আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

এস্কেভেটরের মাধ্যমে খাল খননে দেবে যাচ্ছে সড়ক

ভবন মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
| শেষ পাতা

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে খতিববাড়ির সামনের সড়ক দেবে যাচ্ছে। ছবিটি রোববার তোলা -আলোকিত বাংলাদেশ

নগরীর চান্দগাঁও-বহদ্দারহাট এলাকায় এস্কেভেটর দিয়ে খাল সংস্কারের পর তিন মাস পার না হতেই সড়কের এক পাশ দেবে যাচ্ছে। খাল সংলগ্ন আবাসিক ভবনের সামনের অংশও ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে। এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। অনেকে সংস্কার করা খাল সংলগ্ন ভবন ত্যাগ করে আশপাশের আবাসিক এলাকায় ছুটছেন। কেউ কেউ অপরিকল্পিত সংস্কার কাজের কড়া সমালোচনাও করছেন। তবে সিডিএ বলছে, শিগগির শক্তভাবে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে খাল পাড়ে। এতে দেবে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্প কাজ শুরু করেছে। তিন মাস আগে থেকে পুরোদমে চলছে খাল সংস্কার কাজ। প্রকল্পের অন্যতম বড় কাজই ভরাট খাল সংস্কার। নগরীর চান্দগাঁও বাস টার্মিনাল এবং পাঠানিয়া গোদা এলাকায় বড় খালগুলো গভীরভাবে খনন হয়েছে। বড় এস্কেভেটর দিয়ে খালের মাঝামাঝি অংশ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে মাটি। এতে পানির প্রবাহ বেড়ে গেছে। গেল বর্ষায় ভরাট খাল সংস্কারের কিছুটা সুফলও পেয়েছে বলে জানিয়েছেন লোকজন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কার কাজের ভিন্ন চিত্র দেখে শঙ্কা দেখা দিয়েছে লোকজনের মধ্যে। বিশেষ করে সংস্কার করা খাল পাড়ের অংশ দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে। সবচেয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া লোকজনের মধ্যে। খালপাড়ের প্রায় সব ভবনের সামনের অংশ দেবে গেছে। এতে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চান্দগাঁও খতিব বাড়ির সামনের সড়ক পাশের খালের দেয়াল অনেকটা ভেঙে গেছে। দেড় থেকে দুই ফুট সড়ক ঢুকে গেছে সেখানে। কোথাও কোথাও সড়কের অংশ তিন থেকে চার টুকরো হয়ে দেবে গেছে। একই চিত্র বহদ্দারহাট থেকে চান্দগাঁও বাস টার্মিনাল পর্যন্ত খাল পাড়ে। চট্টগ্রাম ওয়াসা পাইপ লাইন স্থাপন কাজের ফোর লেন সড়কটির এক পাশ একেবারে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অবস্থায় বড় এস্কেভেটর দিয়ে সড়ক পাশের খাল সংস্কার কাজ করায় সড়কের অংশ ঢুকে গেছে খালের মধ্যে। পুরো সড়কটিই এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। 
এ ব্যাপারে প্রকল্প কাজের সঙ্গে যুক্ত সিডিএর প্রকৌশলী কাজী কাদের নেওয়াজ জানান, এস্কেভেটর দিয়ে খাল থেকে মাটি তোলার পর সড়কের অংশ দেবে যাচ্ছে এটা সত্য। এ ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা অবহিত আছি। তবে মাটি দেবে যাওয়ার একমাত্র কারণ খালপাড়ের রিটেইনিং ওয়াল দুর্বল। যেভাবে করা উচিত ছিল সেভাবে করা হয়নি। তাই খালের মাঝ বরাবর অংশ থেকে বেশি মাটি তোলায় রিটেইনিং ওয়াল ভেঙে যাচ্ছে। সে সঙ্গে সড়কের অংশ খালে দেবে যাচ্ছে। ভবনের সামনের অংশ দেবে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবন মালিকরা খাল থেকে নিরাপদ দূরত্বে ভবন তৈরি করেনি। তাই বড় পরিসরের খাল সংস্কার কাজের শুরুতেই দেবে যাচ্ছে। এজন্য দায়ী ভবন মালিকরাই। আমরা সহসা ওইসব খালের রিটেইনিং ওয়াল আরও শক্তভাবে তৈরি করব। তাতে কোনো ধরনের সড়ক কিংবা ভবন ধসের শঙ্কা থাকবে না। 
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। কিন্তু খালের রিটেইনিং ওয়ালের কাজ আমরা করব না। এ কাজ করবে সিডিএ। তারা রিটেইনিং ওয়ালের কাজ শেষ করার পরই সংস্কার কাজ করা হবে।
চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানান, বড় এস্কেভেটর দিয়ে খাল সংস্কার কাজ শুরুর পর দেবে যাওয়ার কোনো কিছু দেখা যায়নি। দুই মাস পর কিছু কিছু সড়কের অংশ খালে দেবে যেতে থাকে। এতে ওই সব সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। 
সিডিএ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পে তদারকি কাজে সহায়তা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তবে সেনাবাহিনী যুক্ত থাকায় দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে প্রকল্প কাজ। দৃশ্যমান হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের নানা ইতিবাচক দিক।