আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

১০ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

ফের সংকটে জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ

বেলাল হোসেন, জাবি
| শেষ পাতা

ফের সংকটে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ। টানা ১০ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না বিভাগটিতে। প্রতিদিন বিভাগে এসে ক্লাস না হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে অন্য শিক্ষকরা। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভাগের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। 

জানা যায়, ২৬ জুলাই আদালতের নির্দেশে বিভাগের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মনজুরুল হাসান। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভাগীয় একাডেমিক সভা না ডাকার প্রতিবাদে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষকরা। তবে বিভাগীয় সভাপতির দাবি, সুবিধামতো যে কোনো সময় একাডেমিক সভা ডাকা হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি, বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী একাডেমিক সভা আহ্বান করলেই তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন। অন্যথায় তাদের কর্মসূচি চলতে থাকবে। সর্বশেষ সোমবার বিভাগের ২০ জন শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বিভাগীয় সভাপতিকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সাধারণ সভা আহ্বানের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। 
এ বিষয়ে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত একটি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা। কিন্তু সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরে তিনি এখনও কোনো সভা আহ্বান করেননি। যার কারণে বিভাগের শিক্ষকদের নতুনভাবে কোর্স বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ২০১৮-১৯ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে। তবে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মো. মনজুরুল হাসানের দাবি, বিভাগটির উইকেন্ড মাস্টার্স কোর্সের অর্থিক লেনদেনে একটি ফাইলে গরমিল রয়েছে। তাই তিনি ওই ফাইলটি স্বাক্ষর করেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত আছেন। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এভাবে ক্লাস-পরীক্ষা না নেওয়া অত্যন্ত অমানবিক। বুধাবর তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. আবদুল জব্বার হাওলাদার বলেন, তদন্তে ড. মনজুরুল হাসানের বিরুদ্ধে বহিরাগত নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার সত্যতা পেয়েছিলাম। সে রিপোর্ট তখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দিয়েছি। পরে কি হয়েছিল তা আমরা আর জানি না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক মো. নুরুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।