আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

তিনটি স্থানীয়দের দখলে তিন ভবন পরিত্যক্ত

সখিপুরে কৃষি বিভাগের ছয় বীজাগার

ইসমাইল হোসেন, সখিপুর
| দেশ

টাঙ্গাইলের সখিপুরে ছয়টি ইউনিয়নের কৃষি বিভাগের ছয়টি বীজাগার দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে কোনো কার্যক্রম না থাকায় তিনটি ভবন স্থানীয়রা দখল করে রেখেছে আর বাকি তিনটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ওইসব বীজাগার ঘুরে দেখা যায়, ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণস্থানে ২০ শতাংশ জমি নিয়ে টিনশেড পাকা ভবন নির্মাণ করে সেখানে ইউনিয়ন বীজাগার হিসেবে কৃষি বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়। ১৯৭৬ সালে সখিপুর থানা ঘোষণা হলে সখিপুর বাজারে কোনো পাকা ভবন না থাকায় গজারিয়া ইউনিয়নের বীজাগারের ভবনটি থানা-পুলিশ ব্যবহার শুরু করে। ছয় বছর পর সখিপুর থানা ওই ভবনটি ছেড়ে দিলে স্থানীয়রা আবার ওই ভবনটি দখল করে। ১৯৮৯ সালে ওই ভবনে ডিগ্রি অনার্স মাস্টারস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ডিঅমস) নামের ওই সংগঠন দখলে নেয়। ২০০০ সালে সখিপুর পৌরসভা স্থাপিত হলে ওই ভবনটি পৌরসভার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়। বছর তিনেক পর পৌরসভা অন্যত্র চলে গেলে আবার ডিঅমস দখলে নেয়। বর্তমানে ডিঅমস ছাড়াও আরও কয়েকটি সংগঠন ওই ভবনের কক্ষ দখল করে আছে। জমির এক অংশে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সখিপুর বাজারের  দোতলা গণশৌচার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বীজাগারের বাকি জমিতে স্থানীয়রা অস্থায়ী চা স্টল ও হোটেল স্থাপন করে তা ভাড়া দিয়েছেন। এ বিষয়ে সখিপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি তাহেরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বাজারের লোকজনের সুবিধার্থে সরকার একটি শৌচাগার করেছে। কার জমিতে করেছে তা সরকারই ভালো জানে। এদিকে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন বীজাগারের ভবনটি বহেড়াতৈল বাজারে নির্মিত হয়। ১৯৭৬ সালের পর ওই ভবনটি কৃষি বিভাগ ব্যবহার না করায় বহেড়াতৈল বাজারের ব্যবসায়ীরা ওই ভবনটি দখলে রাখে। আনুমানিক ১০ বছর ধরে ওই ভবন ভেঙে পড়ায় ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। বহেড়াতৈল ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবি ভূইয়া জানান, বর্তমানে কৃষি বিভাগের ওই পরিত্যক্ত বীজাগারের জমিতে বাজারের লোকজনের ব্যবহারের জন্য গণশৌচাগার নির্মিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফেরদৌস কৃষিবিভাগের জমিতে গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়নি দাবি করে বলেন, কৃষি বিভাগের ২০ শতাংশ জমি ওই শৌচাগারঘেঁষেই রয়েছে। এদিকে যাদবপুর ইউনিয়নের বীজাগারটি ওই ইউনিয়নের কালিদাস বাজারে স্থাপিত হয়। কালিদাস কলিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসেবে ওই ভবনটি ব্যবহার করে। পরে বছর দশেক পর ওই ভবন পরিত্যক্ত হলে ভবনটি ওই বিদ্যালয় ছেড়ে দেয়। পরে আস্তে আস্তে ভবনটি ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বর্তমানে ওই ভবনের জমি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক একেএম সাইফুল্লাহ বলেন, সরকার ফেরত চাইলে ওই জমি আমরা যেকোনো সময় ছেড়ে দেব। কাকড়াজান ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পারভীন আক্তার বলেন, বৈলারপুর গ্রামে বীজাগারের ভবন থাকলেও সেটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কালিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার ও হাবিবুর রহমান বলেন, বড়চওনা বাজারের মাঝখানে মূল্যবান জমিতে ওই বীজাগারের ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ওই ভবনটি কাগজে-কলমে আমাদের দুইজনের নামে আবাসিক ভবন হিসেবে বরাদ্দ থাকায় প্রতি মাসের বেতন থেকে ওই বাসা ভাড়া বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা বাজারের ওই বীজাগারটির ভবন ব্যবহার না হওয়ায় আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, তার পরিষদের পাশেই ওই জমির অবস্থান। তবে ওই জমিতে কোনো ভবনের লেশমাত্র নেই। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের তিনটি বীজাগারের জমি ও ভবন স্থানীয়রা দখলে নেওয়ার কথা স্বীকার করে সখিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূঞা বলেন, কৃষি বিভাগ এখন ডিজিটাল। কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে দুটি করে কক্ষ কৃষি কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন ওই কর্মকর্তাদের আবাসিক সুবিধা দিতে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নের বীজাগারের জমিতে ভবন করার পরিকল্পনা করছে। সখিপুরের গজারিয়া, যাদবপুর ও বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বীজাগারের জমি স্থানীয়রা দখলে রেখেছেন। ওইসব জমি ও ভবন কৃষি বিভাগের দখলে নিতে কাজ চলছে।