আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নির্বাচনকালীন সরকার

সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে মাঠে নামতে চান মান্না

দীপক দেব
| প্রথম পাতা

নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প দেখছেন না নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, যেহেতু সরকার বাকি পথ বন্ধ করে দিয়েছে, তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে। তিনি বলেন, এখন থেকেই মাঠে নামার চিন্তা করছি। বলতে গেলে আমরা মাঠেই আছি। দাবি আদায়ে জনমত সৃষ্টি করতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকটি বিভাগে জনসভা করা হবে। যদিও সরকার এসব জনসভার অনুমতি দিচ্ছে না। তারপরও আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব। এর আগে ড. কামাল হোসেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সরকার করতে দেয়নি। এজন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার আমাদের সে পথে যেতে বাধ্য করছে। এসব কর্মসূচিকে এখন পর্যন্ত যুক্তফ্রন্টের হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অন্যরা এলে আসতে পারেন।
জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া, আগামী নির্বাচন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও সরকারের কাছ থেকে কীভাবে দাবি আদায় করা হবে এসব বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার গুলশানে নিজ বাসায় আলোকিত বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়ে খোলামেলা কথা বলেন এ সময়ের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। 
জাতীয় ঐক্য গঠন নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অংশগ্রহণমূলক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমরা সবাই একমত আছি। নির্বাচন করার জন্য বর্তমান সরকারের জায়গায় একটা নির্বাচনকালীন সরকার হওয়া উচিত। সংসদ ভেঙে দেওয়া উচিত, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা উচিত এবং সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা উচিত। এ দাবিগুলোর সঙ্গে আমরা সবাই একমত আছি। তিনি বলেন, এটা (জাতীয় ঐক্য) মনে হচ্ছে আমরা শুধু ভোটের জন্যই এ ঐক্যটা করছি। এখানে ভোটের জন্য লড়াইটা গুরুত্বপূর্ণ। একদিনের একটা ভোট আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, পাঁচ বছরের ৩৬৫ দিনই গণতন্ত্র যেন জনগণের কাছে অর্থবহ হয়ে আসে সেভাবেই লড়াইটা গড়ে তুলতে চায়। 
আগামীতে কেমন ধরনের ব্যবস্থা দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত এ নেতা বলেন, কেউ যেন আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার নাম করে স্বৈরাচারী আচরণ করতে না পারে এজন্য ক্ষমতার একটা ভারসাম্যের কথাও বলা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে এবং মৌলিকভাবে সবাই এসব বিষয় নিয়ে একমত আছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের বিরোধী ও গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্য গড়ে উঠবে। জামায়াতকে রেখে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়বেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নীতিগতভাবেই জামায়াতের সঙ্গে কোনো ঐক্য গড়ব না। এখন যে ঐক্যের আলোচনা চলছে, সেটা শুধু বিএনপির সঙ্গে এখানে অন্য কেউ নেই। 
বড় দুই দলের রেষারেষির কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, এমনটা দাবি করে এক সময় আওয়ামী লীগ ও জাসদের রাজনীতি সঙ্গে যুক্ত থাকা এ নেতা বলেন, আমরা এবার এটাকে তৃতীয় পক্ষের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে দুই বছর সরকার চালাব বলে প্রস্তাব দিয়েছি। জনগণের ক্ষমতা ও গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করার কথাও ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কমানোর চিন্তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। 
সরকার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে নির্বাচন করলে তাতে অংশ নেবেন কিনা  এ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার বলছে কোনো আলোচনায় বসবে না। তারা বলছে, সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই নির্বাচন হবে। এ অবস্থায় আমরা কোনো প্রস্তাব দিতে চাই না। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে জাগরণের চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি জনগণ জাগবে। আন্দোলনে একটা গতি আসবে। এমনও হতে পারে নির্বাচনকেই তারা আন্দোলনের হাতিয়ার মনে করতে পারে। ২০১৪ মতো এবার আর তারা ওয়াকওভার পাবে না। এবার নির্বাচন হলে উভয়পক্ষই নির্বাচনে যাবে এবং নির্বাচনে মানুষের চিন্তা, মানুষের মনন পরিস্থিতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে যেটা এখনই বলা সম্ভব হবে না। এজন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। যুগপৎ আন্দোলন হলে তাতে নেতৃত্ব দেবে কে এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, যে যার জায়গা থেকে নেতৃত্ব দেবে। যৌথভাবেও নেতৃত্ব দেওয়া যেতে পারে এবং নেতৃত্ব গুণের মাধ্যমেই নেতা ঠিক হতে পারে। বিএনপি কি আপনাদের এসব অবস্থান মেনে নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা এখন পর্যন্ত নেতিবাচক কোনো কথা বলেননি। তারা এও বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত রয়েছে।