আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নির্বাচনি হাওয়া-মুন্সীগঞ্জ-৩

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কোমর বেঁধে মাঠে

মাসুদ রানা, মুন্সীগঞ্জ
| শেষ পাতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে এখনও মাসখানেক বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে পুরোদমে নির্বাচনি হাওয়া বইছে মুন্সীগঞ্জ-৩ (মুন্সীগঞ্জ সদর-গজারিয়া) আসনে। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনায়ন প্রত্যাশীরা কোমরবেঁধে মাঠে নেমেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে দুই উপজেলার অলিগলি, হাটবাজার, গ্রাম-গঞ্জ। দুর্গম চরাঞ্চলেও পোস্টার সাঁটানোর জায়গা নেই। একজনের পোস্টারের ওপর আরেকজনের পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তারা কেন্দ্রে জোর লবিং করছেন।

জানা গেছে, আসনটি দীর্ঘদিন বিএনপির দখলে ছিল। নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি দখল করে নেয়। পরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। আগামী নির্বাচনে তারা আসনটি ধরে রাখতে চায় আর বিএনপি চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম. ইদিস আলী প্রায় ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী এম. শামসুল ইসলামকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে দলটির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তিনি এবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বেশির ভাগ সময় এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। অনুদানও দিচ্ছেন। দলীয় লোকজন নিয়ে এলাকায় নিয়মিত  পথসভা ও বৈঠক করছেন। দীর্ঘদিন ধরে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দোয়া চেয়ে তার ব্যানার-পোস্টার শোভা পাচ্ছে শহর থেকে চরাঞ্চলগুলোতে। মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই প্রার্থী মনোনয়ন দেন। আওয়ামী লীগ সবসময় ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান নেতাকে গুরত্ব দেয়। আমার দক্ষতা, যোগ্যতা ও এলাকার জনসমর্থন বিবেচনা করে আমাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন দেবেন বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। এ আসনের সাবেক এমপি এম ইদ্রিস আলী সদর উপজেলার অশান্ত চরাঞ্চলের জনপদে তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন। এ কারণে তিনি ওইসব এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছেন। চরাঞ্চলের মানুষ তাকে একটু বেশি ভালোবাসেন। ২০১৪ সালেনানা কারণে নিজেকে মনোনয়ন না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দলের প্রধান শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। তিনি পোস্টার সাঁটিয়ে এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। জনসংযোগ চালাচ্ছেন সমানতালে। এ প্রসঙ্গে এম ইদ্রিস আলী বলেন, গত নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইনি। এবার দেখি ফের আবার মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলগুলোতে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। এলাকাবাসীর ইচ্ছায় আমি আবারও দলীয় প্রার্থী হতে চাই। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই বিজয়ী হব। এছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে আরও যারা মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছউজ্জামান আনিছ, মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়র ফয়সাল বিপ্লব, মিরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন, গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা। 
মিরকাদিম পৌর মেয়র শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আমার এলাকার জনসাধারণ ও তৃণমূলের কর্মীরা আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেতে চায়। তাই আমিও জনগণের কথা চিন্তা করে এমপি নির্বাচনের কথা ভাবছি। আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। তবে নেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন, আমি তার পক্ষেই কাজ করব। নৌকাকে বিজয়ী করব।
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছ উজ্জামান আনিছ বলেন, এলাকায় আমার ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। আমি মনোনয়ন পাব বলে আশা করছি। গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। তাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমি মনোনয়ন চাইব। দলের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা যে ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দিবেন, প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে আমি সফল। সে ক্ষেত্রে আমি মনোনয়ন পাব বলে আশা করছি। গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা বলেন, আমি মনোনয়ন চাইব। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছি।
এদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। আবদুল হাইয়ের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। অপরদিকে কামরুজ্জামান রতন বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে মনোনয়ন চাইব। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যাকে মনোনয়ন দেবেন, আমি তার পক্ষেই কাজ করব। 
এদিকে জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেনও মনোনয়ন প্রত্যাশী  হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।