আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন

সীমান্তে হত্যাকান্ড ন্ধে অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হোক

| সম্পাদকীয়

প্রায় এক দশকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এ সময় দুই দেশ যেসব বিষয়ে চুক্তি করেছে, তা একটি সময়ে অনেকে ভাবতেও পারেননি। এ সময়ের মধ্যে ভারতে সরকার বদল হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রয়েছে। বরং তা ক্রমেই আরও জোরালো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সফলভাবে শেষ হলো মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৪৭তম সীমান্ত সম্মেলন। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, নয়াদিল্লিতে ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ সীমান্ত সম্মেলন শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। সম্মেলনে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন (জেআরডি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের অনুসন্ধান ও মানব পাচার রোধসহ আট থেকে ৯টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে একসঙ্গে কাজ করার যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 
উল্লেখ্য, গেল এক দশকে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সফল চুক্তি সম্পন্ন হলেও সীমান্তে বিএসএফের দ্বারা বাংলাদেশের মানুষ হত্যা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। দেখা গেছে, শুধু সীমান্ত অতিক্রম নয়, জিরো লাইনের কাছে ভুলক্রমে চলে যাওয়ার কারণেও বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হত্যার শিকার হওয়ায় অনেক পরিবার সর্বস্বান্তও হয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের আলাপ-আলোচনার বরাবরই ছিল একই চিত্রÑ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, উদ্বেগ, আশ্বাস। সীমান্ত-হত্যা বন্ধ হবে কবেÑ এটাই ছিল প্রশ্ন। এ অবস্থায় সীমান্ত-হত্যা বন্ধসহ আরও ৯টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়ে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে দুই প্রতিবেশী দেশের জন্য সুসংবাদ। 
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, এর রয়েছে জোরালো ঐতিহাসিক ভিত্তি। পারস্পরিক স্বার্থ ও শ্রদ্ধাবোধের দিকটিতে গুরুত্ব দিলে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে এবং তা করতে হবে শান্তি ও সৌহার্দ্যরে মাধ্যমে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুই দেশের উন্নয়ন এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের জন্য রাজনৈতিক সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, পারস্পরিক অর্জন থেকে দুই দেশই যেন সমানভাবে উপকৃত হয়। সীমান্তে হত্যা বন্ধ হওয়াসহ দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন ৫৪ নদীর পানি বিভাজন নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে অচিরেই তার যথাযথ সমাধান হবে এবং ফারাক্কা চুক্তিসহ সব পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী দ্রুতই বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যা পাবেÑ এটাই প্রত্যাশা।