আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

‘অতি ধনী’ সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশে

ধনী-গরিবের ব্যাপক বৈষম্য কমাতে হবে

| সম্পাদকীয়

আড়াইশ’ কোটি টাকা বা সমমূল্যের সম্পদের মালিক এমন ‘অতি ধনী’ মানুষের সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ গতিতে বাড়ছে। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, বর্তমানে বাংলাদেশে ‘অতি ধনী’ বৃদ্ধির হার ১৭.৩ শতাংশ, যা ভারত ও চীনের চেয়েও বেশি। লন্ডন ও নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থা ওয়েলথ এক্সের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। পূর্ববর্তী রিপোর্টে এ তালিকার শীর্ষস্থান চীনের দখলে ছিল, যা এখন বাংলাদেশের দখলে। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে বিশ্বে সবচেয়ে ধনবান ব্যক্তির সংখ্যা বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর নানা প্রান্তের উন্নত দেশের নাগরিকদের পেছনে ফেলে গেল কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অতি ধনবান ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কীভাবে কিংবা কিছু ব্যক্তির ধনবান হওয়ার প্রক্রিয়াটিইবা কী, তা খতিয়ে দেখা দরকার। 
যে-কোনো দেশেই ধনবান মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি সুসংবাদ হতে পারে, যদি সেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কম থাকে। যদি ধনবানের অর্থ দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন শিল্প খাত ও উন্নয়নমূলক কর্মাকা-ে বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা মোটেও তা নয়। গেল কয়েক বছরে দেশে ধনী-গরিব বৈষম্য অনেক বেড়েছে। ধনিক শ্রেণির আয় যে হারে বেড়েছে, সে হারে বাড়েনি গরিবের আয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, দেশের মোট আয়ের ২৮ শতাংশই রয়েছে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ ধনাঢ্য পরিবারের হাতে। বিপরীতে সবচেয়ে গরিব ৫ শতাংশ পরিবারের আয় মাত্র দশমিক ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের মোট আয় ১০০ টাকা হলে তার ২৮ টাকা আয় যাচ্ছে সবচেয়ে ধনাঢ্য ৫ শতাংশ পরিবারে। আর মাত্র ২৩ পয়সা আয় যাচ্ছে সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারে। সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ মনে করেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় অতিরিক্ত সম্পদ অর্জনের পেছনে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যের একটা বড় ভূমিকা থাকে। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য যারা পায় বা যাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার যোগাযোগ থাকে, প্রাথমিকভাবে তারাই ব্যাপক সম্পদের মালিক হন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থাকায়, কোনো না কোনো বিশেষ গোষ্ঠী সম্পদের মালিক হন, যাদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগাযোগ থাকে। বোঝাই যাচ্ছে, দেশের সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশই হাতেগোনা কিছু ব্যক্তির হাতে চলে যাচ্ছে, যা দেশের আমজনতার জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত। 
একটি রাষ্ট্রের বৃহত্তর অংশ যদি বৈষম্যের শিকার থাকে, সেখানে অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি কোনোভাবেই সুখবর হতে পারে না। এ দেশে কিছু অসাধু ব্যক্তির ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার ঘটনা অহরহই ঘটছে। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অনেকটাই কাজের মাঝপথে গায়েব হয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ধনবান ব্যক্তিদের আয়ের উৎস সম্পর্কে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ধনী-গরিবের আয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে, তা না হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে না।