আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পাট সংকটে বন্ধের আশঙ্কা বাংলাদেশ জুট মিল

৪৫ টন থেকে উৎপাদন নেমে এসেছে ৭ টনে

নূরে-আলম রনি, নরসিংদী
| দেশ

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার স্বনামধন্য বাংলাদেশ জুট মিলটি পাট সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। পাট সংকটের কারণে মিলের উৎপাদন ৪৫ টন থেকে নেমে ৭ টনে চলে এসেছে। বন্ধ রয়েছে মিলের অধিকাংশ তাত মেশিন। এতে মিলের প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার মাঝে মিল বন্ধের আতঙ্ক বিরাজ করছে। সে সঙ্গে মিলের উৎপাদিত প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের অবিক্রীত পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে মিলের গুদাম ঘরে। স্থান সঙ্কুলান না থাকায় উৎপাদিত ফিনিশিং বিভাগে যত্রতত্র পড়ে পণ্য নষ্ট হচ্ছে। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় অর্থ সংকটে পড়তে হচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষকে। বাংলাদেশ জুট মিলের পণ্য বিক্রি করে থাকে বিজেএমসি। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি বাবদ বিজেএমসির কাছে ৯৩ কোটি টাকা পায় বাংলাদেশ জুট মিল। কিন্তু বিজেএমসি সময়মতো টাকা না দেওয়ার কারণে পাট কিনতে ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি দিতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। বেতন-ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে মিলের সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে। মিলের তাঁত শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে আমরা সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মজুরি পেতাম কিন্তু পাট সংকটের জন্য আমরা সপ্তাহে এখন মাত্র ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা মজুরি পাই। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে একাধিক সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় আমাদের আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেকে মজুরি না পেয়ে মিলে আসছেন না। মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান জানান, ৫২০ তাঁতের এই জুট মিলটিতে প্রায় চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এক সময় বাংলাদেশ জুট মিলটি দেশের অন্যতম লাভজনক জুট মিল ছিল। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত ৬ বছর ধরে মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচ্যুইটির টাকাও দিতে পারছেন না মিল কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত মিলে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচ্যুইটির প্রায় ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জুট মিলের কাছে পাট ব্যবসায়ীরা ২৮ কোটি টাকা পাওনা থাকায় এখন পাট ও সরবরাহ করছে না ব্যবসায়ীরা। মাঝে মধ্যে এক ট্রাক করে পাট এনে কোন রকমে উৎপাদন চালু রেখেছে বলে জানান মিল কর্তৃপক্ষ। এদিকে মিলটির উৎপাদন বিভাগ থেকে জানা যায়, মিলের উৎপাদিত প্রায় ৩৫ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। এসব পণ্য সময়মতো বিক্রি করতে না পারায় আর্থিক সংকটে পড়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। আর এ কারণে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ফলে বকেয়া মজুরির পরিমাণ বাড়ছে। নিয়মিত মজুরি প্রদান করতে না পারায় দেখা দিচ্ছে শ্রমিক অসন্তোষ।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানীর সাথে কথা বললে তিনি বিজেএমসির অনুমতি ব্যতীত কথা বলতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।