আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

‘এশিয়া কাপে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি’

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

আজ পর্দা উঠবে এশিয়া কাপের ১৪তম আসরের। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজাদের সবচেয়ে সাফল্যময় টুর্নামেন্টের এবারের আসরে শুরুতেই প্রতিপক্ষ টাইগারদের সাবেক কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা। এশিয়া কাপের গেল তিন আসরের দুইবারের ফাইনালিস্ট হওয়ায় এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ধরা হচ্ছে বাংলাদেশকেও। ঘরের মাঠে ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে ও ২০১৬ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ফাইনালে হেরে থামতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২০১৯ বিশ্বকাপ সামনে রেখে আবারও ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরেছে এশিয়া কাপ। মূলত এখন পর্যন্ত ২০১৬ সাল ব্যতীত এশিয়া কাপের প্রতিটি আসরই হয়েছে ওয়ানডে ফরম্যাটে। ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৪টিতে। নতুন আসর সামনে রেখে দেখে নেওয়া যাক ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপে পরিসংখ্যানের পাতায় টাইগারদের অবস্থান-

শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যান​

১. তামিম ইকবাল, ১২ ম্যাচে ৫১৭ রান, ৬টি হাফসেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ৭০।
২. মুশফিকুর রহিম, ১৬ ম্যাচে ৩৯৭ রান, ১টি করে হাফসেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ১১৭।
৩. আতহার আলি খান, ১১ ম্যাচে ৩৬৮ রান, ২টি হাফসেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ৮২।
৪. সাকিব আল হাসান, ৯ ম্যাচে ৩৫৩ রান, ৩টি হাফসেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ৬৮।
৫. আকরাম খান, ১৩ ম্যাচে ২৪৫ রান, ২টি হাফসেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ৬৪।​

সর্বোচ্চ রানের জুটি (শীর্ষ পাঁচ)

১. ইমরুল কায়েস-জুনায়েদ সিদ্দিকী ১৬০ রান, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১০ সালে।
২. ইমরুল কায়েস-এনামুল হক বিজয় ১৫০ রান, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৪ সালে।
৩. মোহাম্মদ আশরাফুল-রকিবুল হাসান ১৪১ রান, আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২০০৮ সালে।
৪. মুশফিকুর রহিম-এনামুল হক বিজয় ১৩৩ রান, ভারতের বিপক্ষে ২০১৪ সালে।
৫. তামিম ইকবাল-জহুরুল ইসলাম ১১৩ রান, ভারতের বিপক্ষে ২০১২ সালে।

শীর্ষ পাঁচ বোলার

১. আবদুর রাজ্জাক, ১৮ ম্যাচে ২২ উইকেট, সেরা বোলিং ১৭ রানে ৩ উইকেট।
২. মাশরাফি বিন মুর্তজা, ১৩ ম্যাচে ১২ উইকেট, সেরা বোলিং ৩৭ রানে ২ উইকেট।
৩. সাকিব আল হাসান, ৯ ম্যাচে ১২ উইকেট, সেরা বোলিং ৩৯ রানে ২ উইকেট।
৪. শাহাদাত হোসেন, ৯ ম্যাচে ১০ উইকেট, বোলিং ৫৩ রানে ৩ উইকেট।
৫. মোহাম্মদ রফিক, ৮ ম্যাচে ৮ উইকেট, বোলিং ২১ রানে ২ দুই উইকেট।

 

বিশ্বকাপের ডামাডোল বাজতে এখনও বাকি ৮ মাস। তাই বলে বসে নেই অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। এরই মধ্যে তারা বিভিন্নভাবে শুরু করেছে প্রস্তুতি। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর। এ এশিয়া কাপকেই ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ভাবছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এ টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে চোখ রাখছেন টাইগার অধিনায়ক।

এশিয়া কাপ শুরুর একদিন আগে আইসিসিডটকমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর অধিনায়ক এবং সেরা খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন তাদের অভিব্যক্তি এবং লক্ষ্যের কথা। যেখানে মাশরাফি বলেছেন, ‘আইসিসি বিশ্বকাপ এমন একটি টুর্নামেন্ট যেখানে সবাই বেশ উদ্যমের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে চায়। এশিয়া কাপ আমাদের আগামী বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে অনেক বেশি সহযোগিতা করবে বলে বিশ্বাস করি। কারণ, এশিয়া কাপ থেকেই আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমাদের বেশ কয়েকটি সিরিজে অংশ নিতে হবে। এখানে বড় বড় খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলতে পারব।’ গত তিন এশিয়া কাপের দুটিতেই ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু একবারও শিরোপা ছুঁতে পারেনি টাইগাররা। তবে আসন্ন আসরে এবার অতীতের সুখস্মৃতি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। জানিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি, ‘এশিয়া কাপের গত তিনটি আসরে আমাদের বেশ কিছু ভালো স্মৃতি রয়েছে। শেষ তিনটি আসরের দুটিতেই আমরা ফাইনাল খেলেছিলাম। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়েও আমরা এশিয়ার তৃতীয় সেরা দল। এটাই আমাদের অনেক বেশি অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ  যোগাচ্ছে, যেন বেশ কয়েকটি কঠিন এবং শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আমরা খেলতে পারি।’ এশিয়া কাপের পরই বেশ কয়েকটি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। যেখানে টাইগারদের প্রতিপক্ষ থাকছে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপে ভালো করতে ওই সিরিজগুলোও লাল-সবুজদের অনুপ্রাণিত করবে বলেই বিশ্বাস মাশরাফি বিন মুর্তজার।