আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

প্রবীণদের বন্ধুর পথচলা দায়বদ্ধতা সবার

ডা. মো. ইমাম হোসেন
| প্রবীণ কথা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি ও খাদ্যাভ্যাসসহ বহুমুখী স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাচ্ছে। ফলে প্রবীণ (ষাটোর্ধ) জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে এবং তারা ক্রমেই দলে ভারী হচ্ছেন। সংখ্যার হিসাবে দেশে বর্তমানে প্রবীণ মানুষ প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ (জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ)। পরিসংখ্যানবিদদের মতে, ২০৫০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ (জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ)। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক রূপান্তর ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় জীবনে মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করছে এবং বার্ধক্য সমগ্র বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত। বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে (Aging Process) ঠেকিয়ে রাখতে বা যৌবনকে দীর্ঘায়িত করতে গবেষণায় ক্লান্তি নেই। কিন্তু বৃদ্ধত্বকে (Aging or Greying) ঠেকাতে পারছে কই? জন্ম, বৃদ্ধি (বয়ঃপ্রাপ্তি) ও ক্ষয়প্রাপ্তি এবং মৃত্যুÑ জীবনের অলঙ্ঘনীয় প্রক্রিয়া ও অনিবার্য পরিণতি। এ জীবনচক্রকে অস্বীকার করা যাবে না। বেঁচে থাকলে আমরাও একদিন প্রবীণ হব। প্রবীণ নামক রোগটি কোনোক্রমেই সারানো যাবে না। দিন দিন সে নিয়ে যাবেই সেই অমোঘ পরিণতির দিকে, যার নাম মৃত্যু। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। কোরআনে সূরা ইয়াসিনের ৬৮নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছেÑ ‘যে ব্যক্তিকে আমরা দীর্ঘজীবন দিই, তার দেহ সংগঠনকেই (বুদ্ধি ও যোগ্যতার) আমরা উল্টিয়ে দিই।’ সূরা নাহলের ৭০নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, ‘আর তোমাদের কেউ কেউ নিকৃষ্টতম বয়স পর্যন্ত উপনীত হয় যেন সবকিছু জানার পরও কিছুই জানে না।’ প্রত্যেক ধর্মে প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান ও সেবাযতেœর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করা প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯৮২ সালে ভিয়েনায় প্রথম এবং ২০০২ সালে মাদ্রিদে দ্বিতীয় বিশ্ব আন্তর্জাতিক প্রবীণ সম্মেলনে প্রবীণদের কল্যাণে কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছিল।

বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রবীণরা অনেকটাই অবহেলিত। তাদের পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ নয় মোটেই। সমাজে তাদের অবস্থান সুখকর নয়। যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে আজ আমরা নিউক্লিয়াস ফ্যামিলির দিকে ঝুঁকছি। আজকের প্রবীণরা তাদের কর্মময় জীবনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় পরিবার ও সমাজের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু বয়সের কারণে আজ তাদের মৌলিক ও মানবিক অধিকার ক্ষুণœ হচ্ছে, তারা আজ সার্বিক নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছেন। একসময়ের কর্মঠ মানুষ নিজেও তার বার্ধক্যের বিষয়ে তেমন সচেতন নয়। পরিবার ও সমাজের কাছে আজ তারা উপেক্ষিত ও অবহেলিত। পেশাজীবীদের কাছে আজ তারা উটকো ঝামেলা। সমাজ ও পরিবার তার ন্যায্য অধিকার মেটাতে উদাসীন। প্রবীণদের প্রতি এ আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই তো ২০১৬ এর প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলÑ ঞধশব ধ ঝঃধহফ অমধরহংঃ অমবরংস; বয়সবৈষম্য দূর করুন।
প্রবীণরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তারা আমাদেরই ভবিষ্যৎ ছবি। অতএব প্রবীণদের আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যাবে না; বরং প্রবীণরা পরিবার, সমাজ ও দেশের অভিভাবক। তারা সমাজের বোঝা নয়; বরং পরিবার, সমাজ ও জাতির দিশারি, তাদের যথাযথ সম্মান করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। প্রবীণদের প্রত্যাশাই আমাদের ভবিষ্যৎ। প্রবীণদের প্রজ্ঞা ও যুক্তি এবং নবীনদের শক্তি মিলেই আমাদের মুক্তি। প্রবীণদের সম্মান করার অর্থ নিজেদের জন্য ভবিষ্যতে সম্মানের পথ তৈরি করা। প্রবীণদেরও রয়েছে সুস্থ, সুন্দর ও কর্মময় জীবনের অধিকার। অবসর জীবন অলস জীবন নয়; বরং নতুন জীবনের দার খুলে দেয়। দেশের জন্য, সমাজের জন্য সে অনেক কিছুই করতে পারে। কিন্তু প্রবীণ ব্যক্তিরা বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার শিকার। এর মধ্যে শারীরিক ও ইন্দ্রিয় শক্তির কমতি/পরিবর্তন অন্যতম। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চোখে কম দেখা, কানে কম শোনা, স্মৃতিশক্তি ও অনুভূতি লোপ পাওয়া, চলতশক্তি রহিত হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। বিভিন্ন অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। বয়োবৃদ্ধির স্বাভাবিক এসব প্রক্রিয়াকে (ঈড়হংবয়ঁবহপবং) অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারেন না। ফলে নিজেকে বিপন্ন ও অসহায় মনে হতে থাকে। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে চিন্তাগত মতপার্থক্য তথা আদর্শিক সংঘাত ঘটে। শেষ বয়সে তাদের প্রতি শুরু হয় বৈষম্যমূলক আচরণ, ফলে পারিবারিক ও সামাজিক কর্মকা- থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন অনেকেই। তাদের অনেকেরই তেমন কোনো আয় থাকে না। বয়সের কারণে তাদের প্রতি পরিবারের ও সমাজের এ বৈষম্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমাদের দেশে বৃদ্ধ বয়সেও সংসার থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগও থাকে না, এমনকি সংসারের বোঝাও টানত হয়। দেশে প্রবীণবান্ধব সমাজব্যবস্থাও গড়ে উঠেনি; তাই অনেক ক্ষেত্রেই এককালের জাদরেল পেশাজীবীদের কেউ কেউ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পরিবার ও সমাজের কাছে গলগ্রহ হয়ে পড়ে। বুড়ো বয়সে বিপন্ন ও অসহায়ত্ব বোধ ও মৃত্যু ভয়ে কাতর মানুষ পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্য চান। তার প্রয়োজন সমবেদনা, অসুস্থতায় সময়মতো চিকিৎসা ও পরিচর্যা, বয়স উপযোগী খাবার, ছিমছাম বিছানা এবং কিছুটা হলেও ব্যক্তিস্বাধীনতা। কোনো বয়স্ক ব্যক্তিই পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে অনাদর/অবহেলা/ লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও নিগ্রহের শিকার হতে চান না। তাদেরও রয়েছে চাহিদা, রয়েছে সুস্থ-সুন্দর উপভোগ্য জীবনের অধিকার। বৃদ্ধ বয়সে কখনও কখনও কথা বলার, সুখ-দুঃখের গল্প করার, চলাফেরার সঙ্গী হওয়ার মতো কেউ থাকে না। সংগতিপূর্ণ ছেলেমেয়ে থাকার পরও মা-বাবাকে তাদের প্রয়োজনে দেখার মতো অথবা তাদের সঙ্গে দুদ- সময় দেওয়ার মতো ফুরসত তাদের থাকে না। বৃদ্ধ বয়সে সমবয়সি বন্ধুবান্ধবও দূরে চলে যায়। কারণ তারাও বার্ধক্যের এবং একই অবস্থার শিকার। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও হয়তো একই কারণে স্বামী-স্ত্রী একের অসহায়ত্বে/একাকিত্বে অপরজন তেমন কিছুই করতে পারেন না।
প্রবীণদরদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবীণদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত দাবিÑ ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩’ মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে প্রায় দুই বছর হলো। প্রবীণদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে বর্তমান সরকার প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় প্রবীণ নীতিমালায় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখানোর জন্য এবং প্রয়োজনীয় সেবাযতেœর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রণীত জাতীয় নীতিমালার সফল বাস্তবায়ন লক্ষ্যে মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনার আলোকে প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণে সুচিন্তিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে প্রবীণদের নানামুখী সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন মেয়াদি সর্বজনীন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় ভূমিকা ও সহযোগিতা। প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়নে সমাজের সব স্তরের মানুষের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি। প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে প্রবীণহিতৈষী সংগঠনগুলোকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। 
আমরা হয়তো দৈহিকভাবে আমাদের চামড়া কুঁচকিয়ে যাওয়া ও বয়সজনিত অসুস্থতাকে পুরোপুরি আটকাতে পারব না; কিন্তু আমাদের অন্তরকে, আমাদের মনোজগৎকে ভয় ও চিন্তামুক্ত রেখে পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় কর্মকা-ে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মনকে প্রফুল্ল রাখার মাধ্যমে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে মুক্ত রাখতে পারি। প্রবীণদের মধ্যে যারা এখনও বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাননি তাদের কেউ কেউ তাদের নিজ নিজ কর্ম গ-িতে বা নতুন কোনো কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন, তারা সৌভাগ্যবান। আর যারা কর্মপরিসর থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন তাদের বেশিরভাগই নবীনদের চোখে বোঝা, অকর্মণ্য এবং করুণার পাত্র। আপনার হাতে অফুরান অবসর সময়। একাকী কর্মবিমুখ হয়ে এ সময় পার করা সত্যিই কষ্টকর ও নিরানন্দময়। এমিলি ডিকেন্সন যথার্থই বলেছেনÑ অলস লোকরা অবসরে আনন্দ পায় না। আপনি হয়তো অক্ষম নন, অলসতা আপনাকে কর্মবিমুখ করে রেখেছে। হাদিসে কর্মে অক্ষমতা ও অলসতা থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার নির্দেশ রয়েছে। 
বৃদ্ধ হওয়ার আগেই তাকে উপভোগ করার প্রস্তুতি প্রয়োজন। জীবনকে উপভোগ্য করার জন্য প্রবীণদের নিজেদেরও অনেক কিছু করার আছে। জীবনকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করুন। বয়োবৃদ্ধি ও তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে সহজভাবে মেনে নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে, উপভোগ্য পরিস্থিতি/ঘটনাগুলো উপভোগ করে, শারীরিক অসুস্থতা বা অসুস্থতার লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে, সহজপাচ্য খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলে সময় কাটাতে সচেষ্ট হোন। নিজেকে সবসময় অসুস্থ না ভেবে বৃদ্ধত্বের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মেনে নিয়ে মনেপ্রাণে চির নবীন থাকার চেষ্টা করুন। ভাবুন, আমি বৃদ্ধ তাতে কিইবা আসে যায়Ñ মনেপ্রাণে আমি চির নবীন। যতটুকু সম্ভব স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সময় দিয়ে, সামাজিক কর্মকা-ে নিজেকে সম্পৃক্ত করে, বই/পত্রিকা পড়ে, প্রতিবেশী/আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে, পরিবারের ছোটদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে আর আল্লাহর ইবাদত/ধর্মচর্চা করে একাকিত্বকে কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হোন। প্রবীণ বয়সে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাঁটার বিকল্প নেই, নিয়মিত হাঁটাচলা করুন, দেহকে সচল রাখুন। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে মনকে প্রফুল্ল রাখুন। আপনার মতো প্রবীণদের নিয়ে ছোট ছোট বন্ধু-গ্রুপ তৈরি করে প্রাতঃভ্রমণ/বৈকালিক ভ্রমণ/আড্ডায় প্রবীণদের কল্যাণে কিছু করার কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে/ধর্মী প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুুদ্ধ করতে পারেন।
প্রবীণদের বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষ করে প্রবীণহিতৈষী সংঘের পতাকাতলে সমবেত হয়ে প্রবীণদের কল্যাণে গৃহীত কার্যক্রমে সক্রিয় হোন, জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন, মনকে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে মুক্ত রাখুন, দেখবেন আপনি ফুরিয়ে যাননি।

আপনিও চির-তারুণ্যের কবি নজরুলের মতো বলতে পারবেনÑ
অন্তর যদি রসে না পূর্ণ হয় 
চির-নুতন এ পৃথিবী, নয়নে 
পুরাতন মনে লয়।
চির-কৈশোর তেমনি দাঁড়ায়ে আছে
চির-সুন্দর দিব্য মনের কাছে,
অসুন্দরের সাধনা যাহার তারি অন্তরে জাগে 
জরা ও মৃত্যু ভয়।
এবং দেখবেন আপনি নিজেও আগামীর প্রবীণ প্রজন্ম এর সুফল পাবেই।

ডা. মো. ইমাম হোসেন
যুগ্ম সচিব (অব.) 
বাইগাম জীবন সদস্য নং-২০২৩
ঠিকানা : ফ্ল্যাট-বি/৪, বাড়ি-৩৬, সড়ক-০২, সেক্টর-১০, উত্তরা, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭১৪৩৯৬৮৮২