আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

একান্ত সাক্ষাৎকারে মেয়র আরিফুল হক

সিলেটকে ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়তে চাই

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট
| প্রথম পাতা

সিলেটকে ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়তে চান দ্বিতীয় মেয়াদে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এজন্য নগরীর ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে চান তিনি। এছাড়া, নগরীর অসমাপ্ত কাজ শেষ করাও এ মেয়াদে তার মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে জানান তিনি। 

দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সাক্ষাৎকারে তিনি নগরী নিয়ে তার উন্নয়ন পরিকল্পনা, ডিজিটাল নগরী গঠন, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, নগরীর ছড়া-নালা উদ্ধার নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। 

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এবার নগর উন্নয়নের সঙ্গে নগরীর সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। বিশেষ করে নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘ক্লিন সিটি’ গড়তে  ফুটপাত দখলমুক্ত করার ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসন করতে ‘হলিডে মার্কেট’ চালু করবেন তিনি। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর বিশেষ পূর্ব লন্ডনের বিভিন্ন হলিডে মার্কেটের আদলে সিলেটে হলিডে মার্কেট স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। 

মেয়র আরিফ আরও বলেন, এবার তিনি ভিন্ন স্টাইলে নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চান। গতবারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নগর উন্নয়নে নতুন কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, নগরীতে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন এখন তার মূল অগ্রাধিকার। এ পরিকল্পনা নিয়েই তিনি মূলত এগোচ্ছেন। আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের পাশাপাশি নগরীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম চলবে। 
তিনি বলেন, সিলেটকে তিনি একটি সুন্দর সিটি হিসেবে গড়তে চাই। এর অংশ হিসেবে পরিবহন সেক্টরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই নগরীতে আলাদা পার্কিং জোন স্থাপন করা হবে। 
মেয়র আরিফ বলেন, নগরীর ছড়া-নালা উদ্ধারে নগরীতে ২৩৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকা এরই মধ্যে ব্যয় হয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীতে কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তিনি কোনো প্রকল্প হাফ-ডান (অর্ধেক) অবস্থায় রাখতে চান না। নগরীতে চলমান সব প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। 
মেয়র বলেন, সিলেটকে দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়ে ১২ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৬ তলা ভবনের মালিক হবে আইসিটি মন্ত্রণালয় আর ছয় তলা ভবনের মালিক হবে সিটি করপোরেশন। 
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে আগামীর সিলেট গড়ার ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’, ‘ড্রিম টিম’-এ শিক্ষিত বেকারদের চাকরির সুযোগ, নারীর জন্য পৃথক ইনস্টিটিউট ও টাউন বাস সার্ভিস, প্রযুক্তির সিলেট, খোলা উদ্যান চালু,  যানজট নিরসন ও হকার পুনর্বাসন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বস্তিবাসীদের জন্য স্যানিটারি কক্ষ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, লার্নিং রিসোর্স সেন্টার, পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ সুরমার জন্য ‘বিশেষ নজর’ ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। মেয়াদকালে তিনি নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা চালাবেন। 
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এবারের নির্বাচনে সিলেটবাসী তার প্রতি যে অভূতপূর্ব সমর্থন জানিয়েছেন, তা তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তাদের ভালোবাসায় তার জীবন ধন্য। সিলেটবাসীর এ ভালোবাসা, এ সমর্থন তার দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, নগরবাসী যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন, তিনি তাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। প্রত্যেকটি কাজে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা ও সৎ পরামর্শ চাচ্ছেন। নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত যে কোনো সৎ পরামর্শ তিনি গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, নগরবাসীর সব পরামর্শ অনলাইনে গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি ঘোষণা দেওয়া হবে। 
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ২০১৩ সালে সিলেটের মানুষ তাকে ৫ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। কিন্তু, দায়িত্ব পালনের ২৭ মাসই তাকে জেলে পুরে রাখা হয়। মাত্র ২৩ মাস তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার ব্যাপারে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হন। গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি অনুরূপ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। 
২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। পরে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত আরিফকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর ২৭ মাস তিনি ক্ষমতার বাইরে ছিলেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে রিট করে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল ফের মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ৯ জুলাই মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিল করেন তিনি। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী।