আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সিসিক নির্বাচনে পরাজয়

আলোচনায় আওয়ামী লীগের চার নেতার ‘শোকজ’

সিলেট ব্যুরো
| নগর মহানগর

সিলেট সিটি নির্বাচনে (সিসিক) মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে যারা রয়েছেন তাদের ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি সিলেটে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, নৌকাকে পরাজিত করার নেপথ্যে থাকা নেতারা যতই প্রভাবশালী হন না কেন তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

দলের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার সিলেটের চার শীর্ষ নেতাকে শোকজ করার মাধ্যমে তার এ ঘোষণার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি এর মাধ্যমে দলের মধ্যে জবাবদিহিতা বাড়বে। নেতাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বেরও অবসান হবে।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তাদের মধ্যে মিসবাহ সিরাজ, আসাদ উদ্দিন আহমদ ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৪৫-এর (খ) এবং (ছ) ধারায় সিলেট সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া সিসিক নির্বাচনে কেন দলের নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে কাজ করলেন, কেন ৭টি ওয়ার্ডে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী ছিল না এবং সিলেট মহানগরে আওয়ামী লীগের কার্যালয় না থাকার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে কামরানের কাছে পাঠানো শোকজ নোটিশে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সোমবার দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এসব শোকজ নোটিশ কুরিয়ার যোগে পাঠানো হয়। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তাকে শোকজ করে নয়, বরং সিলেটে দলের কার্যালয় করা হয়নি কেন তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। তবে সে চিঠি এখনও তিনি হাতে পাননি বলেও জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে শোকজ নোটিশ এখনও তার হাতে এসে পৌঁছেনি।