আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে সু চি

রাখাইন পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামলানো যেত

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শরণার্থী জীবনের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বলেছেন, রাখাইনের পরিস্থিতি হয়তো আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত। বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আসিয়ান নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি একথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।

সু চি বলেন, এখন ভাবলে মনে হয়, কিছু উপায় অবশ্যই ছিল যার মাধ্যমে পরিস্থিতিটা আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চাই, আমাদের হতে হবে পক্ষপাতহীন। কেবল নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে আইনের শাসনে সুরক্ষা দেওয়ার কথা আমরা বলতে পারি না।

বিবিসি জানিয়েছে, মিয়ানমার থেকে সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার জন্য 

বাংলাদেশকে দায়ী করেছেন অং সান সু চি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জানুয়ারিতে এ প্রক্রিয়া শুরু করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত ছিল না। নিরাপত্তাবাহিনীর কয়েক ডজন স্থাপনায় একযোগে হামলার পর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর ওই দমন অভিযান শুরু হয়। সেই সঙ্গে শুরু হয় এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট। এক বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি।
এদিকে, কারাদ-িত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক সাত বছরের দ-াদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন এবং আদালতের এ রায়ের সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন সু চি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক সম্মেলনে সু চি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে দুই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তে আপনার অনুভূতি কী, ফোরাম মডারেটরের এমন প্রশ্নের জবাবে সু চি বলেন, সাংবাদিক হিসেবে তাদের কারাদ- দেওয়া হয়নি, তাদের কারাদ- হয়েছে কারণ আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন ভেঙেছে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ মানুষ ওই রায়ের সারসংক্ষেপ পড়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে, এর (রায়) সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের। আমরা যদি আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, তাহলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও এ বিচার কেন ভুল হয়েছে তা তুলে ধরার পুরো সুযোগ আছে তাদের। এ মাসের শুরুতে মিয়ানমারের আদালত রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সো ওকে (২৮) সাত বছরের কারাদ- দেয়। ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক মহল দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দেওয়া এ রায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অং সান সু চি’র এসব বক্তব্যের জবাবে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, তিনি সবকিছুই ভুল বুঝেছেন।