আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুশয্যায় রোগী

চট্টগ্রাম ব্যুরো
| নগর মহানগর

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিন দিন বেড়েই চলেছে দালালের দৌরাত্ম্য। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হয় দালালের খপ্পরে। এমন একজন রোগী দালালের খপ্পরে পড়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ৪ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পা ভেঙে যায় চকরিয়ার আবু তালেব লিটনের। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়। চমেকে দালালের খপ্পরে পড়ে এখন মৃত্যু পথযাত্রী লিটন। দালালের খপ্পরে পড়ে পরিবারের সদস্যরা সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি পিপলস হাসপাতালে ভর্তি করেন লিটনকে। সেখানে থেকে ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। সূত্র জানায়, ৪ সেপ্টেম্বর রাতে পায়ের অপারেশনের জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি হন কক্সবাজারের চকরিয়ার আবু তালেব লিটন। ওইদিনই তাকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয়। এর আগে বাবা বশির আহমেদ, চাচাতো ভাই মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন লিটন। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর হাসপাতালে থাকা লিটনের আত্মীয়স্বজনকে ২ ঘণ্টা পর তার সঙ্গে দেখা করা যাবে বলে জানানো হয়। কিন্তু ৩ ঘণ্টা পর লিটনের সঙ্গে ভাই মুসলিম উদ্দিন দেখা করতে চাইলে পিপল?স হাসপাতালের কর্মকর্তারা তাকে দেখা করতে দেননি। পরে একজন কর্মকর্তা এসে মুসলিমকে সকালে দেখা করা যাবে বলে জানান। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সকালে লিটনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও মুসলিমকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে ওইদিন বিকালে তিনি খবর পান তার ভাই লিটনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সার্জিস্কোপ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে খোঁজ নেওয়া হলে প্রথমে সার্জিস্কোপ বিষয়টি অস্বীকার করে। কয়েক ঘণ্টা পর আবারও সার্জিস্কোপে যোগাযোগ করলে মুসলিমকে লিটনের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়।

চাচাতো ভাই মুসলিম উদ্দিন বলেন, এক পর্যায় আমরা জানতে পারি পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশনে নেওয়ার আগে ভুল ইনজেকশন দিয়ে দেয়। পরে রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে সার্জিস্কোপে ভর্তি করেন তারা। এজন্য আমাদের কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি। 
এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর লিটনের বাবা বশির আহমেদ বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পিপলস হাসপাতালের ডা. আর রহমান, ডা. তপন ও ডা. আবদুল আহাদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ দেওয়া হয়। 
পাঁচলাইশ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, পিপলস হাসপাতালের তিন ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বেসরকারি পিপলস হাসপাতাল এবং সার্জিস্কোপ হাসপাতালের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। চমেক হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য বিষয়ে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব জায়গায় দালাল রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল চমেকেও দালালরা বিভিন্নভাবে রোগীদের হয়রানি করার চেষ্টা করে। আমরা হাসপাতালের দালাল দেখতে প্রতিহত করতে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি। যদি রোগী ও রোগীর স্বজনরা সচেতন হয় তাহলে কোনো দালাল তাদের কাছে ভিড়তে পারবে না।