আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সাধারণ কয়েকটি চর্মরোগ

ডা. দিদারুল আহসান
| সুস্থ থাকুন

দাউদ দেহের যে কোনো স্থানে দেখা দিতে পারে। যে স্থানে দেখা যায়, সেই স্থানটিতে গোলাকার চাকার মতো দাগ দেখা যায়। যার মধ্যখানের চামড়া প্রায় স্বাভাবিক আকারে দেখা গেলেও গোল দাগের পরিধিতে ছোট ছোট গোটা দেখা যায়

এদেশে যে ক’টি চর্মরোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে ঘামাচির পরই ছত্রাকজনিত চর্মরোগ অন্যতম। গরমকালে এ রোগ বেশি হয়। কারণ গরমকালে বেশি ঘাম হয় এবং শরীর ভেজা থাকে। ঘাম এবং ভেজা শরীরই হলো ছত্রাক জন্মানোর জন্য উপযোগী। তবে যারা এয়ারকুলার ব্যবহার করেন তাদের ঘাম হয় না। রোগটিও তাদের ক্ষেত্রে কম হয়। যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ততটা সজাগ নন এ রোগটি তাদের বেশি হতে দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ লোক এ রোগে আক্রান্ত হন। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে এ রোগে আক্রমণের হার শীতপ্রধান দেশের চেয়ে বেশি। আমাদের দেশে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার লোক প্রতি বছর এ চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

ছত্রাকজনিত যেসব চর্মরোগ আমাদের দেশে দেখা যায়, সেগুলোকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমনÑ ১. দাউদ, ২. ছুলি ও ৩. ক্যানডিডিয়াসিস। এ তিন ধরনের ছত্রাক প্রজাতির সবই মূলত ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে এবং সেই আক্রমণ স্যাঁতস্যাঁতে, নোংরা, ঘর্মাক্ত দেহে সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়।

দাউদ
দাউদ দেহের যে কোনো স্থানে দেখা দিতে পারে। যে স্থানে দেখা যায়, সেই স্থানটিতে গোলাকার চাকার মতো দাগ দেখা যায়। যার মধ্যখানের চামড়া প্রায় স্বাভাবিক আকারে দেখা গেলেও গোল দাগের পরিধিতে ছোট ছোট গোটা দেখা যায়। এ দাগের পরিধিতে উঁচু বর্ডার লাইন আকারে থাকে এবং চুলকালে সেখান থেকে কষ ঝরতে থাকে।
শরীরের যে কোনো স্থানে এর আক্রমণ ঘটতে পারে। তবে দেখা গেছে, তলপেট, পেট, কোমর, নিতম্ব, পিঠ, মাথা, কুঁচকি ইত্যাদি স্থান বেশি আক্রান্ত হয়। আক্রমণের স্থান লক্ষ্য করে একে স্থানভিত্তিক বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে। যেমনÑ মাথায় যখন ডার্মাটোফাইট জাতীয় ছত্রাকের আক্রমণ হয়, তখন তাকে বলা হয় টিনিয়া কেপিটিস।
ঠিক তেমনিভাবে যদি পায়ে হয় তখন বলা হয় টিনিয়া পেডিস ক্রুরিস, হাতে হলে বলা হয় টিনিয়া ম্যানাস, নখে হলে তাকে বলা হয় টিনিয়া আংগুয়াম, শরীরের অংশবিশেষ আক্রান্ত হলে বলা হয় টিনিয়া কর্পোরিস।
টিনিয়া ভারসিকলার বা ছুলি
এটিও একটি ছত্রাকজনিত রোগ। গরমকালে এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন অনেকে, শীতকালে আবার এমনিতেই যেন মিলিয়ে যায়। গরমের সময় গায়ের চামড়া যখন ভিজা থাকে, তখনই আবার দেখা দেয় এটি। হালকা, বাদামি, সাদা গোলাকৃতি দাগ দেখা যায়। বুকে, গলার দুই পাশে, ঘাড়ের পেছনে, পিঠে, বগলের নিচে, এমনকি সারা শরীরেও হতে পারে। এতে ত্বক দেখতে সাদা হয়। তাই অনেকেই আবার একে শ্বেতি রোগ ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শ্বেতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ক্যানডিডিয়াসিস
এটি একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। যাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমনÑ শিশু, বৃদ্ধ কিংবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, দীর্ঘদিন ধরে যারা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করছেন কিংবা যাদের ত্বকের খাঁজ পানিতে অথবা ঘামে সবসময় ভেজা থাকে, তাদেরই এ রোগটি বেশি হয়। যারা সবসময় পানি নাড়াচাড়া করেন, তাদের আঙুলের ফাঁকে, হাতের ভাঁজে, শিশুর জিহ্বায়, মহিলাদের যোনিপথে এবং গর্ভবতীরা এতে বেশি আক্রান্ত হন। ত্বকের আক্রান্ত স্থান একটু লালচে ধরনের দেখা যায় এবং সঙ্গে প্রচুর চুলকানি থাকে।

রোগ নির্ণয়
আক্রান্ত স্থানে চামড়া একটু ঘষে নিয়ে একটি গ্লাস সøাইডের ওপর রাখতে হবে। মাইক্রোস্কোপের নিচে এটা যে ফাংগাশ বা ছত্রাক তা খুব সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব।

চিকিৎসা
চিকিৎসা নির্ভর করে আক্রমণের স্থান ও তীব্রতার ওপর। ক্যানডিডিয়াসিসের ক্ষেত্রে কেটোকোনাজল ও ফ্লুকোনাজল ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়। ছুলির ক্ষেত্রে একই ওষুধ ব্যবহার করতে হয় এবং দাউদের ক্ষেত্রে গ্রাইসিফুলভিনসহ উপরে উল্লিখিত দুইটি ওষুধের যে কোনো একটি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ডা. দিদারুল আহসান
চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট ঢাকা। ০১৭১৫৬১৬২০০