আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভাসমান বেডে মশলা ও সবজি চাষ

মশিয়ার রহমান, কেশবপুর
| সুসংবাদ প্রতিদিন

যশোরের কেশবপুরে ভাসমান বেডে মশলা ও সবজি চাষ এলাকার কৃষককে আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে। স্থানীয় ভাষায় একে ধাপ চাষ বলে। ধাপ চাষে স্বাবলম্বী হওয়ায় জলাবদ্ধ এলাকার কৃষক এ চাষ পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জলাবদ্ধ জায়গায় নানা জাতের মশলার পাশাপাশি শাকসবজি ও চারা উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠায় ধাপ চাষ পদ্ধতি এলাকার কৃষকের কাছে পছন্দনীয় হয়ে উঠেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভাসমান বেডে মসলা ও সবজি চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের আওতায় ত্রিমোহিনী, বিদ্যানন্দকাটি, সুফলাকাটি, মঙ্গলকোট, কেশবপুর সদর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকার কৃষক ভাসমান বেডে লতাবিহীন সবজি, লতা জাতীয় সবজি ও মশলা জাতীয় ফসল চাষ করছেন। সরেজমিন পৌর এলাকার বুড়িভদ্রা নদীর পাশে জলাবদ্ধ জায়গায় কৃষক ধাপ চাষের মাধ্যমে লালশাক, সবুজশাক, বরবটিসহ নানা জাতীয় সবজি উৎপাদন করে চলেছেন। ত্রিমোহিনী এলাকার কৃষক সোহরাব হোসেন, শহিদুল ইসলাম, মঙ্গলকোট এলাকার লিয়াকত আলী, হাফিজুর রহমান, পৌরসভার বায়সা এলাকার আবদুল মালেক, আবদুল কুদ্দুস, সুফলাকাটি এলাকার সাইফুল ইসলাম, আইয়ুব আলী, কেশবপুর সদর এলাকার রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম, বিদ্যানন্দকাটি এলাকার হাবিবুর রহমান ও আকবর আলী জানান, তারা জলাবদ্ধ জায়গায় কচুরিপানা তুলে পচাতে দেন। এক সপ্তাহ পর তারা পচা কচুরিপানা দিয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট চওড়া এবং ৩০ থেকে ৩৫ ফুট লম্বা ধাপ তৈরি করে ভাসিয়ে রাখেন। তারা ভাসমান ধাপের ওপর গোলাকৃতির ট্যামা তৈরি করে লালশাক, পালংশাক, ঢ্যাঁড়শ, টমেটো, শিম, মিষ্টিকুমড়া, লাউয়ের বীজ বপন এবং বেগুন, মরিচ, ওল কপি, ফুল কপির চারা রোপণ করেন। ধাপ চাষে উৎপাদিত শাকসবজিতে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়েও চাষি বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। উপজেলার  জলাবদ্ধ এলাকায় কৃষক ধাপ চাষ করে চলেছেন। দিন দিন এ চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন তারা। এ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষানিরাও। 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধাপ চাষের মাধ্যমে মশলা জাতীয় কাঁচামরিচ, ধনেপাতাসহ লালশাক, সবুজশাক, বরবটি, লাউ, শসা, করলা, ঢ্যাঁড়শ, পুঁইশাকের আবাদ হয়েছে। ধাপ চাষ লাভজনক। কৃষক জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি ধাপ চাষে সবজি উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ধাপ চাষে খরচও কম। রাসায়নিক সার ছাড়াই ধাপ চাষের মাধ্যমে শাকসবজি উৎপাদন করা যায়। এসব শাকসবজি খুব সুস্বাদু। হাটবাজারে ধাপ চাষের শাকসবজিসহ বিভিন্ন সবজির চারাও বিক্রি হচ্ছে। এসব এলাকায় কৃষককে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।