আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কক্সবাজারে নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থীর সন্ধান রাঙ্গামাটিতে

কক্সবাজার প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর সন্ধান মিলেছে। পার্বত্য রাঙ্গামাটি সদরের রিজার্ববাজার এলাকার হোটেল রাজু নামের একটি আবাসিক হোটেলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে স্থানীয় একটি মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীদের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজে তাদের বিষয়ে সর্বশেষ জেনেছে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও প্রশাসন।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো কক্সবাজার পৌর শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মৌলভী জহির আহমদের ছেলে সাইয়েদ নকীব, বাসটার্মিনাল এলাকার আকতার কামাল চৌধুরীর ছেলে শাহরিয়ার কামাল সাকিব, একই এলাকার ফয়েজুল ইসলামের ছেলে শাফিন নূর ইসলাম এবং বাজারঘাটা এলাকার অ্যাডভোকেট আবদুল আমিনের বড় ছেলে এইচএ গালিব উদ্দিন। তারা সবাই কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং রোববার সকালে প্রাইভেট ও স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল আজম বলেন, রোববার সকালে প্রাইভেট ও স্কুলের জন্য বেরিয়ে ওই চার শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে না আসায় রাতে শহরে মাইকিং করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে সোমবার সকালে থানায় জিডি করেন চার শিক্ষার্থীর অভিভাবক। এরপরই বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে চার শিক্ষার্থী রাঙ্গামাটির রিজার্ববাজার এলাকার আবাসিক হোটেল রাজুতে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হই। সংখ্যায় তারা চারজন হলেও শুধু সাকিবের নামে রুম বুকিং করা হয়। রাঙ্গামাটি সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। রাঙ্গামাটি পুলিশের বরাতে ওসি আজম আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি এলাকায় বেড়াতে গেছে। তাদের সঙ্গে ফুটবলসহ খেলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে।

সাইয়েদ নকীবের বাবা মৌলভী জহির আহমদ বলেন, নকীবের সঙ্গে রোববার সর্বশেষ বেলা ১১টায় মোবাইলে কথা হয়। প্রাইভেটে দেওয়ার জন্য সকালে ৬০০ টাকাও নিয়েছিল সে। দুপুর ১২টায় স্কুল থাকলেও সে স্কুলে যায়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানতে পারিÑ তার মতো আরও তিন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়নি এবং রহস্যজনকভাবে তারা নিখোঁজ।

গালিবের বাবা অ্যাডভোকেট আবদুল আমিন বলেন, বড় ভয়ে ছিলাম। কারণ চারপাশে প্রতিদিন অপহরণসহ নানা ভয়ানক খবরের জন্ম হচ্ছে। এ রকম কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি কিনাÑ এ নিয়ে সবক’টি পরিবার চরম উদ্বিগ্নতার মধ্যে সময় পার করেছি। সবাইকে অক্ষত অবস্থায় একসঙ্গে রাঙ্গামাটিতে পাওয়া গেছে এটিই শোকরিয়া। এমন ঘটনার মুখোমুখি যেন অন্য কোনো অভিভাবককে না হতে হয়, সেজন্য সন্তানদের প্রতি আরও নজর দিতে সব মা-বাবাদের অনুরোধ জানান তিনি।
কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ইব্রাহিম জানান, রোববার নকীব, সাকিব, শাফিন এবং গালিব কেউ স্কুলে আসেনি। বিকালে তাদের পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হলে নিখোঁজের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও খোঁজ না পেয়ে সোমবার সকালে সবাই মিলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হই এবং প্রশাসন দ্রুত চেষ্টা করে তাদের খোঁজ বের করে দিয়েছে।