আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দ্বিতীয় আর অষ্টমের স্বপ্ন

শফিক কলিম
| খেলা

ভারতের ব্রিটিশ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যান্টাইন ও অধিনায়ক শুভাশিষ সোম চেয়ার ছাড়তেই ঢোকেন মালদ্বীপের ক্রোয়েশিয়ান কোচ পিটার সেগাত ও অধিনায়ক আকরাম আবদুল ঘানি। দুই কোচের শুভেচ্ছা বিনিময়, ওদিকে দুই অধিনায়ককে হাত মেলাতেই ক্যামেরার ফ্ল্যাশগান জ্বলে ওঠে। তবে দুই কোচ বা অধিনায়ক শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও ওখানে কিন্তু বার্তা ছিল, ‘দেখা হবে মাঠে। দেখব, কার পাঞ্জায় কত জোর!’

গত তিন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল আফগানিস্তান; যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি মধ্য এশিয়ায় যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের হাতছানি মালদ্বীপের সামনে। তবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৭টায় দ্বাদশ সাফের ফাইনালে প্রতিপক্ষ চেনা, সাতবার চ্যাম্পিয়ন ভারত। ৯ বছর আগে ঢাকায় তাদের কাছে সাফ ফাইনালে দ্বীপবাসীরা হেরেছিল টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে; ১৯৯৭ সাফেও ভারত শিরোপা স্বপ্ন ভেঙেছিল মালদ্বীপের। তবে ২০০৮-এ ঘরের মাঠে সোনালি ট্রফি উঁচু করে তুলেছিল ভারতীয়দের হারিয়ে।
২০০৯-এর হারের প্রতিশোধ না, ঢেলে সাজানো ফুটবলকে তুলে ধরতে চায় আজ মালদ্বীপ। অনুপ্রেরণা ২০০৮ সাফ ফাইনাল। কিন্তু ‘অলিম্পিক দল নিয়ে এলেও হারতে আসিনি’Ñ প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়েছেন ভারতের ব্রিটিশ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যান্টাইন। তাতেই তো জম্পেশ ফাইনালের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকে স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে লুকোচুরি চলছিল ভারত কোচের; কাল প্রথম গণমাধ্যমের সামনে এলেন; তার কথা, ‘সব দলই শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল, আমরাও। অন্যরা বিদায় নিলেও আমরা টিকে আছি, এখানে হারতে আসিনি।’ তারুণ্য দিয়ে ২০০৯ সাফের মতো এবারও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সাম্রাজ্য দখল করতে চায় ভারত; অভ্যন্তরীণ সংকটে এশিয়ান গেমসে দলটি না খেললেও অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলন করেছে, আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক দলকে হারিয়েছে। সাফে অনূর্ধ্ব-২৩ দল প্রসঙ্গে কোচের ব্যাখ্যা, ‘এই ছেলেরা সিনিয়র পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায় না। আমরা তাদের গড়ে তুলছি, খেলার সুযোগ দিতে সাফই তাদের আসল জায়গা।’
গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ভারত, সেমিফাইনালে চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়। এক ছন্দে খেলে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে আমরাÑ কোচ কনস্ট্যান্টাইন বলেন, ‘যেভাবে খেলেছি, ফাইনাল আমাদের প্রাপ্য ছিল, এখন ট্রফি নিতে চাই।’ প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ প্রসঙ্গে মূল্যায়ন, ‘গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে জিতেছি, এখন পরিস্থিতি ভিন্ন, নেপালের বিপক্ষে শেষ চারের নৈপুণ্য ভাবতে হবে। তারা চাপে থেকেও জিতেছে, তাদের সম্মান করতেই হবে, তবে ভয় পাচ্ছি না।
গ্রুপ পর্বে ২ ম্যাচে এক ড্র, গোলহীন। ভারতের কাছে হার ০-২ গোলে; মালদ্বীপ জার্মান কোচ পিটার সেগাতের চাকরি নিয়ে সংশয় ছিল। ১ পয়েন্ট পেয়ে টস ভাগ্যে শ্রীলঙ্কাকে টপকে শেষ চারে সমস্যা জর্জরিত মালদ্বীপ জ্বলে ওঠে। দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে বাধা ভারত। অনূর্ধ্ব-২৩ দল হলেও ভারত ফেভারিট। দাপুটে খেলেই ফাইনালে। মালদ্বীপ পারবে ভারতের কাছ থেকে ট্রফি ছিনিয়ে নিতে? আলী আশফাককে না এনে বিতর্কে জড়ালেও ফাইনালে উঠিয়ে পায়ের নিচে মাটি পাওয়া কোচ সেগাত আজ কোনো ছাড় দিতে নারাজ ভারতকে, ‘আমাদের জন্য ফাইনালে ওঠাই বড় সাফল্য। ৯ বছর আগে ঢাকায় ফাইনালে খেলার পর এখানেই আবার শিরোপার লড়াই। শেষ চেষ্টা করব ট্রফি উদ্ধারের।’ অলিম্পিক দল হলেও প্রতিপক্ষকে এগিয়ে রাখলেন কৌশলে,  ‘ভারত পেশাদার দল, আমাদের ছেলেরা আধা পেশাদার, তারা দেশে কাজ করেন। ৮ ঘণ্টা কাজ শেষ করে খেলতে আসেন মাঠে। মালদ্বীপ লিগে এটা বড় সমস্যা। তবে নেপাল ম্যাচে যা খেলেছি, সেটাই খেলতে চাই ভারতের বিপক্ষেও।’ ভারত বড় দেশ উল্লেখ করে ক্রোয়েশিয়ান সেগাত বলেন, ‘ভারত এ অঞ্চলে বড় দল, জনসংখ্যা ১.৩২ বিলিয়ন। ওসব নিয়ে ভাবছি না। দুই দেশের জনসংখ্যার পার্থক্য যতই হোক, মাঠে লড়াই হবে ১১ জনের সঙ্গে ১১ জনের, তাই ভয়ের কিছু নেই।’ এভাবেই শিষ্যদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করছেন কোচ।