আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নির্বাচনি হাওয়া- সাতক্ষীরা-৩

মাঠে ছয় হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী

এম শাহীন গোলদার, সাতক্ষীরা
| শেষ পাতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৩ (দেবহাটা, আশাশুনি ও কালীগঞ্জের আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ভোটারদের মন জয়ে মাঠে নেমেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে হেভিওয়েট ব্যক্তির সংখ্যাই ছয়জন। 

এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেন্স অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনার ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, সাবেক এমপি ডা. মোখলেছুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি মনসুর আহমেদ। এর বাইরে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল জামায়েত হোসেন, আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম ও সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলাম। আর বিএনপির হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শহিদুল আলমও বেশ জোরেসোরে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। তবে বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম রফিকুল ইসলামও। আর জাতীয় পার্টি এরশাদের একক হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট স ম সালাউদ্দিন। তাছাড়া গণফোরামের পঙ্কজ কান্তি সরকার (বাপ্পী) ও জামায়াতে ইসলামী থেকে হাফেজ রবিউল বাশারও এ আসনে নির্বাচন করতে পারেন। 

সাতক্ষীরা-৩ আসনের সীমানা বারবার পুনর্গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৮-এর নির্বাচনে নতুন সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি পুনর্গঠিত হয়েছে। যুক্ত হয়েছে আশাশুনি  উপজেলা ১১টি ইউনিয়ন, দেবহাটা উপজেলার ৫টি এবং কালিগঞ্জ উপজেলার চারটি ইউনিয়ন। তিন উপজেলার মোট ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে সাতক্ষীরা-৩ আসন। এর আগে কেবল আশাশুনি উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল সাতক্ষীরা-৩। এ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৮৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৩ হাজার ৭৭ জন এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ৮৯ হাজার ৩০৬ জন।

৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জামায়াতের মাওলানা রিয়াছাদ আলী দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আওয়ামী লীগের হাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডা. মোখলেছুর রহমান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট স ম সালাউদ্দীন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী জামায়াতের মাওলানা রিয়াছাদ আলী নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের ডা. মোখলেছুর রহমান। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের আওয়ামী লীগের ডা. আ ফ ম রুহুল হক নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল চারদলীয় জোটের জামায়াতের মাওলানা রিয়াছাদ আলী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা ভোটে আওয়ামী লীগের ডা. আ ফ ম রুহুল হক নির্বাচিত হন। এর আগে আশাশুনি আসন থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট স ম সালাউদ্দীন। 
এ আসনে পর পর দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন দেশের প্রখ্যাত শৈল্য চিকিৎসক ডা. আ ফ ম রুহুল হক। তিনি ২০০৮ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ৫ বছর সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তার প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে তার প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বেশ সুনামও কুড়িয়েছেন তিনি। তিনি তার অর্জিত সুনাম ধরে রাখতে পেরেছেন বলে মনে করেন এলাকার অনেকেই।
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় এমপি নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিত্ব পাননি। তারপরও প্রচেষ্টা চালিয়ে নলতায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট ট্রেনিং স্কুলসহ অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন। এলাকায় শত কিলোমিটার রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ এবং প্রায় শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন করেছেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় তার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংস্কারক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, দার্শনিক, সমাজ সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক গুরু, বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সাধক, সুলতানুল আউলিয়া, কুতুবুল আকতাব, গওছে জামান, আরেফ বিল্লাহ, হজরত শাহ্ সুফি আলহাজ খানবাহাদুর আহ্্ছানউল্লা (রহ.) এর আশীর্বাদপুষ্ট সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাতক্ষীরার উন্নয়নের রূপকার ডা. আ ফ ম রুহুল হক। তিনি বলেন, আমি পর পর দুইবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়ে দেশের জন্য এমডিজি, সাউথ সাউথ পুরস্কারসহ বেশ কিছু ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার বয়ে এনেছি। দেশের স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সক্রিয় করেছি। আজ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে। আগামীতে এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। দলের হাইকমান্ড দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমার ইতিবাচক এসব কর্মকা- অবশ্যই বিবেচনা করবে। 
এদিকে, ডা. আ ফ ম রুহুল হকের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেন্স অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনার ভিসি প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ। তিনি বঙ্গবন্ধুর চেতনায় বিশ্বাসী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি কয়েক বছর আগে থেকেই এলাকায় কাজ করছেন। তার কর্মীরা মাঠে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। তিনি দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজসহ ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তাছাড়া রোজা, ঈদ, পূজায় এলাকার গরিব ও অসহায়দের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। তিনি দেবহাটা, আশাশুনি ও কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে প্রার্থী হওয়ার কথাও জানান দিয়েছেন। ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ বলেন, সাতক্ষীরার মাটিতেই আমার জন্ম। লেখাপড়ার কারণে সাতক্ষীরার বাইরেও থাকতে হয়েছে। এখন সুযোগ হয়েছে এলাকায় ফিরে মানুষের জন্য কিছু করার। এলাকার মানুষের পাশে থেকে সারাজীবন কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করলে আমাকে মনোনয়ন দিবে। মনোনয়ন পেলে আমি সাতক্ষীরার প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। জনকল্যাণসহ সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখব। তরুণ প্রজন্ম, গ্রাম্য অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যবিমোচন, শিক্ষাকে গ্রামমুখী করা, শিক্ষার ডিজিটাইলেশন করা এবং সততা ও পরিশ্রমের ভেতরেই নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাসিত করা, উদ্বেলিত করা ও অনুপ্রাণিত করা জরুরি বলেও মনে করেন স্বনামধন্য এ শিক্ষাবিদ।
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি ডা. মোখলেছুর রহমান ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক সাবেক এমপি মনসুর আহমেদও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। মুনসুর আহমেদ বলেন, সারা জীবন আওয়ামী লীগ করেছি। জনগণ দুইবার সংসদ সদস্য হিসেবে এবং ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে বারবার আমাকে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ ২২ বছর কাটিয়েছি। সর্বশেষ দলের হাল ধরেছি সভাপতি হিসেবে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জনগণ আমার কর্মের মূল্যায়ন করবেন নিশ্চয়ই। এলাকাবাসী জানান, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এ আসনে দলীয় বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ না নিলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী একে অপরের মধ্যে দিন দিন দূরত্ব বাড়ছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আশাশুনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকীম। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। প্রচারণায় নেমেছেন। এবিএম মোস্তাকীম বলেন, রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের জন্য। তাদের সুখ, দুঃখের সাথি হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আগামী নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ৪০ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ২০০২ সালে কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম সাক্ষী। তিনি দেবহাটা, আশাশুনি ও কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে প্রার্থী হওয়ার কথাও জানান দিয়েছেন। 
সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে প্রচারে নেমেছেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শহিদুল আলম। এলাকার মানুষের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে তার রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে তিনি সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন সময়ে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের নানাভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। এলাকার মানুষ আজও তার কথা স্মরণ রেখেছে। শুধু সাতক্ষীরা-৩ আসন নয়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের মানুষও ডা. শহিদুল আলমকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। ভালো মানুষ হিসেবে সেখানকার নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে তার বেশ গ্রহণযোগ্যতা। ডা. শহিদুল আলম বলেন, বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন জড়িত। ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আমি স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করি। সবসময় এলাকার মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশি হয়রানির কারণে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাঠে দাঁড়াতে পারছে না। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আমি অবশ্যই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। বহু আগে থেকেই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। সুযোগ হলে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখব। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি, কূল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে টানা ৪ বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। বিএনপির সংকটে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। আমি আগামী নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। 
জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন এ আসনের সাবেক এমপি, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য অ্যাডভোকেট স ম সালাউদ্দিন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। আশাশুনি আসন থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ তে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি রাজনৈতিক মাঠে নিজেকে দৃশ্যমান করছেন না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি এমপি থাকাকালীন সময়ে এলাকায় উন্নয়নে কাজ করেছি। আগামীতে নির্বাচিত হতে পারলে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখব।
এ আসনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম  শোনা যাচ্ছে মুহাদ্দিস রবিউল বাসারের। ২০১৩ সালে জামায়াত জেলাব্যাপী নাশকতা চালায়। তারা সাতক্ষীরাকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করে। ২০১৩ সালে দায়েরকৃত ওইসব নাশকতা মামলায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা বর্তমানে এলাকা ছাড়া। এলাকায় তাদের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকলে নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা যে কোনো মুহূর্তে সংগঠিত হয়ে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবে বলে জানান স্থানীয় জনগণ।