আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মেয়েকে বিক্রি করায় বাবার ৭ বছরের জেল

| খবর

ষ যশোর প্রতিনিধি

যশোরে মেয়েকে নিষিদ্ধ পল্লিতে বিক্রি করার অপরাধে বাবাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক অমিত কুমার দে এ আদেশ দেন।
দ-প্রাপ্ত বাবার নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মৃত মো. বাবুর ছেলে। তিনি বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন। জানা গেছে, বাঘারপাড়া উপজেলার ফুল মিয়ার মেয়ে সুফিয়া বেগমের সঙ্গে আসামি শরিফুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়। মেয়ের জন্মের এক বছর পর পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে তালাক হয়ে যায়। এরপর সুফিয়া বেগম মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এরই মধ্যে ১৫ বছর পেরিয়ে যায়। মেয়ের বয়স এখন ১৬ বছর। গেল বছর ৫ ফেব্রুয়ারি শরিফুল বাবার দাবি নিয়ে মেয়েকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। এরপর মেয়েকে আর ফেরত দেননি শরিফুল। অনেক খোঁজখবর করে মেয়ে ও শরিফুলকে কোথাও খুঁজে পাননি সুফিয়া। আট মাস পর বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) সহযোগিতায় ওই মেয়েকে ফরিদপুর জেলার একটি নিষিদ্ধ পল্লি থেকে উদ্ধার করা হয়। গেল বছর ২২ মার্চ শরিফুল নিজের মেয়েকে ওই নিষিদ্ধ পল্লিতে নিয়ে বিক্রি করে দেন। এ বিষয়ে শরিফুলকে আসামি করে মেয়ের নানা বাঘারপাড়া থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করেন।
এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ইদ্রিস আলী বলেন, বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নানাবাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে যান শরিফুল। পরে তাকে ফরিদপুরের একটি নিষিদ্ধ পল্লিতে নিয়ে বিক্রি করে দেন। এরপর বিএনডব্লিউএলএ’র সহযোগিতায় পুলিশ ওই মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় শরিফুলকে আদালত সাত বছরের সশ্রম কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন। শরিফুল কারাগারে আটক আছেন। মেয়েটি বিএনডব্লিউএলএ’র আশ্রয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনডাব্লিউএলএ যশোরের সমন্বয়কারী নাসিমা খাতুন বলেন, অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর আমাদের শেল্টার হোমে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে। দেড় বছর ধরে মেয়েটি আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে।