আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৭-১০-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি

চাহিদা পূরণে সরকারের নতুন উদ্যোগ

| সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে ভারত। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিডের মাধ্যমে এ বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে। সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবও কলকাতা ও আগরতলা থেকে এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। 
বর্তমানে ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ার পর ভারত থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াটে। স্থানীয় চাহিদা পূরণে এটি সরকারের নতুন উদ্যোগ। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ভারত থেকে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে। পরের বছর দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ভেড়ামারা আন্তঃসংযোগ গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়। এরপর নতুন করে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ ও এর সঙ্গে ভেড়ামারা-ঈশ্বরদী ২৩০ কিলোভোল্ট (কেভি) ‘ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন’ নির্মাণ করা হয়।
অতীতের সব সরকারের মতো বর্তমান সরকারেরও একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো। এ ব্যাপারে শুরু থেকেই সরকারের শীর্ষ মহল বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিল এবং দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে দ্রুতই বিদ্যুতের সুফল পেতে শুরু করে দেশের মানুষ। চাহিদার বেশকিছুটা পূরণ হয়। রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক হ্রাস পায়। সার্বিক দিক বিবেচনায় বলা যায়, বিদ্যুৎ খাতে সরকার সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে, সে অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ছে না। তাই এ সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি করতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। উল্লেখ্য, দেশ বর্তমানে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এতে নিয়মিত উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রয়োজন অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নবায়ন ও মেরামতের। একই সঙ্গে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের সক্ষমতা বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।