আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সিলেটে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তি

আগে বিল আসত ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, এখন আসে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা

সিলেট ব্যুরো
| নগর মহানগর

সিলেটে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ কার্ড সংগ্রহে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ভেন্ডিং স্টেশন থাকায় এমন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। এ কারণে রোববার নগরীতে মানববন্ধন করেছেন তারা। ভোগান্তি কমাতে প্রত্যেক ওয়ার্ডে আলাদা ভেন্ডিং স্টেশন বসানো কিংবা পৃথক কাউন্টার স্থাপন, সপ্তাহের সাত দিনই ভেন্ডিং স্টেশন খোলা রাখাসহ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিচার্জ কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা করা।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড মোবাইলের মাধ্যমে সংগ্রহের ব্যবস্থার জন্য এরই মধ্যে একটি বেসরকারি ফোন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এতে করে গ্রাহক ভোগান্তি কমে যাবে বলে মন্তব্য তাদের।
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার চালু করে সরকার। প্রাথমিকভাবে সিলেট ছাড়াও চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ শহরে প্রিপেইড মিটার চালু করা হয়। এ পর্যন্ত সিলেট নগরে ৫৯ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। এসব গ্রাহক নগরীর শাহজালাল উপশহর বি-ব্লকের বনরূপা ভবনের চতুর্থ তলায় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর অফিসে স্থাপিত ভেন্ডিং স্টেশনসহ নগরীর আট ব্যাংকের শাখা হতে প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড সংগ্রহ করেন। ব্যাংকগুলো হলো স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক নয়াসড়ক, ন্যাশনাল ব্যাংক মিরাবাজার, এনসিসি ব্যাংক লালদিঘিরপাড়, ইউসিবিএল ব্যাংক শিবগঞ্জ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ইসলামপুর, এনআরবিসি ব্যাংক বটেশ্বর, এনসিসি ব্যাংক কুমারপাড়া ও ইউসিবিএল ব্যাংক উপশহর শাখা। তবে তা গ্রাহকের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় কার্ড সংগ্রহে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয় জনসাধারণকে। একইভাবে বিভিন্ন সময় মিটার লক হওয়াসহ নানা ভোগান্তিতেও পড়ছেন তারা।
টিলাগড়ের এহসানুল হক মুন্না জানান, বিদ্যুৎ বিল প্রিপেইড মিটার হওয়ার পর থেকে শুধু লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি নয়, নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন। মিটার লাগানোর দুই দিন না যেতেই কোনো কারণ ছাড়াই তা লক হয়ে যায়। পরে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে ডেকে এনে আনলক করা হয়।
জিন্দাবাজারের বাসিন্দা শাহরিয়ার আহমেদ জানান, প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে গেছে। আগে যে মিটারে বিদ্যুৎ বিল আসত প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এখন প্রিপ্রেইড করার পর প্রতি মাসে বিল আসে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদ জানান, বর্তমানে ভেন্ডিং স্টেশন ছাড়াও ৯টি ব্যাংকে রিচার্জ করা যায়। গ্রাহক ভোগান্তি দূর করার জন্য সরকার গ্রামীণফোন কোম্পানির সঙ্গে একটা চুক্তিতে গেছে। আশা করি এ মাসের শেষের দিকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। তখন থেকে গ্রাহকরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিচার্জ করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুর্ভোগ লাঘবে মানববন্ধন : প্রিপেইড মিটারের কার্ড সংগ্রহে দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা নিতে রোববার দুপুরে নগরীর উপশহরে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মানবন্ধনের আয়োজন করে প্রাতঃভ্রমণ ক্লাব উপশহর। সভাপতি কাওছার আহমদ হায়দরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রশীদ মসরুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।