আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ইস্যুতে ভারতে বন্ ধ

| শেষ পাতা

কলকাতা প্রতিনিধি

পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ একাধিক ইস্যুতে ভারতজুড়ে বন্্ধ পালিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল এ বন্্ধে শামিল হয়। বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই ভারত বন্্ধ পালিত হয়েছে। কংগ্রেস ও বামরা এ বন্্ধ সফল বলে দাবি করেছে। 

ভারতে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন এবং রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বন্্ধের ডাক দেয় কংগ্রেস এবং পাঁচটি বাম দল। এছাড়াও বন্্ধের সমর্থনে শামিল হয় আরও বেশ কয়েকটি বিরোধী দল। সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, এনসিপি, ডিএমকে, এডিএমকে এ বন্্ধে শামিল হয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত চলে বন্্ধ। সকাল থেকেই বন্্ধ সমর্থনকারীরার পথে নেমে পড়েন। ভারতের বিহার, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে বন্্ধের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বন্্ধের জেরে বিহার, উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ট্রেন ও যান চলাচল বিঘিœত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বন্্ধের সমর্থনে দিল্লির রাজঘাট থেকে মিছিলে যোগ দেন রাহুল গান্ধী। বন্্ধের সমর্থনে দিল্লির রামলীলা ময়দানে এক সমাবেশে শামিল হন ভারতের কংগ্রেসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ, এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার, জেডিইউ নেতা শরদ যাদবসহ বিরোধী অন্যান্য দলের নেতানেত্রীরা। বন্্ধের সমর্থনে এদিন চন্ডিগড়ে রাজপথে মিছিল করে রাস্তায় বসে মোদি জমানায় ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দাম ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানায় আম আদমি পার্টির সমর্থকরা। তবে এদিনের বন্্ধে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে বিহার রাজ্যে। সেখানে অধিকাংশ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ রাখেন বন্্ধ সমর্থকরা। সকাল থেকেই বন্্ধের সমর্থনে পথে নামেন আরজেডি, কংগ্রেস, জেডিইউর সমর্থকরা। বিহারের বিভিন্ন স্টেশনে রেল অবরোধের জেরে আটকা পড়ে বহু লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা রাজ্যেও বন্্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিজয়ওয়াড়া ও বিশাখাপত্তনামে সকাল থেকেই রাস্তায় রাস্তায় বন্্ধের সমর্থনে মিছিল করে বাম সমর্থকরা। তেলেঙ্গানার ইয়াদারি ভুবনগিরি জেলাতে বন্্ধের সমর্থনে মিছিল করে কংগ্রেস। মোদির রাজ্য গুজরাটেও বন্্ধের সমর্থনে সকাল থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হয় কংগ্রেস সমর্থকরা। গুজরাটের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ভারত বন্্ধ সফল করার দাবিতে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। উড়িষ্যাতেও বন্্ধের ব্যাপক প্রভাব দেখা গেছে। সকালে উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে মোটর বাইক মিছিল করে কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে দিয়ে রাস্তার উপর বসেই খবরের কাগজ পড়তে শুরু করেন কংগ্রেস নেতারা। ভুবনেশ্বর স্টেশনেও আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। কর্নাটক রাজ্যেও পড়ে বন্্ধের ব্যাপক সাড়া। কর্নাটকে কংগ্রেস ও জেডিএস ক্ষমতায়। তাই এ রাজ্যে বন্্ধের সমর্থনে আগে থেকেই স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে কর্নাটক সরকার। রাজ্যের অটো ও ওলা চালকদের সংগঠন আগে থেকেই বন্্ধের সমর্থনে পথে নামবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল। সকাল থেকেই কর্নাটকের বিভিন্ন জেলায় রাস্তায় নামেনি কোনো বাস। অন্যদিকে, পশ্চিমবাংলায় বন্্ধের আংশিক প্রভাব পড়েছে। 
পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী বন্্ধের বিরুদ্ধে গেলেও যে ইস্যুতে বন্্ধ ডাকা হয়েছে, সে ইস্যুগুলোকে তিনি সমর্থন করেছেন। তবে পশ্চিমবাংলার মাটিতে যাতে বন্্ধ সংস্কৃতি ফিরে না আসে সেজন্য সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মিছিল সমাবেশে শামিল হন। তবে বন্্ধে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্তব্ধ হয়েছিল জনজীবন। রাজ্যের বহু এলাকায় দোকানপাট খোলেনি। পথে যানবাহনও দেখা গিয়েছে কম। কলকাতার যাদবপুর, বারাসাতসহ বিভিন্ন জেলায় বন্্ধের সমর্থনে মিছিল করেছে বামেরা। কোথাও কোথাও যাত্রীদের সঙ্গে বচসায়ও জড়িয়ে পড়েন বন্্ধ সমর্থকরা। শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে ট্রেন চললেও তা অন্যদিনের তুলনায় কম ছিল বলে অভিযোগ যাত্রীদের। 
তবে ভারত বন্্ধে তেমন প্রভাব পড়েনি ভারত-বাংলাদেশের পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে। প্রতিদিনের মতো পণ্য পরিবহন ও যাত্রী যাতায়াত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। তবে বহু জায়গায় পর্যাপ্ত বাস ও ট্যাক্সি বা অন্য যানবাহন না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন বহু যাত্রী। পশ্চিমবঙ্গের অফিসে হাজিরা ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। খোলা ছিল স্কুল-কলেজ, ব্যাংক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, বন্্ধের দিন সরকারি কর্মীরা অফিসে না এলে তাদের একদিনের বেতন কাটা হবে ও শোকজ করা হবে।