আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গঙ্গাচড়ার ১৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি

রংপুর ব্যুরো
| শেষ পাতা

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে বাড়ির উঠান ষ আলোকিত বাংলাদেশ

বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে অনেক পরিবার

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি 
বিপদসীমার ওপর

 

উজানে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুরের তিনটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর সেতু পয়েন্টে ২৬ দশমিক ২৩ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি এ পয়েন্টে ১৮ ঘণ্টায় ৯৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, কচুয়া, চড় ইছলি, জয়রাম ওঝা, কোলকোন্দ ইউনিয়নের কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারীসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। কাউনিয়া পয়েন্টে যে কোনো সময় বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। এদিকে আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে। 

রহিমা নামের পানিবন্দি এক নারী বলেন, এত কষ্ট করে সংসার করি, সেই সংসার আমার ভাসি যাইবার লাগছে। খাওয়া নাই, নাওয়া নেই, পানিতে দাঁড়াইয়া আছি বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে। গরু-ছাগল সব আমার ভাসি গেছে। আব্বাস নামের একজন জানান, মানুষের যেমন তেমন, গবাদি পশুগুলো নিয়েই বেশি সমস্যা। গরু-ছাগল পানির মধ্যে দাঁড়াইয়া আছে। সালেমা নামের একজন জানান, হঠাৎ পানির কারণে খুবই সমস্যায় পড়েছি। বাথরুমে যাওয়া যাচ্ছে না। নিজের বাড়িতে রান্নার ব্যবস্থা নেই। তাই অন্যের বাড়ির খাবার খেয়েই থাকতে হচ্ছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণের কারণে উজানের ঢলে তিস্তা নদের পানি বাড়ছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে এসব নিচু ও চর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। 

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার ভাঙনে স্কুল, মসজিদ ও আশ্রয়ণ কেন্দ্র কিছুই নেই। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের তথ্য মতে, পানিবন্দি পরিবার হলো কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাউদপাড়া, কুড়িবিশ্বা, উত্তর কোলকোন্দ, চিলাখালচর, মটুকপুরচর বিনবিনা চরের ২ হাজার; আলমবিদিতর ইউনিয়নের ব্যাংক পাড়া, পীরপাড়ার ৫০০; নোহালী ইউনিয়নের বাগঢহরা চর, নোহালীর চর, মিনার বাজার, বৈরাতীর ৩ হাজার; মর্নেয়া ইউনিয়নের আলাল চর, তালপট্টি, মর্নেয়ারচরের ১ হাজার; লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইচলী, বাগেরহাট, শংকরদহচর, কাশিয়াবাড়ীর ২ হাজার; গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক গাউছিয়ার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার এবং গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের গান্নারপাড়, মাঝাপাড়ার ৫০০ পরিবার। 

তিস্তার পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, সোমবার ভারতের গজলডোবার ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা সতর্কী কেন্দ্রের বরাত দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর : লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহলসহ তিস্তা তীরবর্তী হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার কিছু গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু এলাকায় তলিয়ে গেছে আমন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ব বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তা ব্যারাজ কন্টোল রুম সূত্র জানায়, সোমবার রাত থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। 
পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী-ডালিয়া কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাতে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তা কমে গিয়ে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে দুপুর ১২টা থেকে পানি কমে তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভারত নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের তিস্তায় আকর্ষিকভাবে পানি বৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে।