আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সেই মালদ্বীপ ফাইনালে!

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

দ্বাদশ সাফের দল গঠন নিয়ে ক্ষোভ শুরু মালদ্বীপে; দেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলার আলী আশফাককে আনেননি ক্রোয়েশিয়ান কোচ পিটার সেগাত। ঢাকা সাফের গ্রুপ পর্বে দলের নৈপুণ্য নিয়েও সন্তুষ্ট ছিলেন না দ্বীপবাসীরা; শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ভারতের কাছে হারে ২-০ গোলে। মাত্র ১ পয়েন্ট পেলেও লঙ্কানদের টসে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। তাতে ক্রোয়াট কোচকে বরখাস্ত করার পক্ষে মত দেন ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ নির্বাচকের তিনজন। সেমিফাইনালের আগে গণমাধ্যম পর্বে এ নিয়ে কড়া সমালোচনাও করেন কোচ, ‘গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এ ধরনের গুজব দলে প্রভাব ফেলতে পারে।’

তবে কাল শেষ চারে নেপালের বিপক্ষে যে গুজবের প্রভাব পড়েনি দলে, বোঝাতে মরিয়া ছিলেন দ্বীপের তরুণরা, বরং ৩-০ গোলে জয় দিয়ে পঞ্চমবার সাফের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন; চাকরি বাঁচিয়েছেন কোচের! অথচ দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে হালকা পিচ্ছিল মাঠে দারুণ শুরু করেছিল নেপাল। ৯ মিনিটে আকরাম আবদুল গনি ফ্রিকিকে গোল করার পর পাল্টে যায় মালদ্বীপ। গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলেও নেপালিরা শোধ দিতে পারেনি; বরং শেষ দিকে ৬ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল হজম করে বড় ব্যবধানে হারে। দুটিই করেছেন ইব্রাহিম ওয়াহেদ। দায় রক্ষণের হলেও গতিশীল ফুটবল খেলে ক্রমাগত আক্রমণ শানানোর ক্লান্তি ভর করেছিল নেপালিদের শরীরে।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পয়া এবং দুর্ভাগা ভাবতে পারে মালদ্বীপ! কারণ এর আগে যে চারবার সাফ ফাইনাল খেলেছে তারা, দুইবারই ঢাকায়, ২০০৩ ও ২০০৯। হার প্রতিবারই। অতীতের ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিতে চান সেগাত; শিষ্যদের খেলায় দারুণ খুশি কোচ বলেন, ‘যেভাবে এগোতে চেয়েছিলাম এখন পর্যন্ত হয়েছে। পিচ্ছিল মাঠে স্বাভাবিক খেলা সম্ভব ছিল না। তারপরও ছেলেরা জানবাজি রেখে খেলেছে। আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি। আমাদের ভাবনায় এখন ফাইনাল। প্রতিপক্ষ কে সেটা মুখ্য নয়, নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলেই সম্ভব।’
অন্তত চারবার গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন নেপালিরা। কিন্তু চূড়ান্ত পরিণতি দিতে পারেননি বিমল, অনন্ত, সুনীল, নিরঞ্জন, ভারতরা। তাদের আক্রমণ কখনও হুমড়ি খেয়েছে শারীরিক সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা দ্বীপের রক্ষণ দেয়ালে; কিংবা লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে নষ্ট হয়েছে।
পাকিস্তানের কাছে ২-১ গোলে হার দিয়ে আসর শুরু করা নেপালের শেষও হলো করুণ! আবার প্রমাণ দিল সাফে শেষ চারই নিয়তি হিমালয়ানদের! ছয়বার সেমিফাইনাল খেলে একবারও শিরোপার রণক্ষেত্রে যেতে পারল না!
কিছুটা হতাশ নেপালি কোচ বাল গোপাল মহারজন; ম্যাচ শেষে বলেন, ‘যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হলো না। ছেলেরা অনেক পরিশ্রম করেছে, ওরা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।’ মানলেন সাফ ফাইনাল খেলতে হলে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’
রীতিমতো কঠিন পরিস্থিতি জিতে শেষ চারে উঠেছিল নেপাল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাঁচা-মরা ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে জিতে ২-০ গোলে। পয়েন্ট পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সমান ৬ হলেও গোলগড়ে গ্রুপ সেরা হয় ২০১৬ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপজয়ীরা। আজ ঘরে ফিরে গেলেও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাসের শেষ দিকে ঢাকা আসবে আবার তারা।