আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নিরাপদ সড়ক দাবিতে আন্দোলন

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ১২ ‘শিবির কর্মী’ রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| নগর মহানগর

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় ১২ শিক্ষার্থীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর সোমবার তাদের পুলিশ হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। সিএমএম কোর্ট থেকে তোলা ছবি -সংগৃহীত - খবর পৃষ্ঠা-৩

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলার সময় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে করা একটি মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তারের পর দুই দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী’। যারা কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের তেজকুনিপাড়ার একটি মেস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার বিকালে ওই ১২ জনকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে হাজির করা হলে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গুজব সৃষ্টিকারী অন্যতম মূল হোতা তারেক আজিজসহ শিবিরের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তারেক আজিজ, মো. তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাহিদুল ইসলাম, আল আমীন, জহিরুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মেহেদী হাসান রাজিব, মাহফুজ, সাইফুল্লাহ ও রায়হানুল আবেদিন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের একটি দল এ অভিযান চালায়। সংবাদ সম্মেলনে ডিবি উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ওই ১২ জনকে পাঁচ দিন আগেই আটকের বিষয়ে পারিবারের দাবির প্রসঙ্গে ডিসি মাসুদুর রহমান জানান, তাদের রোববার রাতেই (৯ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি বা তথ্য সেটি তাদের বিষয়। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতরা কেউই তো পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। হতে পারে পরিস্থিতি বুঝে নিজেরাই আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অর্ধেক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং বাকিরা পড়াশোনা করেন না। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডিবি পুলিশকে জানায়, ২৯ জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তারা ফেইসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখা, পোস্ট, ছবি-ভিডিও দিয়ে গুজব ছড়ায়। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে সব রকমের তথ্যপ্রমাণ আছে। ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মনোগ্রাম সংবলিত ১২ সেট ড্রেস ও ১৩টি ফিতাসহ ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।