আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সিলেটে চিকিৎসকসহ তিনজন নিখোঁজ

পরিবারে উৎকণ্ঠা

সিলেট ব্যুরো
| শেষ পাতা

সিলেটে চিকিৎসক ও ছাত্রসহ নিখোঁজ তিনজনের সন্ধান না পেয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে তাদের পরিবার। ৬ সেপ্টেম্বর সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার গ্রাম উত্তর কসকনকপুর থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মাহফুজুল আলম নামের এক চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ তার পরিবারের। ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর টিলাগড় থেকে ইমাদ উদ্দিস সুহিন নামের এক যুবক নিখোঁজ হন। এর ১২ ঘণ্টার মাথায় ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় একই এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেন নামের এমসি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের অপর এক ছাত্র নিখোঁজ হন। 

ডা. মাহফুজুর রহমানের মামা জকিগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন সুহেল জানান, ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডা. মাহফুজকে তার নিজ বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন লোক তুলে নিয়ে যায়। ওই দিনই প্রকাশিত ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ডা. মাহফুজ সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছেন। তিনি জানান, ভাগ্নের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে ছুটছেন তারা। ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে শনিবার সন্ধান করেছেন তিনি। কিন্তু, তার কোন সন্ধান মিলছে না। এ নিয়ে তারা উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানান তিনি। 

জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর টিলাগড় থেকে ইমাদ উদ্দিন সুহিন নামের এক যুবক নিখোঁজ হন। তিনি ওই দিন মৌলভীবাজারের ভানুগাছ থেকে আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে সিলেটে অবস্থানরত এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সুহিন কমলগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে। সুহিনের মামা হাফিজুর রহমান জানান, তারা র‌্যাব-৯ এর সদর দপ্তরও সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।  
সুহিন নিখোঁজের ১২ ঘণ্টার মাথায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একই এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেন নামের আরেক কলেজছাত্র নিখোঁজ হন। টিলাগড় শাপলাবাগ এলাকা থেকে পার্শ্ববর্তী এমসি কলেজে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন তিনি। সাজ্জাদ এমসি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম নোয়াগাঁওয়ে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলীর ছেলে। এ ঘটনায়ও শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সাজ্জাদ আলীর বড় ভাই সুজিদ সুজাহিদ আলী জানান, তারা এখনও সাজ্জাদ আলীর সন্ধান পাননি। 
শাহপরান থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, তার থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত দুটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তারা তাদের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। 
এদিকে, বুধবার রাত ৮টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী থেকে নিখোঁজ হন আবুল বাশার কাহের নামক যুবক। বালাগঞ্জের সংবাদ কর্মী জিল্লুর রহমান জিলু জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় তাকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।