আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার বিএনপির মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -আলোকিত বাংলাদেশ

খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে এদেশে কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিলেই বোঝা যাবে, এ সরকার দেশে নির্বাচন চায়। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। 

কারাগারে আদালত বসানোর প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সরকার পতনের আন্দোলনে সব রাজনৈতিক দলের বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন দরকার আমাদের ঐক্য, ইস্পাত কঠিন ঐক্য। দলের মধ্যে সে ঐক্য তৈরি করে, জনগণের মধ্যে সে ঐক্য তৈরি করে, সব রাজনৈতিক দল ও সবাই মিলে সে ঐক্য তৈরি করে এ ভয়াবহ দানবকে সরিয়ে জনগণের সরকার, জনগণের গণতন্ত্র, জনগণের রাষ্ট্র তৈরি করতে হবে। 
নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির দাবিগুলো আবারও তুলে ধরে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে তফসিল ঘোষণার আগেই, সংসদ ভেঙে দিতে হবে তফসিল ঘোষণার আগেই। আমরা বলেছি, একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
সরকার সারা দেশে ভৌতিক মামলা দিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে গোটা জাতিকে জিম্মিতে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে। আমরা তার মুক্তি চাচ্ছি, এটা কোনো করুণা নয়। কোনো দয়া ভিক্ষা চাচ্ছি না। তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। অবশ্যই তাকে মুক্তি দিতে হবে, মুক্তি তার আইনগত প্রাপ্য।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য। কিন্তু দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আগামী নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সারা দেশের মানুষ যেমন এ দাবিতে একমত, সারা বিশ্বও বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়।
বেলা ১১টায় মানববন্ধন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা-কর্মীরা। ব্যাপক সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে মানববন্ধনটি সমাবেশের রূপ পায়। প্রেসক্লাবের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের একপাশ বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় যানজট।   
প্রেসক্লাবের ফুটপাতসহ সড়কের পাশে অবস্থান নেওয়া নেতা-কর্মীরা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, জেলের তালা ভাঙব, খালেদা জিয়াকে আনব’, খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন মানি না, মানব না’ সেøাগান ধরেন।
মানববন্ধন ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের এপিসি ভ্যান ও জল কামানও রাখা ছিল। মানববন্ধনের শুরুর আগে ও পরে প্রেসক্লাব ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ সংখ্যক নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক,  হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ছাত্রদলের রাজীব আহসান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বক্তব্য দেন।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সোমবার সকালে মহানগর ও জেলা বিএনপি আলাদা আলাদাভাবে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে পুলিশ কোনো বাধা দেয়নি। নগরীর মালোপাড়ায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও অন্য নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। অন্যদিকে জেলা বিএনপি মানববন্ধন করে নগরীর আলোকার মোড়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু। বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ম-ল, বিশ্বনাথ সরকার, সামিউল ইসলাম মুন, আলাউদ্দিন আলো, যুগ্ম সম্পাদক ওয়াদুদ হাসান পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন প্রমুখ।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সোমবার নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া মানববন্ধন দুপুর ১টায় শেষ হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরী সাদেকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা সহ-সভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা, একেএম তারেক কালাম প্রমুখ। 
খুলনা ব্যুরো জানায়, মহানগর ও জেলা বিএনপি পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মহানগর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মীর কায়সেদ আলী, মোল্লা আবুল কাশেম, তারিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ। এর আগে সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয় চত্বরে জেলা বিএনপির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, সকালে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে জেলা শহরের কলাবাগান এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ও ছাত্রদল সভাপতি শাহেদ সুমন বক্তৃতা করেন।
দুই শতাধিক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের অভিযোগ : ঢাকাসহ সারা দেশে অনুষ্ঠিত দলের মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বিএনপি। সোমবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আজ (সোমবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ও গাজীপুর, বাগেরহাট ও মেহেরপুরসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করতে আসা ও যাওয়ার পথে সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী বিনা উসকানিতে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করেছে। এ গ্রেপ্তারে রক্ষা পায়নি সাধারণ মানুষসহ নেতাদের গাড়িচালকরাও।