত আন্দোলনের কৌশল ঠিক করছে বিএনপি

শীর্ষ নেতাদের সিরিজ বৈঠক শুরু আজ; চলছে জাতীয় ঐক্য গড়ার কাজ

রকীবুল হক
| প্রথম পাতা

খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসা এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে শিগগিরই চূড়ান্ত আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি। এজন্য কর্মকৌশল ঠিক করতে ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপির সর্বস্তরের নেতাদের মতামত নিচ্ছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে আজ থেকে তিন দিন সিরিজ বৈঠক করবেন বিএনপি নেতারা। আজ প্রথম দিনে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে, সোমবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং মঙ্গলবার দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ার কাজও অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের করণীয় ঠিক করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেওয়া শুরু করে বিএনপি। প্রথমে ২২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লী এবং দ্বিতীয় দফায় ৩ ও ৪ আগস্ট তৃণমূল তথা ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে তাদের মতামত গ্রহণ করে বিএনপি হাইকমান্ড। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও সিরিজ বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, আজ সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের চলমান পরিস্থিতি, জোটের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং কারাবন্দি জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।  

সূত্র মতে, জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন সোমবার একই স্থানে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখানে তাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ‘আজকের বৈঠকের বিষয়বস্তু আমাদের জানানো হয়নি। সেখানে গেলেই তা জানা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের চেয়ারপারসনের মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এতেও যদি কোনো সমাধান না হয়, সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে, তাহলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। তবে কী গতিতে বা কখন এ আন্দোলন হবেÑ তা সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা এবং সরকারের কর্মকা- দেখে ঠিক করা হবে।’ 

বিএনপির সিরিজ বৈঠকের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বসবেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ বিষয়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবদুল হাই শিকদার জানান, বিএনপির সামনে এখন প্রধান এজেন্ডা হলোÑ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসা। তিনি নিজেও তার চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এসব বিষয়ে করণীয় ও কর্মসূচি ঠিক করতে ওয়ার্কআপ-মতবিনিময় করছে বিএনপি। তিনি বলেন, বিএনপি এখনও আন্দোলনে আছে। কয়েক দিনে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, সরকার চরম ভীত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সর্বশেষ মনোভাব দেখে অক্টোবরের শুরুতে বা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এজন্য দলকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী সব দলকে নিয়ে প্রক্রিয়াধীন জাতীয় ঐক্য গঠনের কাজে ব্যস্ত দলটি। আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি এগোচ্ছে। এ বিষয়ে শনিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিময় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রক্রিয়া চলছে, আমরা বিশ্বাস করি এটাতে আমরা সফল হব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, অতি দ্রুত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমগ্র জাতি এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে জাতিকে মুক্ত করার জন্য, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করবে।’ 
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে ছাড় দিতে বিএনপি প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, গ্রেটার ইউনিটি কখনোই হবে না, যদি না আমরা কিছু না কিছু ত্যাগ স্বীকার করি। ওই সব ছাড় দিয়ে আমাদের আজকে একটা না একটা জায়গায় আসতে হবে। আমরা সে চেষ্টাই করছি। গোটা দেশ এটাই চায়। অন্যান্য যারা আছেন, তারাও বোঝেন; এটা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই।’