আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ

মাছুম বিল্লাহ
| সম্পাদকীয়

এনটিআরসিএ’র গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শূন্যপদের চাহিদা দিতে চায় না, তারা ম্যানেজিং কমিটির পরামর্শে খ-কালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার এক কালচার তৈরি করেছে। ফলে মান নিয়ন্ত্রণের জায়গাটি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রতি বছর দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বের হচ্ছে। তাদের একটি ভালো অংশ চাকরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে ২ লাখ বিদেশি ব্যবস্থাপক, পরামর্শক, প্রকৌশলী ইত্যাদি কর্মীকে আমাদের নিয়োগ দিতে হয়। কারণ আমাদের শিক্ষা যথাযথ মানসম্পন্ন নয়। মানসম্পন্ন না হওয়ার সর্বপ্রধান কারণ মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব। শুধু উন্নতমানের পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচি তৈরি করলেই উন্নতমানের শিক্ষা হয় না। কাগজে লিখিত এসব পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচিকে জীবন্ত ও অর্থপূর্ণ করেন শিক্ষক। উপযুক্ত তথা মানসম্পন্ন শিক্ষক শুধু যথাযথ শিক্ষা দানই করেন না, শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলেন এবং উন্নত ও মহৎ জীবনাদর্শে উদ্বুদ্ধ করেন। সে কারণেই শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। আর জ্ঞান ও গুণে সমৃদ্ধ মানুষই হলো উন্নয়নের চাবিকাঠি।’  সিরাজুল ইসলাম স্যার যথার্থই বলেছেন। আমরা জানি, দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষকের সংকট রয়েছে শিক্ষা বিভাগের সব স্তরেইÑ প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে এ সংকট প্রকট।
প্রাথমিক শিক্ষার বিশাল অংশ সরকারি অথচ এ পর্যায়ের শিক্ষকদের এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই। মাধ্যমিক পর্যায়ের সিংহভাগই বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত হয়। সেখানেও মানের বিশাল প্রশ্ন রয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের চিত্র ভয়াবহ। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তার ও টাকাপয়সার লেনদেন করে বহু অযোগ্য ব্যক্তি শিক্ষকতার মতো একটি মানব ও সমাজ গঠনমূলক কাজে ঢুকে পড়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের জন্য তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করে ক’বছর আগে। আশা ছিল স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন, তাদের আত্মীয়স্বজন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ্য ও উপযুক্ত শিক্ষক পাবে। যদিও শুধু এ একটিমাত্র বিষয় যোগ্য ও উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তারপরও এক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে গঠন করা হয় এনটিআরসিএ বা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির পরিবর্তে এনটিআরসিএ’র হাতে গেলেও সমস্যার পাহাড় টপকে শিক্ষক নিয়োগে আশার আলো আর দেখা যায়নি। এনটিআরসিএ’র গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শূন্যপদের চাহিদা দিতে চায় না, তারা ম্যানেজিং কমিটির পরামর্শে খ-কালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার এক কালচার তৈরি করেছে। ফলে মান নিয়ন্ত্রণের জায়গাটি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
সারা দেশে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এনটিঅরসিএ সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনের তালিকা চাওয়া হয়েছে। এ তালিকায় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পদ সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজারের বেশি। এসব শূন্যপদে যোগ্য বিবেচিতদের নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ করা হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের নতুন আইন ও নীতিমালা অনুসারে সুপারিশকৃতদের নিয়োগ দিতে হবে প্রতিষ্ঠানকে। এক্ষেত্রে আর কোনো ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নেই প্রতিষ্ঠানটির। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের জন্য ওই আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ সূত্র বলছে, আগামী এক মাসের মধ্যে শূন্য আসনের তালিকা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাওয়া হয়েছে। তারই ভিত্তিতে চাহিদা তালিকা প্রকাশ করার প্রস্তুতি চলছে। এ দিকে তালিকা পাওয়ার আগেই এনটিআরসিএ ১০ জুলাই (২০১৮) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে সর্বশেষ (এক থেকে এগারো) শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ প্রার্থীর মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রকাশিত মেধাতালিকা নিবন্ধিত শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, কারণ তালিকাটি নানামাত্রিক ভুলে পরিপূর্ণ। তালিকায় পুরুষ শিক্ষকের নামে মহিলা শিক্ষকের নাম, মহিলার জায়গায় পুরুষের নাম, একই ব্যক্তি ও একই বিষয়ে শিক্ষকের নাম ভিন্ন তালিকায় ভিন্ন নামে স্থান পেয়েছে। নামের বানান-নম্বর ভুলসহ বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে।
গেল ৯ এপ্রিল ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফলে স্কুল-২ পর্যায়ে ৬২৪ জন, স্কুল পর্যায়ে ১৫ হাজার ৩৬২ এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ হাজার ৮৭৭ জনসহ মোট ১৯ হাজার ৮৬৩ প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩১৮ জন। স্কুল পর্যায়-২-এ ২৩টি, স্কুল পর্যায়ে ২৩টি এবং কলেজ পর্যায়ে ৩৫টিসহ মোট ৮১টি বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এর আগে গেল বছরের ২৫ আগস্ট প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় স্কুল পর্যায়ে ৫ লাখ ৩ হাজার ৩৮ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ লাখ ৩ হাজার ৬১২ জনসহ মোট ৮ লাখ ৬ হাজার ৬৫০ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ফল প্রকাশের পর অসঙ্গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা অসঙ্গতির তথ্য শেয়ার করেছেন। কয়েকটি পত্রিকা থেকে নেওয়া কিছু তথ্যÑ মোহাম্মদ তারেকুর রহমান (রোল নং-৩১১০৩৪১৯) রোল নম্বরে পরীক্ষা দিয়ে একই রোল নম্বরে পাসের ফলে এসেছে একজন নারী প্রার্থীর নাম। তিনি ফেইসবুকে লিখেছেনÑ ‘হোয়াট ইজ দ্য প্রবলেম?’ জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন লিখেছেনÑ ৩১১০৯৯৫৬ নম্বরে ফল এসেছে শামীমা ইয়াসমিন নামের একজনের। মো. শরীফ আহমেদ (রোল নং ৩১১১২৮৪৬) পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন জিসন বড়–য়া নামের এক প্রার্থী। মো. আবু আলম নামে একজন পোস্ট দিয়েছেন, রোল নং আমার স্ত্রীর, পাস করেছেন ইব্রাহিম। তার স্ত্রী ৩১১০০৩১১ রোল নিয়ে বিজনেস স্টাডিজে পরীক্ষা দিলে একই রোলে ফল আসে ইব্রাহিম তালুকদার নামে এক প্রার্থীর। শাহীন মাহমুদ নীরব লিখেছেনÑ যারা লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের সবাইকে লিখিত পরীক্ষার নম্বর জানানো হোক। তা হলে বোঝা যাবে কার কী অবস্থা, কে কত নম্বর পেয়েছেন। পোস্ট নেই বলে পাস করাবে না, এমন হবে না। কীসের ভিত্তিতে পাস করানো হয়েছে, তাই পাস করলে সার্টিফিকেট দিতে হবে। সম্মিলিত মেধাতালিকা গেল কই। এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার সঙ্গী হিসেবে স্থান পাননি অনেকে। তাই চেয়ারম্যানকে অপদস্থ করতে ফলাফলে অসঙ্গতি করা হয়েছে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। তাদের নিজেদের মধ্যে রেষারেষির বলি হচ্ছেন সাধারণ নিবন্ধনকারীরা। আইনি জটিলতার কারণে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতার মধ্যে নতুন এ ফলের অসঙ্গতি নিয়ে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত জাতীয় ঐক্য পরিষদ আইন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই চলছে আমাদের শিক্ষক নিয়োগ, মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের কাজ। কবে আসলে বিষয়টিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে? 
৪০ নম্বর পেলে বিজ্ঞপ্তিতে পাস করার কথা বলা হলেও অনেকেই ভালো পরীক্ষা দিয়ে রোল না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। মো. মাজহারুল ইসলাম নামের একজন লিখেছেনÑ ‘জীবনে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষায়ই ফেল করিনি অথচ ১৪তম নিবন্ধনের স্কুল, কলেজ দুই পর্যায়ে ফেল দেখাচ্ছে। কিন্তু ১৩তমে আমার উপজেলায় আমিই প্রথম হয়েছি। সেই আমিই আবার ১৪তমতে ফেল। শুনলাম যাদের উপজেলায় পোস্ট ফাঁকা নেই তাদের পাস করায়নি। তা হলে আমার প্রশ্ন হলো, আমার উপজেলায় যদি পোস্ট না থাকে, তাহলে কেন আমাকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হলো এবং আমার মতো লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭৫০ টাকা, যাতায়াত খরচ আরও ১ হাজার টাকা নেওয়া হলো।’ এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন। যে উপজেলায় শিক্ষক প্রয়োজন নেই, সেই উপজেলার কোনো প্রার্থী পরীক্ষা দিয়ে ভালো করলেও তাকে ফেল করানো হবেÑ এটি কোন অদ্ভুত নিয়ম? তাহলে বলা হতো যে, অমুক উপজেলায় কোনো পদ খালি নেই, অতএব ওখান থেকে কাউকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এটিইবা কীভাবে হয় যে, একটি উপজেলায় এক বা দেড় বছরে কোনো শিক্ষক প্রয়োজন হবে না?
একটি দৈনিক পত্রিকার একটি লেখা থেকে জানলাম যে, সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় হাজার হাজার শূন্যপদ থাকলেও কর্তৃপক্ষ চার বছরে মাত্র ৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন, যা ২০১৬ সালে সংঘটিত হয়। যথাসময়ে নিয়োগ না হওয়ায় লাখ লাখ নিবন্ধিত শিক্ষক হতাশায় দিন পার করছেন। প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধিত শিক্ষকদের নিবন্ধন পরীক্ষা মোটামুটি একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হলেও ত্রয়োদশ নিবন্ধন থেকে পরীক্ষা সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে বিসিএসের আদলে যেমন প্রথম প্রিলিমিনারি, লিখিত ও পরে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এনটিআরসিএ থেকে বলা হয়েছিল, ত্রয়োদশ ব্যাচের নিবন্ধনকারীদের আলাদাভাবে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। বাছাই প্রক্রিয়া ভিন্নতর হওয়ায় সম্ভবত কর্তৃপক্ষ এরূপ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেটির ব্যাপক প্রচার, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বিষয়টিতে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। এনটিআরসিএ’র বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন এলোমেলো সিদ্ধান্ত, সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাতিল করে আবার আগের মতো ‘ম্যানেজিং কমিটি’র মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না জানি না, তবে এটি করা হলে তা শিক্ষার জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে। এরই মধ্যে বহু লোক তথাকথিত ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করে এ মহান পেশাটির বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। আবার সেই পুরানো সিদ্ধান্তে চলে গেলে তা জাতির শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় হুমকির সৃষ্টি করবে। 
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিট বা সেল উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করা শুরু করল, আর পুরানো সেই দুর্নীতির চিত্রই প্রতিফলিত হলো! এসব জায়গায় অর্থ বিনিময় ছাড়া কোনো কাজ হয় নাÑ এটি একটি সত্য কথা। তারপরও কেন এটি করা হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ একটি ‘বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন’ গঠন করার কথা বলে আসছেন। কিন্তু কেউ তা গুরুত্ব দেয়নি। আবার শোনা যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন (এনটিএসসি) গঠনের উদ্দেশ্যে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যেটি আলোচনার জন্য ২২ জুলাই বসার কথা। জানি না বসেছে কি না। এ কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে, আর প্রস্তাবনা ও সুপারিশ চলছে বহু বছর ধরে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হবে প্রার্থীদের। ওই পরীক্ষাগুলোর ওপর ভিত্তি করে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এটি করা হলে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বচ্ছতার মধ্যে চলে আসবে, আর আমরা হয়তো একশতভাগ না হলেও বর্তমান অবস্থার চেয়ে বহুগুণ ভালো শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাপনা উপহার পাব। কিন্তু আসলেই এটি হবে কি? তারপরও আশায় বুক বেঁধে রইলাম। 

মাছুম বিল্লাহ
ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত
[email protected]