আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভাগ চায় চার আসনেই

শরিকদের সঙ্গে বরিশালে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব

খান রফিক, বরিশাল
| প্রথম পাতা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট অংশ নিলে বরিশাল বিভাগের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতেই ভাগ বসাতে চায় শরিকরা। তাদের দাবিকৃত চারটি আসন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিক দলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে তৃণমূলের দূরত্বও বাড়ছে শরিকদের মধ্যে। শরিকরা ভাগ বসাতে চাইলেও আওয়ামী লীগসহ অন্য সব দলের নেতারাই তাকিয়ে আছেন নির্বাচনের পরিবর্তিত পরিস্থিতির দিকে।

মহাজোটে শরিকদের দাবি করা আসন চারটি হচ্ছেÑ বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া), বরিশাল-৩ (মুলাদি-বাবুগঞ্জ), বরিশাল-৫ (সদর) এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)। এর মধ্যে বরিশাল-৩, ৫ ও ৬ আসন দাবি করছে  জাতীয় পার্টি (জাপা)। ওয়ার্কার্স পার্টির দাবি বরিশাল-৩ এবং বরিশাল-২ আসন। মহাজোটের অপর দুই শরিক জাসদ (ইনু) এবং বাংলাদেশ জাসদের দাবি বরিশাল-২ ও ৬ আসন। যদিও একক না মহাজোটভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শরিক দলগুলো দলীয় প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনি এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী নিয়ে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। যে কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিকদের মাঠের রাজনীতিতেও দূরত্ব বাড়ছে।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটি জাতীয় পার্টি মহাসচিব রূহুল আমিন হাওলাদারের নির্বাচনি এলাকা। যদিও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান রতœা আমিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন মহাসচিব এবিএম 

রুহুল আমিন হাওলাদার। একাদশ সংসদ নির্বাচনে রুহুল আমিন অথবা রতœা আমিন বরিশাল-৬ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি মহাজোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলে তারা বরিশাল-৬ আসনের শক্ত দাবিদার হবেন। অপরদিকে মহাজোটের অপর শরিক জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় নেতা মো. মহসিনও বরিশাল-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এবার প্রার্থিতা দাবি করছেন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদি) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ টিপু সুলতানের কাছে হেরে যান। ওয়ার্কার্স পার্টি এবারও শেখ টিপু সুলতানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলায় হওয়ায় এটি ঘরের আসন মনে করে ওয়ার্কার্স পার্টি। আওয়ামী লীগেরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন এ আসনে এমপি প্রার্থী। এ অবস্থায় মহাজোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগ- জাতীয় পার্টি-ওয়ার্কার্স পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, মহাজোট হলে জাতীয় পার্টি বরিশাল-৩, বরিশাল-৫, বরিশাল-৬ আসন চাইবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বরিশাল ৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছেন। বরিশাল-৫ আসনেও ১৯৮৬ ও ’৮৮ সালে জাতীয় পার্টি নির্বাচিত হয়েছে। আর ৬ আসনে বর্তমানে তাদের এমপি রয়েছেন। যে জোটেই জাতীয় পার্টি যাক না কেন এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বরিশাল-২ আসনের বর্তমান সংসদ হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান জাসদ নেতা আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী সাবিনা আক্তারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে আম্বিয়া-প্রধানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাদল ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান আনিচ। জাসদ (ইনু) কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ব্যক্তিগত সহকারী সাজ্জাদ হোসেনও বরিশাল-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থিতা চান। 
প্রার্থিতা প্রসঙ্গে জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাদল বলেন, দলের পক্ষ থেকে জোটের কাছে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে এমপি প্রার্থী হিসেবে তার নাম শীর্ষে রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ১৭ সেপ্টেম্বর বানারীপাড়ায় জনসভার ডাক দেওয়া হয়েছে। ওই সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন দলের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দিন খান বাদল এমপি। মহাজোটের অপর শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম সুজনও বরিশাল-২ এর প্রার্থী হতে চান।
এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে নির্বাচনে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আগের মতোই আসন বণ্টন হবে। তবে বরিশাল-১, বরিশাল-২, বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই থাকবে। এখানে শরিকদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তৃণমূলে শরিকদের মধ্যে দূরত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে এক অবস্থা, না এলে আরেক অবস্থা। ২ মাস অনেক কিছু হবে রাজনীতিতে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।