আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মেক্সিকোতেই পুনর্জন্মের সুযোগ ম্যারাডোনার

| খেলা

মেক্সিকো তার প্রাণের দেশ। ১৯৮৬ সালে এ মাটিতেই গোটা বিশ্ব দেখেছিল ম্যারাডোনার জাদু। অ্যাজটেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনালে সাবেক পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ দুই হাতে তুলে ধরেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। ৩২ বছর পর সেই দেশই আপন করে নিল বাঁ পায়ের জাদুকরকে। এবার অবশ্য তার ভূমিকা একেবারেই অন্যরকম। দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব ডোরাডোসের কোচের পদ গ্রহণ করার পর তাই ম্যারাডোনা বললেন, ‘১৪ বছর আমি অসুস্থ ছিলাম। কিন্তু এখন সূর্য দেখতে চাই। চাই রাতে ঘুমাতে। বালিশ কী তা জানতাম না অনেক দিন। সেই অন্ধকার অতীত ভুলে গিয়েই মেক্সিকোয় এসেছি। ডোরাডোসের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছি। জানি, একমাত্র ফুটবলই পারে আমায় সবকিছু ফিরিয়ে দিতে।’

সপ্তাহ খানেক আগে এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা স্বীকার করেছিলেন যে মাদক নেওয়ার কারণেই তার ফুটবল জীবন উজ্জ্বলতর হতে পারেনি। তাক বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘ইউরোপে পা দেওয়ার আগে আমি ডিফেন্ডারদের ত্রাস ছিলাম। কীভাবে ওদের বোকা বানাতে হয়, তা ছিল আমার মুখস্থ। কিন্তু মাদকাসক্ত হওয়ার জন্য অনেক আগেই থেমে যেতে হয়েছে। এ অসুস্থতার সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে প্রতিপক্ষ। যে স্তরে পৌঁছানোর কথা ছিল তা হয়নি। এখন আমার বয়স ৫৭। কিন্তু দেখতে লাগে ৭৮’এর মতো। কারণ, জীবনের বেশ কিছু সময় আমার জীবনযাপন ঠিক ছিল না।’ 
সোমবার ডোরাডোসের মাঠে হাজির হয়েছিলেন নতুন কোচ ম্যারাডোনা । তাকে দেখার জন্য সমর্থকের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় ক্লাব অনুরাগীদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন তিনি। মুষ্টিবদ্ধ হাত দুই দিকে তুলে ম্যারাডোনার আশ্বাসবাণী, ‘ফুটবল আমায় অনেক কিছু দিয়েছে। আবার সম্মান কেড়ে নিতেও কার্পণ্য করেনি। এবার আমি এ খেলাটিকে কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই। আর এর জন্য কোচিংই একমাত্র পথ। প্রশাসনে আমি নিজেকে জড়াতে চাই না। ডোরাডোস আমায় পুনর্জন্মের সুযোগ দিয়েছে। তা কাজে লাগানোই একমাত্র লক্ষ্য। এ ক্লাবে দীর্ঘদিন থাকতে চাই।’ সাংবাদিক সম্মেলনেও দারুণ মুডে পাওয়া যায় ম্যারাডোনাকে। ডোরাডোসের ১০ নম্বর জার্সি হাতে নিয়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের বলেন, ‘বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ এসেছিল।