আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মাছের ঘেরে সবজি বিপ্লব

মশিয়ার রহমান, কেশবপুর
| সুসংবাদ প্রতিদিন

যশোরের কেশবপুরের পূর্বাঞ্চলের অভিশপ্ত ভবদহের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে প্রতি বছর এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘুরে দাঁড়াতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণে নতুন করে লড়াই শুরু করে ভবদহের বিলপাড়ের মানুষের মাছের ঘের এখন যেন এক একটি সমন্বিত কৃষি খামার। উপজেলার ভবদহ সংলগ্ন সানতলা, কিসমত সানতলা, কাটাখালী, কালিচরণপুর, ডহুরী, কাঁকবাধাল ও পাশের মনিরামপুর উপজেলার হরিদাশকাটি, মনোহরপুর, কুলটিয়া, মধুপুর, দূর্বাডাঙ্গা ও নেহালপুরসহ অধিকাংশ গ্রামে ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘের পাড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদিত হচ্ছে বরবটি, কুমড়া, লাউ, করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। চৈত্র-বৈশাখ মাসে মাছের ঘেরে ধান আবাদের পাশাপাশি ঘেরপাড়ে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন ঘের ব্যবসায়ীরা ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভবদহ সংলগ্ন এ গ্রামগুলোতে ঘেরপাড়ে বিভিন্ন সবজির বাগান। এ সময় ঘের ব্যবসায়ী বিকাশ ম-ল বলেন, তিনি ১৭ বছর আগে মাত্র তিন বিঘা জমি ইজারা নিয়ে মাছের ঘের করেন। কিন্তু ইজারা নেওয়ার পর থেকে অতি বৃষ্টির কারণে মাছ চাষে তেমন লাভ হচ্ছিল না। বছরে শুধু একবার ধান আবাদ করেই চলছিল তাদের সংসার। এতে সংসার চালাতে কষ্টকর হয়ে পড়ে। যে কারণে ঘের পাড়ে শুরু করেন সবজি চাষ। উপজেলার সানতলা গ্রামের কালিপদ ম-লের ছেলে বিকাশ ম-ল সফলতা পান। ভবদহের কারণে প্রতি বছর মাছের ঘের ভেসে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। বছর পাঁচেক আগে ঘেরপাড়ে কুমড়া, লাউ, বরবটি, ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। এখন দুই দিন অন্তর প্রায় ৩০০ কেজি বরবটি বাজারে বিক্রি করছেন। বরবটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাউ ধরবে গাছে। এজন্য বাঁশ-খুঁটি দিয়ে মাচান তৈরি করছেন তিনি। তিনি গত বছর প্রায় ৪ মাস ধরে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ লাউ বিক্রি করেছেন। এবারও এমনটি ফলনের আশা করছেন তিনি। তারমতো এলাকার বিমল সরকার, সুনীল ম-ল, বিধান ম-ল, গনেশ ম-ল, পশুপতি ম-লসহ একাধিক মাছের ঘের মালিক ঘের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করছেন। তারা বলেন, কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই স্বল্প পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহারে কাক্সিক্ষত সবজি উৎপাদিত হয়। স্বাদেগুণে ভালো হওয়ায় বাজারে তাদের উৎপাদিত সবজির আলাদা কদর রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। 
সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাদের উৎপাদিত সবজি দেশীয় চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে তারা কাজ করছেন। কারিগরি সহায়তা নিয়ে যে কেউ সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেন। তাদের মাছ চাষের পাশাপাশি এ ধরনের সবজি চাষ করায় বিভিন্ন সময় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া অব্যাহত আছে।