আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বড় দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৫ জন মাঠে

কাজী বাবলা, পাবনা
| শেষ পাতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া আংশিক) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বড় দুই দল আওয়ামী লীগের ৯, বিএনপির ছয়, জাতীয় পার্টির এক ও জামায়াতে ইসলামীর একজন মাঠে রয়েছেন। তাদের ব্যানার, পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে এ আসনের হাটবাজার। এছাড়া তারা যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও নিজ দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। শোডাউনসহ নানামুখী নির্বাচনি কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

পাবনা-২ আসনটি সুজানগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন এবং বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২৪। এ আসনে স্বাধীনতার পর থেকে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার বিএনপি ও একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে।

সুজানগর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ওসমান গনি (ওজি) খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আহমেদ তফিজ উদ্দিন মাস্টার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দুই বছরের মাথায় মারা যান। ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর উপনির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় সর্বাধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার আজিজুল হক আরজু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদ সদস্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় আসনটি দখলে রাখতে; আর বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার করতে। এ লক্ষ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন উভয় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। একইসঙ্গে তারা হাইকমান্ডে চালিয়ে যাচ্ছেন জোর তদবির। এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির, বর্তমান এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজু, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা এমএ জলিল, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান, রাকসুর সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপকমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সদস্য আশিকুর রহমান খান সবুজ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইমরাজ সিরাজ স¤্রাট, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গ্রন্থাগারবিষয়ক সম্পাদক একেএম কামরুজ্জামান উজ্জ্বল, বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের। অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি আবদুল হালিম সাজ্জাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সুজানগর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন ম-ল, পাবনা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, ঢাকা মহানগরীর সাবেক প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান ঢাকার ভাষানটেক থানা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম কিবরিয়া মাখন। এছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) পাবনা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা মুকবুল হোসেন সন্টু, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের আমির রওশন আলী মাস্টার মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন।