আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

১০ মাসেও উদ্ঘাটন হয়নি ‘ক্লু’

রহস্যে ঘেরা ডলি রানী হত্যাকা-ন্ড

আলমগীর হোসেন
| শেষ পাতা

পুলিশ যখন গৃহবধূ ডলি রানী বণিকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে, তখন মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দরজা ভেঙে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। বাড়ির আশপাশে থাকা অনেক সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেও সন্দেহভাজন খুনিদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। খুন করে ভেতর থেকে দরজা লাগানো অবস্থায় পালানোর তেমন কোনো সুযোগও ছিল না। এমন অবস্থায় ডলি রানী বণিক হত্যাকা- যেন গভীর রহস্যের খাদে পড়েছে। হত্যাকা-ের ১০ মাসেও স্পষ্ট কোনো ‘ক্লু’ উদ্ঘাটন করতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গেল বছরের ৮ নভেম্বর মগবাজারের মধুবাগের উদ্দীপন গলির ১০/ই/৮ নম্বর চারতলা বাড়ির চতুর্থ তলার পূর্ব পাশের দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে নৃশংসভাবে খুন হন ডলি রানী বণিক (৪৬)। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সজল বণিক বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি কয়েক দিন থানা পুলিশ তদন্ত করলেও অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান জানান, মামলাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘাতককে শনাক্ত করতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ডিবি পুলিশ এ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। 

স্বজনরা জানান, ১০ মাসেও গৃহবধূ ডলি রানী বনিককে গলা কেটে হত্যার রহস্য কুল-কিনারা হয়নি। কী কারণে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, কিংবা কে বা কারা তাকে হত্যা করেছেÑ এসব বিষয়ে কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেননি ঘটনার তদন্তকারীরা। ঘটনার সময় নিহতের স্বামী সজল বণিক মালয়েশিয়া ছিলেন। বড় ছেলে জুয়েল বণিক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসে ছিলেন। ছোট ছেলে দীপ্ত বণিক ব্যক্তিগত কাজে ছিলেন বাসার বাইরে। একমাত্র মেয়ে ঝুমা বণিকও ভারত প্রবাসী। ওই দিন বাসায় ডলি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। লাশ উদ্ধারকালে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এ হত্যাকা- রীতিমতো রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এমনকি ঘটনার পর বাসা থেকে কোনো মালামালও খোয়া যায়নি। 
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিহতের স্বামী সজল বণিক ২০০৭ সাল থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী। ডলির ভাই অশোক কুমার বণিক ওরফে বাবু বণিক ৬ বছর আগে তার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা ধার নেন। এ টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েক বার ঝগড়া-বিবাদ ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল। এদিকে এ সন্দেহ থেকে হত্যা রহস্যের জট খুলতে নিহতের ভাই অশোক বণিককে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। অশোক বণিক নরসিংদীর মাধবদীর ঘোড়াদিয়ায় নিজ এলাকায় প্রতারক হিসেবে পরিচিত। পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল, অশোক বনিক হয়তো তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। কিন্তু, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এ হত্যাকা-ের সঙ্গে অশোকের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে হত্যার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনা স্থলসংলগ্ন আশপাশের কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওফুটেজ পর্যালোচনা করেও সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। ডলি রানীর ফ্ল্যাটে পেছন দিক থেকে যে কেউ প্রবেশ করতে পারলেও, তিনি বের হতে গেলে সেখান থেকে লাফ দিতে হবে। বাড়ির পেছনে যত্রতত্র ইট, কাঁচসহ নানা ধরনের ময়লা ছিল। সেখানে লাফিয়ে পড়ে পালানোও সম্ভব নয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা।