আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

উয়েফার নতুন আকর্ষণ নেশন্স লিগ

স্পোর্টস ডেস্ক
| খেলা

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্পেনের সঙ্গে মেসিডোনিয়া, জার্মানির সঙ্গে জিব্রাল্টার ও ইতালির সঙ্গে মাল্টার ম্যাচগুলো ছিল বড়ই একপেশে। তাছাড়া ক্লাব ফুটবলের মাঝপথে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় এমন অসম ম্যাচগুলো সমর্থকদের মনে বা প্রতিযোগিতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। দুর্বল দলের সঙ্গে খেলে বড় দলের খেলোয়াড়রাও নিজেদের ভুল ধরতে পারেন না। এ রকম একপেশে ম্যাচগুলো সরিয়ে ফেলতেই উয়েফার নতুন প্রবর্তন উয়েফা নেশন্স কাপ। এ প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হলো। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এ নেশন্স লিগ। ইউরোপের ৫৫টি দল চার লিগে ভাগ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলো থাকছে লিগ ‘এ’ ও ‘বি’ তে। প্রতি লিগে চার গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে ১২টি দল (মোট আট গ্রুপ, ২৪ দল)। দ্বিতীয় শক্তির ১৫টি দল আছে লিগ ‘সি’ তে। এখানে চার গ্রুপে আছে ১২টি ও একটি গ্রুপে তিন দল। সবচেয়ে কমশক্তির ১৬টি দল লিগ ‘ডি’ তে। প্রতি দল একে অপরের সঙ্গে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে। 
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেন ছেদ না পড়ে, তাই অবনমন-উন্নতির ধারাও রাখা হয়েছে। পয়েন্টের হিসাবে এগিয়ে থেকে লিগ ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’র শীর্ষ দল উঠে আসবে লিগ ‘এ’ তে। আবার পিছিয়ে থাকলে লিগ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’র দল নেমে যেতে পারে পরের লিগে। দুই বছরের এ লিগ পদ্ধতির লড়াইয়ে ‘এ’ লিগের গ্রুপ সেরা চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। শুধু ‘এ’ লিগের শীর্ষ চার দল এই যোগ্যতা অর্জন করবে। ২০১৯ সালের জুনে দুই সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও ফাইনাল হবে একই ভেন্যুতে, যা সেমিফাইনালে উঠা চার প্রতিদ্বন্দ্বী মিলে নির্ধারণ করবে। এরই মধ্যে এই লিগের ফাইনাল ও নকআউট ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য প্রস্তাব রেখেছে ইতালি, পোল্যান্ড ও পর্তুগাল। ‘এ’ লিগের গ্রুপ সেরা চার দল এই তিন দেশ থেকেই যে কোনো একটিকে নির্বাচন করবে। থাকবে শিরোপার লড়াই ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। মূলত অসম আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ইউরোপে আর থাকছে না। 
বছরের প্রীতি ম্যাচগুলোর তারিখে এই নেশন্স কাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন উয়েফার ৫৫ সদস্য। আগামী তিন মাসে মোট চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের দিনগুলোয় নেশন্স লিগের ম্যাচ হবে। আর বাকি দুটি ম্যাচ ডে’তে হবে প্রীতি ম্যাচ। তবে ইউরোর বাছাইপর্ব শুরু হলে আবার এই প্রীতি ম্যাচগুলোও থাকবে না। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী মূল টুর্নামেন্টের দুই বছর আগে শুরু হয় বাছাইপর্বের লড়াই। কিন্তু এবার নেশন্স লিগের জন্য তা এক বছর কমিয়ে আনা হয়েছে। এক বছরে পাঁচ মাসে দুটি করে ম্যাচ খেলবে ইউরোপের দলগুলো। তখন ইউরো অঞ্চলে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য জায়গা একেবারেই থাকবে না। 
নেশন্স লিগ প্রবর্তনের আরও একটি কারণ আছে। তা হলোÑ ইউরো বাছাই পর্বের স্থান নির্ধারণ। ইউরোর বাছাই পর্বে মোট ১০টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়াই করে ৫৫টি দল। লিগ ‘এ’ এর সেরা ১০ দল সরাসরি বাছাই পর্বের ১০ গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নেবে। এ লিগের চার গ্রুপ সেরা দল শীর্ষ চার গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে নাম লেখাবে। পরের দলগুলো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরের গ্রুপগুলোর সেরা দল হবে। এরপর যথাক্রমে পয়েন্ট ও গোলগড়ে এগিয়ে থাকা লিগ ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’র দলগুলো বাছাই পর্বের ১০ গ্রুপের বাকি জায়গা পূরণ করবে।
উয়েফা নেশন্স লিগ ড্র
লিগ এ
গ্রুপ ১ : নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি
গ্রুপ ২ : আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম
গ্রুপ ৩ : পোল্যান্ড, ইতালি, পর্তুগাল
গ্রুপ ৪ : স্পেন, ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া
লিগ বি
গ্রুপ ১ : চেক রিপা., ইউক্রেন, সেøাভাকিয়া
গ্রুপ ২ : তুরস্ক, সুইডেন, রাশিয়া
গ্রুপ ৩ : উত্তর আ., বসনিয়া, অস্ট্রিয়া
গ্রুপ ৪ : ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড রি., ওয়েলস
লিগ সি
গ্রুপ ১ : ইসরাইল, আলবেনিয়া, স্কটল্যান্ড
গ্রুপ ২ : এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, হাঙ্গেরি
গ্রুপ ৩ : সাইপ্রাস, বুলগেরিয়া, নরওয়ে, সেøাভেনিয়া
গ্রুপ ৪ : লিথুয়ানিয়া, সার্বিয়া, মন্টেনেগ্রো, রোমানিয়া
লিগ ডি
গ্রুপ ১ : অ্যান্ডোরা, কাজাকিস্তান, লাটভিয়া, জর্জিয়া
গ্রুপ ২ : সান মারিনো, মলডোভা, লুক্সেমবুর্গ, বেলারুশ
গ্রুপ ৩ : কসোভো, মাল্টা, ফারো আই., আজারবাইজান
গ্রুপ ৪ : জিব্রাল্টার, লিচেস্টেইন, মেসিডোনিয়া, আর্মেনিয়া