আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সৌদি নারীর সঙ্গে নাশতা করায় মিশরীয় গ্রেপ্তার

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

সৌদি আরবে এক নারীর সঙ্গে বসে সকালের নাশতা করার অপরাধে এক মিশরীয় পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দুজনের একসঙ্গে বসে নাশতা করার ভিডিও টুইটারে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে টুইটারে অনেকেই তাদের দুজনের কড়া সমালোচনা করেছেন।
টুইটারে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, মিশরীয় টানে আরবি বলছে এমন এক পুরুষ নাশতা করছে। তার পাশে বসে আছে বোরকা পরা এক নারী। নেকাবে মুখ ঢাকা এই নারী সৌদি বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবে অনাত্মীয় নারী-পুরুষের এভাবে প্রকাশ্যে কোনো রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে বসা নিষেধ। ম্যাকডোনাল্ডসের মতো রেস্টুরেন্টে বা স্টারবাকসের মতো কফি শপে তাদের বসতে হয় পৃথক জায়গায়।
পুরুষ কোনো আত্মীয় সঙ্গে না নিয়ে মেয়েদের একা বাইরে যাওয়াও নিষেধ। সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এ মিশরীয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে কেবল সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে বসা এবং আরও কয়েকটি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
টুইটারে তাদের দুজনের এ ভিডিওটি শেয়ার করা হয় ‘এক সৌদির সঙ্গে এক মিশরীয় লোকের প্রাতরাশ’ হ্যাশট্যাগে। এরপর এ হ্যাশট্যাগটি এক লাখের বেশিবার ব্যবহৃত হয়েছে।
এ ঘটনা নিয়ে সৌদিদের সঙ্গে মিশরীয়দের রীতিমত বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে টুইটারে।
টুইটারে শেয়ার করা পুরো ভিডিওটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের। সেখানে এ দুজনকে একসঙ্গে নাশতা করার সময় হাসি-ঠাট্টা করতে দেখা যায়। আর কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।
তবে ভিডিওটির একেবারে শেষদিকে দেখা যায়, মিশরীয় পুরুষকে খাবার তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন সঙ্গের মহিলা। মূলত এই শেষ অংশটিই সৌদি আরবে অনেক মানুষকে মারাত্মক ক্ষিপ্ত করে তুলেছে।
টুইটারে অনেক সৌদি এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কেবল কেন পুরুষটিকেই এ ঘটনার সাজা ভোগ করতে হচ্ছে, মহিলা কেন রেহাই পেল!
‘আমার জানা দরকার কেন পুরুষরাই কেবল সাজা পায়, নারীরা নয়। আমি এক সৌদি নারী এবং আমি চাই এই নারীরও শাস্তি হোক। কাজের জায়গায় বসে হাসি-ঠাট্টা আর খাওয়া-দাওয়া..... তোমাদের সীমা কোথায়’, টুইটারে মন্তব্য করেছেন মালাক নামে একজন।
তবে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। তারেক আবদুল আজিজ নামে একজন লিখেছেন, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সহকর্মীদের একসঙ্গে রসিকতা করা বা খাওয়া-দাওয়া করার অধিকার থাকা উচিত।
কিন্তু অন্য একজন বলেছেন, বিদেশিদের সঙ্গে সৌদি নারীদের কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার কারণে সৌদিদের অনেক সামাজিক অনুশাসন, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তবে সৌদি আরবে এ ঘটনা নিয়ে যে রকম শোরগোল শুরু হয়েছে, তাতে মিশরের মানুষ খুব অবাক। এ রকম একটি নির্দোষ ভিডিওর কারণে যে কাউকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, সেটা নিয়ে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি সৌদি আরবে যেখানে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে কীভাবে এ রকম একটি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
টেলিভিশন উপস্থাপক ওসামা গাউইশ বলেছেন, ‘সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান না এক নতুন মুক্ত সৌদি আরব চান যেখানে কনসার্ট, সিনেমা আর সমুদ্র সৈকত থাকবে? আর সোনিয়া নামে এক মিশরীয় নারী বলেছেন, এটি আসলে কিছু সৌদি পুরুষের ‘ভঙ্গুর অহমিকার’ ফল। সূত্র : বিবিসি