আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রূপসায় ঘর পেয়ে খুশি ১৪৬ পরিবার

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা
| সুসংবাদ প্রতিদিন

পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে কোনো রকমে তিন সদস্যের সংসার চলে খুলনার রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিস্ত্রি বরুণ হালদারের। নিজের একার আয়ে সচ্ছলতা না আসায় স্ত্রী অনন্ত হালদারও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দারিদ্র্যের কারণে থাকার জন্য ভালো ঘরও তৈরি করতে পারেননি। তাই বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ত। ঝড়-বৃষ্টির রাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুমাতে পারতেন না। এছাড়া বাথরুম সংযুক্ত পাকা দেওয়ালের ঘর তার পক্ষে কখনোই করা সম্ভব হতো না। কিন্তু আজ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাকা ঘরে থাকার স্বপ্ন তার পূরণ হয়েছে। 

বরুণের মতো রূপসা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরকারের ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪৬টি পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঘর পেয়ে হাসি ফুটেছে দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মুখে। তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে এখন আনন্দে আত্মহারা। 

খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রাম তৈরি করে ভূমিহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু যাদের কিছু জমি আছে অথচ ভালো ঘর নেই, অর্থাৎ দরিদ্রতার কারণেই তারা ঘর তৈরি করতে পারছে না। তাদের জন্য ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্প করে ১ লাখ টাকায় প্রত্যেককে একটি করে ঘর   তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই আলোকে রূপসায় ১৪৬টি ঘর তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছুর রহমান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। জেলার ৯টি উপজেলায় জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৭১৮টি এবং ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ হাজার পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করার কাজ চলছে। 
রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামের ৫ সন্তানের জননী ছবেদা বেগম বলেন, ‘কখনও ভাবিনি দালান ঘরে ঘুমাব। সারা দিন বাড়ি বাড়ি কাপড় বিক্রি করে রাতে ঘরে ফিরে মাটির তৈরি দেওয়াল ঘরে থাকতে ভালো লাগে না। পানি পড়লে কাদা হয়ে যায়। স্বপ্ন ছিল মৃত্যুর আগে পাকা ঘরে ঘুমানোর। সেই স্বপ্ন পূরণ করল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’। 
একই গ্রামে দৈনিক মজুরিভিত্তিক  কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন মলয় দাস। একযুগের বেশি সময় ধরে পৈত্রিক জমিতে তৈরি ভাঙ্গা ঘরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। আশা ছিল দালান ঘরে পরিবার নিয়ে থাকার। কিন্তু আয়ের সঙ্গে পেরে উঠতেন না। বর্তমান সরকারের জনবান্ধব পদক্ষেপে তার আশা এবার পূরণ হয়েছে। 
কাজদিয়া গ্রামের নবকুমার সেন তিন সন্তানের জনক। মেয়ে দুটি বিবাহিতা আর ছেলে অনার্স পড়ে। শাখা শ্রমিকের কাজ করতেন টিনশেডে বসে। এত দিন ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করলেও এখন তার বাড়িতে উঠেছে ইটের দেয়ালসমৃদ্ধ টিনশেড ঘর। সঙ্গে রয়েছে টয়লেটও। এটি তার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি বলেন, এখন হয়ত তাদের একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো। আগে ঝড় হলে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হতো। এখন আর তার প্রয়োজন হবে না। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, প্রকল্পের আওতায় রূপসায় পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে ১৪৬টি পরিবারের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তাতে ১৪৬টি ঘর অনুমোদন হয়ে নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ১ লাখ টাকা করে যে বাজেট সরকার থেকে দেয়া হয়েছে তা দিয়েই নির্দিষ্ট ডিজাইনের বাইরে গিয়ে একটু ভিন্ন কায়দায় তৈরি করা হয়েছে রূপসা উপজেলার ঘরগুলো। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এটিই সর্বোৎকৃষ্ট সুযোগ। তাই সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্যই টিনের বেড়ার পরিবর্তে ইটের দেওয়াল দেওয়া এবং সংযুক্ত টয়লেট করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। 
রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা থেকেই তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য ঘর তৈরির এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাত্র ১ লাখ টাকায় একটি রুম হলেও ইটের দেওয়াল সংযুক্ত টয়লেট ঘর তৈরি করে দেওয়ায় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।