আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গুরুত্ব দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ

জাতিসংঘে বৈঠক নিয়ে আশাবাদী বিএনপি

দীপক দেব ও রকীবুল হক
| প্রথম পাতা

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত বিএনপি নেতাদের বৈঠক নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিগত সময়ে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দল হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ও বৈঠকের বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের এ বৈঠকে বিএনপির পক্ষে ইতিবাচক একটি ফল আসবে বলে আশা করছেন দল সংশ্লিষ্টরা। যদিও বিএনপি নেতাদের এ সফর নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছুই বলা হচ্ছে না।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠকের বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলেছেন, নিজেদের ওপর আস্থা না থাকায় বিএনপি নেতারা বারবার বিদেশিদের কাছে ছুটে গেছেন। তারা বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। অহেতুক বিদেশে ঘোরাঘুরি করে কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন হবেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। 

জানা গেছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে গেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

সূত্রমতে, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংস্থাটি রাজনীতিবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোসøাভ জেনকার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এ বৈঠকের শিডিউল ছিল বলে জানা গেছে। এতে বাংলাদেশের সার্বিক  পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুলের নিজ দল বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান তুলে ধরার কথা। এ বৈঠকে অংশ নিতে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপি নেতাদের এ সফরে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনি গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হতে পারে। 
জাতিসংঘের সঙ্গে বৈঠকসহ আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপির তৎপরতা প্রসঙ্গে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–য়া বলেন, বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আছে। বড় একটি দল হিসেবে আগামীতে ক্ষমতায় গেলেও সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেই হবে। তাই তাদের একটি পররাষ্ট্রনীতিও থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ তো জাতিসংঘের বাইরে নয়। জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বড় একটি দল বিএনপি তাদের আবেদন-নিবেদন করতে পারবে না? দলের জন্য যা মঙ্গল, তা বিএনপি করবেÑ এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগসহ অন্য দলগুলোও একই কাজ করে। এ নিয়ে সমালোচনা বা নালিশ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটা নালিশ না অভিব্যক্তি প্রকাশ করা। জাতিসংঘের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক দল ও দেশের জন্য ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদে আহমেদ তালুকদার বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতিসংঘের সঙ্গে বৈঠকে গেছেন, তিনি ফিরে এসে তার আলোচনার বিষবস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেবেন। তিনিই সবকিছু জানাবেন। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই বলার নেই।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। দলটিকে এ আগ্রহের কথা জানিয়ে গেল সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিবকে নিউইয়র্কে যেতে আমন্ত্রণ পাঠান অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
জানা গেছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সুপারিশমালা তুলে ধরবে বিএনপি। একই সঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী দল-মতের ওপর ‘সরকারের দমনপীড়নের’ চিত্রও তুলে ধরা হবে। বিগত তিন সিটি নির্বাচন, গুম, খুনসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বর্ণনাসহ সমসাময়িক পরিস্থিতির একটি সচিত্র প্রতিবেদনও জাতিসংঘ মহাসচিবকে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানা গেছে।
গেল জুলাই মাসের শুরুতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তখন তার আগমনের উদ্দেশ ছিল মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখা। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও যৌথ বৈঠক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
বিএনপি ওই সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে একটি বৈঠকের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু তা যে কোনো কারণেই হোক হয়নি। এরই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মহাসচিব বিএনপিকে নিউইয়র্কে ডেকেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়ও বিএনপি একই দাবিতে অনড় ছিল। ওই নির্বাচনের আগে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিবের পাঠানো বিশেষ দূত তারানকো। যদিও তারানকোর সে সমঝোতার ফর্মুলা পরে মানা হয়নি। এ বিষয়টি তুলে ধরে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হতে পারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তাদের মতে, জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের তত্ত্বাবধানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নজির রয়েছে।
সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে দলের সিনিয়র কয়েক নেতার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বৈঠকে কোন বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে, তা চূড়ান্ত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সূত্র আরও জানায়, জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে বৈঠকের বিষয়টি পুরোটা দেখভাল করছেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নিয়ে দলের মহাসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। অপর একটি সূত্র জানায়, জাতিসংঘে বৈঠক শেষে লন্ডনে যেতে পারেন মির্জা ফখরুল। বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করতে ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে তার পরামর্শ নেওয়া হতে পারে।
গুরুত্ব দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ : এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠকের বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলেছেন, নিজেদের ওপর আস্থা না থাকার কারণে বিএনপি নেতারা বারবার বিদেশিদের কাছে ছুটে গেছেন। তারা বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। অহেতুক বিদেশে ঘোরাঘুরি করে কোনো লাভ হবে না, নির্বাচন হবেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। 
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসংঘে যাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি তো এখন পুরোপুরি একটি নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তারা যে একটি নালিশ পার্টি তারা তা বারবার প্রমাণ করেছে। জাতিসংঘে গিয়েও তারা তারই পুনরাবৃত্তি করবে।’ তিনি বলেন, কোনো দেশে সংকট থাকলে তা নিরসনের জন্য জাতিসংঘ তাদের একজন দূত পাঠায়। তিনি ওই সংকট নিরসনের জন্য প্রচেষ্টা চালান। বর্তমানে দেশে কোনো সংকট না থাকায় তারা কোনো দূত পাঠায়নি। কিন্তু এরপরও বিএনপির নেতারা এত নালিশ শুরু করেছে যে, জাতিসংঘও বিরক্ত হয়ে তাদের নালিশ শুনার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তারা তলব করেছে। অবশ্য আমাদের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে জাতিসংঘে তাকে কেন ডাকা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা তড়িঘড়ি করে কোনো মন্তব্যও করতে চাই না।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতিসংঘ বিশ্বের আন্তঃরাষ্ট্রীক সর্বোচ্চ একটি ফোরাম। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে অহেতুক মন্তব্য করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করবে কিনা, তা আমরা জানি না। তারা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাইতে পারে। আমরাও সে ধরনের নির্বাচনই চাই। তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধানের বাইরে কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। সংবিধান অনুযায়ী দেশের নির্বাচন হবে। নির্বাচন চলাকালে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে মাত্র।’
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘অহেতুক বিদেশে ঘোরাঘুরি করে কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন হবেই। রেজাল্ট যা হয়, আমরা মেনে নেব।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। প্রশাসন যখন আছে, মিডিয়া যখন আছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকও আসবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন, এ দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে যার ইচ্ছা আসুক। কোনো অসুবিধা নাই।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে। নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশে অহেতুক, ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন কী কারণে? নির্বাচন এখন ঘরের দুয়ারে এসে কড়া নাড়ছে। এখানে জাতীয় নির্বাচনের বিকল্প তো কিছু হতে পারে না।’ বাংলাদেশের সব অর্জন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতির জনককে হারানোর পর এ দেশে যেটুকু ভালো তা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই দিয়েছে। অন্য কোনো পথে আসে নাই। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। পলিটিক্যাল গভর্মেন্টের ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু সব অর্জন এ পলিটিক্যাল গভর্মেন্ট এনেছে। তাহলে কেন? কী কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি করে নির্বাচনের পথকে বন্ধ করে দেব।’
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এ নির্বাচনের মাঠে যত বেশি দল আসবে, আসুক, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। আজকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার যুগ, কেউ কোথাও কিছু করে ফেলতে পারবে না। ১ সেকেন্ডে সব খবর সবার কাছে চলে যাবে। তাহলে কেন আমরা নিজেরা এ হুমকিগুলো দেব, এরা ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ইলেকশন করতে না চানÑ ভালো কথা। এর খেসারত আপনাকে দিতে হবে। একবার তো খেসারত দিয়েছেন, আবার দিতে হবে। কিন্তু ইলেকশন বাদ দিয়ে, ইলেকশন ঠেকিয়ে কোনো লাভ হবে না। এ দেশে কেউ কোনো দিন ইলেকশন ঠেকাতে পারেনি। ১৯৭০ সালেও বড় বড় নেতারা সেøাগান দিয়েছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় প্রতিজ্ঞতার কারণে এ দেশে নির্বাচন হয়েছিল। সুতরাং, ইলেকশন কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জমির আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপির নিজেদের ওপর আস্তা নেই বলেই বিদেশিদের কাছে হাত পাতছে। বিএনপি নেতারা মনে করছে বিদেশিরা অনুকম্পা দেখানে তাদের মতো করে নির্বাচন করে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। কিন্তু তাদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে বিদেশিরাও চায় একটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ যেন স্থিতিশীল থাকে। কোনোভাবেই যেন পরিবেশ অস্থিতিশীল না হয়ে পড়ে। বিএনপিও উচিত নিজেদের ওপর আস্থা রাখা ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ তারা সিলেটে জয়ী হয়েছে। সিলেটে জয়ী হতে পারলে অন্য জায়গায় জয়ী হবে না কেন? আর নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। অন্য কোনো পন্থায় নয়। 
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, বৈঠকের বিষয় নিয়ে জানতে আরও সময় লাগবে। এ বৈঠক অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ ধরনের আলোচনা হতেই পারে। এখানে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হতে পারে এটা বোঝা যায়। এখানে বলা যায়, বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে জাতি সংঘের আগ্রহ থাকে, যেহেতু বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র। তবে নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটা এর কাঠামোগত দিকটা অভ্যন্তরীণ স্টেকহোল্ডাররাই ঠিক করে থাকেন। এখানেও হয়ত এর ব্যতিক্রম হবে না। ওপর থেকে এসে একটি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া অতীতেও কখনও হয়নি, এবারও হবে বলে আমরা মনে হয় না। এছাড়া জাতিসংঘ এসব বিষয় নিয়ে অতিতে কখনও হস্তক্ষেপ করেনি। সমস্যা সমাধানের জন্য সংলাপের আয়োজনের দায়িত্ব পালন করেছে এর বেশি কিছু তারা কখনওই করে না। এবার যেটা বোঝা যাবে, আগামী নির্বাচনের জন্য সব দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব দলই এবার হয়তো নির্বাচনে যাবে।