আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আওয়ামী লীগে একক বিএনপির দুইজন মাঠে

মুসাফির নজরুল, মাগুরা
| শেষ পাতা

মাগুরা-২ আসনটি মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলা এবং সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এখানে মাঠে রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি; বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী এবং দলটির নেতা সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল। 

মাগুরা-২ স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৯৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর এ আসনে চারবার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামানের মৃত্যু হয়। ১৯৯৪ সালে আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি কাজী সালিমুল হক কামাল (কাজী কামাল) নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়। ওই উপনির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি ও কারচুপি’র অভিযোগ এনে পরবর্তি সময় আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলো সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন করে। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার বিএনপির প্রার্থী কাজী সালিমুল হক কামালকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। 

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাজী সালিমুল হক কামাল আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চুকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। অ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সাবেক মন্ত্রী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার আবারও এমপি নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

ড. বীরেন শিকদার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে জানান, এলাকার জনগণের সঙ্গে সব সময়ই তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি সপ্তাহে দুই দিন নির্বাচনি এলাকায় এসে জনগণের সুখ-দুঃখে সময় দেওয়াসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার নির্বাচনি এলাকা মহম্মদপুরবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন মধুমতী নদীর ওপর ‘শেখ হাসিনা সেতু’ নির্মাণ, শালিখায় উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা, মাগুরায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া এরই মধ্যে মহম্মদপুর উপজেলাসহ সদরের চার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে বলে জানা গেছে। 

এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কু-ু ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চু, মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। 

অন্যদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। অবশ্য তিনি মাগুরা-২ আসনের বাসিন্দা হলেও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রফেসর ডাক্তার সিরাজুল আকবরের কাছে পরাজিত হন। আবার ২০০৮ সালে মাগুরা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট বীরনে শিকদারের কাছে পরাজিত হন। 

অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী জানান, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী হলেও মাগুরা-২ আসনই তার মূল আসন। এ আসনের মানুষ তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছেন। তিনিই এ আসনে মনোয়ন পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাসী। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা’য় জেলে রয়েছেন। জেলের বাইরে থাকাকালে তিনি নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী ও জেলা বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জেলে আছেন কাজী সালিমুল হক কামাল। তবে তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। এমপি থাকাকালীন তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি মুক্তি লাভ করে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে আশা করেন তিনি।