আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সেরেনাকে হারিয়ে ওসাকার ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক
| খেলা

মহিলা এককে ২৩টি গ্র্যান্ডসø্যাম জিতে এরই মধ্যে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। সেরেনার প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম জয়ের সময় মাত্র ১ বছর বয়সি ছিলেন নাওমি ওসাকা। টেনিসে হাতেখড়ি নিয়ে পুরোদস্তুর টেনিস খেলুড়ে হয়েছেন। ২০১৬ ফ্রেঞ্চ ওপেন দিয়ে শুরু তার। সর্বোচ্চ সাফল্য দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠা। কোনোবারই কোনো গ্র্যান্ডসø্যামের কোয়ার্টারে পা রাখা হয়নি নাওমির। সেই নাওমি এবারের ইউএস ওপেনে প্রথম জাপানি তরুণী হিসেবে পা রাখেন সেমিফাইনালে। সেখান থেকে আবারও ইতিহাস গড়ে ফাইনালে। শিরোপা নির্ধারণীতে তার প্রতিপক্ষ সেরেনা। যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়া নাওমি এ সেরেনাকেই নিজের আইডল মানেন। নিজের আইডলের সঙ্গে ফাইনাল খেলতে পারাকেই সৌভাগ্যের বলেছিলেন নাওমি। অথচ ফাইনালে সেরেনাকে হারিয়েই ইতিহাসকে সোনার হরফে নতুন করে লিপিবদ্ধ করেন। প্রথম জাপানি হিসেবে গ্র্যন্ডসø্যাম জয়ের আনন্দ যুক্ত হয় নাওমির অর্জনে। নিজের প্রথম শিরোপার দিনে সেরেনাকে হারিয়েছেন ৬-২, ৬-৪ গেমে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৪টি গ্র্যান্ডসø্যামজয়ী মার্গারেট কোর্টকে ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকা সেরেনাকেই আরও একবার ইউএস ওপেনের ট্রফি হাতে দেখার অপেক্ষায় ছিল সবাই। কিন্তু হিসাব পাল্টে একেবারেই চমকে দিয়েছেন নাওমি। সেরেনাকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না দিয়ে শিরোপা জিতে নেন তিনি। 
সেরেনার রুদ্রমূর্তি
কোর্টের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হলেও ফাইনালে উত্তাপ ছড়িয়েছে চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস রামোসের সঙ্গে সেরেনার লড়াই। প্রথম সেট চলাকালে সেরেনার কোচ গ্যালারি থেকে শিষ্যকে ইশারায় কোনো নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ডব্লিউটিএ ট্যুরে এমন সুযোগ থাকলেও গ্র্যান্ডসø্যামে কোচদের এভাবে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেওয়ার নিয়ম নেই। এজন্য মার্কিন তারকাকে সতর্ক করেন রামোস। এতেই ঘটনার শুরু। নিয়মবহির্ভূত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগকে নিজের জন্য অবমাননাকর দাবি করে রামোসের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সেরেনা।
দ্বিতীয় সেটে ৩-২ এ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় হতাশায় কোর্টেই নিজের র‌্যাকেট ভেঙে ফেলেন ৩৬ বছর বয়সি সেরেনা। এতে তাকে পয়েন্ট পেনাল্টি করেন রামোস। পয়েন্ট হারিয়ে ক্ষুব্ধ সেরেনা তাকে ‘চোর’ বলে উল্লেখ করেন। পর্তুগিজ আম্পায়ারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি একজন মিথ্যাবাদী। আমি কোনো অন্যায় করিনি। আপনি আর আমার ম্যাচে আম্পায়ার থাকবেন না।’ পরে তৃতীয়বারের মতো সেরেনার বিরুদ্ধে একটি গেম পেনাল্টি করেন রামোস। পুরো সময় গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ২৪ হাজার দর্শক আম্পায়ার রামোসকে দুয়ো দিতে থাকেন। ম্যাচ শেষে আম্পায়ারের বিরুদ্ধে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অভিযোগ আনেন সেরেনা।