আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

এ সপ্তাহের মধ্যে শোকজ নোটিশ পাঠাবে কেন্দ্র

শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হচ্ছে আওয়ামী লীগ

দীপক দেব
| প্রথম পাতা

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার ধারাবাহিক জয় নিশ্চিত করতে দলীয় শৃঙ্খলা ঠিক করার কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সমস্যাসংকুল জেলাগুলো চিহ্নিত করে এরই মধ্যে সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়াও শুরু হয়েছে। প্রতিপক্ষের বিরোধিতা করতে গিয়ে যারা দলের ক্ষতি করছেন, বা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মে লিপ্ত; তাদের লাগাম টেনে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমস্যা সৃষ্টিকারী ওইসব নেতাকে বাগে আনতে শোকজ নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। সদুত্তর পাওয়া না গেলে প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের দিকেও হাঁটার চিন্তা করা হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্য সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্রোহ দমাতেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। 

দলের সিদ্ধান্তের পর সিলেট, রাজশাহী, বরগুনা ও দিনাজপুরে সংশ্লিষ্টদের শোকজ নোটিশ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শোকজ নোটিশ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। নোটিশের ড্রাফট প্রস্তুত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ওই ড্রাফট দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেখিয়ে চূড়ান্ত করার পরই তা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শোকজ নোটিশ পাঠানো কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও জানায় সূত্রটি।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ৩০০ সংসদীয় আসনের প্রায় প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তবে এটাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে না আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কারও কারাও মতে, দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ একটি দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবেÑ এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যদিয়ে একটি দলের জনপ্রিয়তারও প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিযোগিতা যদি প্রতিহিংসায় রূপ নেয়, তাহলে সেটা আর সমর্থনযোগ্য থাকে না। সেটা দলের শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে চলে যায়। সুতরাং, যেসব জায়গায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, ওই সব জায়গায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে তা সব জায়গায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এজন্যই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। 
সম্পাদকম-লীর দুই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যেখানে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, মনোনয়ন চাওয়ার ক্ষেত্রে কারও কোনো বাধা নেই। তবে কারও বিরোধিতা করা যাবে না। সবাই নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে পারবে। দল যাবে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সেখানে অনেকেই এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করছে। এমপিকে খারাপভাবে তুলে ধরতে গিয়ে সরকার ও দলের ক্ষতি করছে। সবাই মূল্যায়নের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন। মূল্যায়ন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, অন্য কেউ নয়। তারা সেটা ভুলে গেছে। যারা নিজেদের অবস্থানের কথা দায়িত্বে কথা ভুলে গিয়ে ফ্রিস্টাইলে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন তাদের অবস্থান ও দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিতেই শোকজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এ সময় বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই দিনাজপুর, রাজশাহী, বরগুনা এবং সিলেট শোকজ যাবে। ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। দলের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে কেউ বিরোধিতা করবেন না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা দলের বিরোধিতা করবেন, তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন কাদের।
জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জরুরি কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধিরেন্দ্রনাথ সম্ভুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীরের কঠোর সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। 
এর আগে একই দিন এমপি হওয়া নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব ও সিটি নির্বাচন নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকা নেতাদের নিয়ে আলোচনা করতে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সবার বক্তব্য শোনেন। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে। তিনি প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা থেকে এমপিদের বিরোধিতা করছেনÑ এমন নেতাদেরও মতামত নেন। সুস্পষ্টভাবে বলে দেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার জন্য কাজ করতে হবে।
রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, শোকজ পাঠানোর কথা আমিও শুনেছি। এখানে প্রতিযোগিতা আছে, নেতায় নেতায় মনোমালিন্যও আছে, তবে প্রতিহিংসা নেই। শোকজ পাঠানোর মতো দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেÑ এমন কোনো কাজ কেউ করেছে বলে আমার জানা নেই। তবে দল যদি সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে শোকজ লেটার পেলে অবশ্যই জবাব দেওয়া হবে। 
এদিকে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শুধু এটা বলবÑ আমি আমার মতামত দিয়েছি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি কি নিজের মতামত দিতে পারব না। মতামত দেওয়া কি অন্যায়। এজন্য শোকজ দিলে দেবে, আমিও আমার উত্তর দেব। 
অন্যদিকে দিনাজপুরের মনোনয়নপ্রত্যাশী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকাশ্যে আট থেকে নয় হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে সবাই মিলে তাকে (মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি) অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। কতজনকে শোকজ করবে। শোকজ করলে আমরাও আমাদের অবস্থান তুলে ধরব বলেও জানান তিনি।