আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গুজব শনাক্তে সরকারি কেন্দ্র হবে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রুখতে সরকারিভাবে গুজব শনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপি-জামায়াত চক্র গুজব রটনা সৃষ্টিতে পারদর্শী উল্লেখ করে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গুজব : গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ফেইসবুক, টুইটার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার পর দেখা গেছে, গুজব রটনায় সাধারণ অপরাধীদের পাশাপাশি বিদেশি চর ও মহলও জড়িত থাকে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটনা এবং মিথ্যাচারের যে ঢেউ উঠেছে, সেখানে সাধারণ অপরাধী চক্রের কথা বাদ দিলে বাংলাদেশ এবং পৃথিবীতে ইদানীং সবচেয়ে এগিয়ে আছে সাম্প্রদায়িক মহল, জঙ্গি মহল। তারা ক্রমাগত ধর্মের অপব্যাখ্যা এবং মিথ্যাচার ও গুজব রটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য সচিব আবদুল মালেকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বক্তৃতা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, গুজবের বিষয়ে দেশে কোনো ধরনের গবেষণা হয়নি।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গুজব রটছে জানিয়ে তিনি বলেন, উনি মরে যাচ্ছেন, এটা বাজে কথা। উনি সুস্থ আছেন এবং ডাক্তারের পরামর্শে আছেন। উনি অসুস্থ আছেন বলে একটা গুজব রটিয়ে সহানুভূতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। উনার দ- নিয়েও গুজব, মিথ্যাচার করা হচ্ছে, দ-টা ভুয়া, সঠিক যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ্যে আদালতে বিচার হয়নি। আপনারা জানেন, আদালত প্রকাশ্য। যে আদালতে উকিল, সাংবাদিক ঢুকতে পারেন, আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন, বিচারকাজ প্রকাশ্যে চলে; সে আদালত ভুয়া হতে পারে না। রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য গুজব রটানোর চেষ্টা চলছে। নির্বাচন নিয়েও সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামেগঞ্জে যাবেন সবাই জিজ্ঞেস করছেনÑ নির্বাচনটা হবে? বিএনপি-জামায়াত চক্র এবং কিছু মহল বলেই দিয়েছে, নির্বাচন করতে দেবে না, নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না। নির্বাচন সম্পর্কে একটা সন্দেহের ফানুস তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করতে পারে। মিথ্যাচার বা গুজব উৎপাদনের প্রধান কারখানা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক জঙ্গি চক্র।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গুজব রটনাকারীদের ওপর যখন হস্তক্ষেপ করা হয়, তখন একটা মহল বলে গণতন্ত্র গেল, বাকস্বাধীনতা গেল বলে হইচই শুরু করে। ফলে গুজব রটনাকারী এবং মিথ্যাচারে যারা আশ্রয় নেন, তারা রেহাই পেয়ে যান এবং দেশে বিভ্রান্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ফেইসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পবিত্রতা যদি রক্ষা করতে চান, তাহলে গুজব রটনাকারীদের কালো থাবা থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর যে অঙ্গীকার, সেটার ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে। এ মাধ্যমের পবিত্রতা বা স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গুজব ও মিথ্যাচার রটনাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।