আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সাফ ফুটবলে ব্যর্থতা

তদন্ত করবেন সালাহউদ্দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

নেপালের কাছে হেরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙেছে বাংলাদেশের। ওই হতাশা ও স্ত্রীর অসুস্থতায় দুই দিন পর কালই বাফুফে ভবনে পা দেন সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। বৈঠক করেন ফিফার ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের পীড়াপীড়িতে কথা বলেন। ‘অনেক স্বপ্ন ছিল, আশাবাদী ছিলাম এবার আমরা ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়ন হব। 

প্রথম দুটি ম্যাচ ভালো খেলায় মাঠে দর্শক আসতে শুরু করেছিলেন। সেমিফাইনালে উঠতে পারলে ফুটবলে সুদিন ফিরত। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ছোট্ট একটা ভুলে স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আমি খুব হতাশ; হতাশা শুধু আমার নয়, সারা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের’Ñ কাল জানান বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। ভুটান (২-০) ও পাকিস্তানকে (১-০) হারিয়ে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল খেলার দারুণ সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের বিমল ঘাত্রির ৩৫ গজি ফ্রিকের শটের বল গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলের হাত ফসকে জালে; স্তব্ধ গোটা স্টেডিয়াম, দেশ! অথচ ২০০৩ সাফের পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পুনরুদ্ধারে এবারই ভালো সুযোগ ছিলÑ বিশ্বাস সারা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের।
স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় নিমজ্জিত দেশের ফুটবল। চারদিকে চলছে সমালোচনার ঝড়; সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে বাফুফে সভাপতির পদত্যাগের দাবি। ‘এটা স্বাভাবিক’, মানছেন বাফুফে সভাপতি, ‘দল হারলে কোচ ও বাফুফে সভাপতিকে দায় নিতেই হবে। কিছু করার নেই। গোটা বিশ্বেই এমন হয়ে আসছে।’ হতাশ হলেও ব্যর্থতায় মুষড়ে পড়ছেন না; বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ঘুরে দাঁড়াতে চান তিনি। সাফের ব্যর্থতার তদন্ত করে নতুন শুরু চান কাজী সালাহউদ্দিন, তাই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে এবার কারও ওপর ভরসা না করে নিজেই তদন্ত করতে নেমেছেন। জানান, ‘কোচ ছুটিতে ইংল্যান্ড গেছে, আমি তার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলব, টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে বসব। এরপর চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানাক।’
তবে বাফুফে সভাপতির কাছে কাল ঘুরে-ফিরে ‘কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, এশিয়ান গেমসে না থাকলেও জাকার্তায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য করা অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে বাদ দিয়ে সোহেলকে কেন একাদশে খেলানো; প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাবগুলো প্রি-সিজন প্রস্তুতি শুরু করলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর ক্যাম্প হয় না, জাতীয় দলের অনুশীলনকে বানিয়ে ফেলা হয়েছে আবাহনীর ফিটনেস ক্যাম্প। জাতীয় দলের ২০ খেলোয়াড়ের মধ্যে ৯ জন আবাহনীর, একাদশে খেলেন ছয়জন, আবাহনী ও জাতীয় দলের ম্যানেজারও একই ব্যক্তি।
জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ; তার সময়ে টানা দুটি সাফে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল জাতীয় দল। ২০১৫ কাঠমান্ডু সাফে সেমিফাইনাল খেলতে ব্যর্থ হওয়ার পর তৎকালীন চেয়ারম্যান আরেক সহ-সভাপতি বাদল রায় তদন্ত করেছিলেন; কিছু সুপারিশও করেছিলেন। কিন্তু কাজী নাবিল জবাবদিহিতার প্রয়োজন বোধ করছেন না; বরং সরকারি টাকায় নিজের ক্লাবের খেলোয়াড়দের ঘরোয়া মৌসুমের জন্য ফিট করিয়ে নিচ্ছেন, তিনি যে আবাহনীর পরিচালক!
ফুটবলাঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, জাতীয় দলের কোচের বেতন দেন কাজী নাবিল, এ কারণে তার কথামতো নাকি জাতীয় দল পরিচালনা হয়। প্রসঙ্গটা উঠলে কাল টেবিল চাপড়ে বাফুফে সভাপতি জানান, ‘না না, এটা সঠিক নয়। নাবিল একা টাকা দেন না। আমরা তিন-চারজন মিলে টাকা দিচ্ছি।’ তাহলে কি এবার নাবিলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে? নাকি ব্যর্থতার দায় বাফুফে সভাপতিকেই নিতে হবে। ম্যানেজার পদ নিয়ে বিতর্ক হওয়ায় রদবদল হতে পারে; বেতনভুক্ত ম্যানেজারের পক্ষে বাফুফে সভাপতি, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের আগে ‘সম্ভব কিনা, দেখি’, জানান তিনি।